2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার - রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২৬

2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার খুঁজছেন আপনি যদি রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২৬ খুজে থাকেন তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আপনি এই নিবন্ধনটির মাধ্যমে 2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এবং রমজানের একটি সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার দেখতে পারবেন।
2026-সালের-রমজানের-ক্যালেন্ডার
এখন রমজানের তারিখ দিন এবং রমজানের সংখ্যা সঠিকভাবে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। কারণ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার উপরে। তবে সম্ভাব্য কিছু তারিখ বা রমজানের ক্যালেন্ডার নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূচিপত্রঃ 2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার - রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২৬

ইভিভিটিভি

ভূমিকা

রমজান মাসের ইসলামী বর্ষপঞ্জির বা হিজরি ক্যালেন্ডার এবং এটি মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র সময়। এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং কুরআন তেলাওয়াত করে। রমজানের প্রকৃত তারিখ দেখার উপর নির্ধারিত হয়। রোজা শুরু  2026 সালের ১৮ মার্চ।

তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে দেখার উপায়। তবে নিচের রমজানের সময়সূচী এবং এর সাথে সম্পর্কিত নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা যারা আগে থেকেই জানতে চান 2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার সম্পর্কে তাদের জন্য এই নিবন্ধনটি।

২০২৬ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ

২০২৬ সালের রমজান শুরু হবে মার্চের প্রথম থেকে। আমি বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং গুগলের বিভিন্ন জনের প্রকাশিত আর্টিকেল দেখে এবং তাদের তথ্য অনুযায়ী 2026 সালের ১৮ মার্চ থেকে রোজা শুরু। তবে ১ই মার্চ নাকি ২ই মার্চ নাকি আরো দেরি হবে তা নির্ভর করবে চাঁদ কত তারিখে দেখা যাচ্ছে। ১৪৪৭ হিজরি ১৮ মার্চ থেকে রোজা শুরু হবে।

রমজান মাসের শুরু কেন নির্দিষ্ট নয়

আপনাদের মাঝে অনেকেই প্রশ্ন থাকতে পারে ২০২৬ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ তো বললেন কিন্তু রমজান মাসের শুরু কেন নির্দিষ্ট নয়? দেখুন ইসলামিক ক্যালেন্ডার চন্দ্র ক্যালেন্ডার এর উপর ভিত্তি করে, যেটি যাদের গতিপথের ভিত্তিতে গণনা করা হয়।

রমজান শুরু সম্ভাব্য তারিখ

রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হল ১৮ মার্চ ২০২৬।

2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার

২০২৫ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ নিস্নে উল্লেখ করা হলো।
রোজার সংখ্যা তারিখ (গ্রেগরিয়ান) দিন
১ম রোজা১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বৃহস্পতিবার
২য় রোজা২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শুক্রবার
৩য় রোজা২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শনিবার
৪র্থ রোজা২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬রবিবার
৫ম রোজা২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬সোমবার
৬ষ্ঠ রোজা২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬মঙ্গলবার
৭ম রোজা২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বুধবার
৮ম রোজা২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বৃহস্পতিবার
৯ম রোজা২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শুক্রবার
১০ম রোজা২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শনিবার
১১তম রোজা১ মার্চ ২০২৬রবিবার
১২তম রোজা২ মার্চ ২০২৬সোমবার
১৩তম রোজা৩ মার্চ ২০২৬মঙ্গলবার
১৪তম রোজা৪ মার্চ ২০২৬বুধবার
১৫তম রোজা৫ মার্চ ২০২৬বৃহস্পতিবার
১৬তম রোজা৬ মার্চ ২০২৬শুক্রবার
১৭তম রোজা৭ মার্চ ২০২৬শনিবার
১৮তম রোজা৮ মার্চ ২০২৬রবিবার
১৯তম রোজা৯ মার্চ ২০২৬সোমবার
২০তম রোজা১০ মার্চ ২০২৬মঙ্গলবার
২১তম রোজা১১ মার্চ ২০২৬বুধবার
২২তম রোজা১২ মার্চ ২০২৬বৃহস্পতিবার
২৩তম রোজা১৩ মার্চ ২০২৬শুক্রবার
২৪তম রোজা১৪ মার্চ ২০২৬শনিবার
২৫তম রোজা১৫ মার্চ ২০২৬রবিবার
২৬তম রোজা১৬ মার্চ ২০২৬সোমবার
২৭তম রোজা১৭ মার্চ ২০২৬মঙ্গলবার
২৮তম রোজা১৮ মার্চ ২০২৬বুধবার
২৯তম রোজা১৯ মার্চ ২০২৬বৃহস্পতিবার
৩০তম রোজা২০ মার্চ ২০২৬শুক্রবার
উল্লেখিত (তারিখগুলো চাঁদ দেখার ভিক্তিত পারিবর্তত হতে পারে)

২০২৬ সালের রমজানের বিশেষ দিন

তিন (৩) টি ২০২৬ সালের রমজানের বিশেষ দিন রয়েছে। এই তিনটিকে প্রথম দর্শক দ্বিতীয় দশক তৃতীয় দশক হিসেবে ভাগ করেছি। যার রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন এবং নাজাতের ১০ দিন। আপনি হয়তো এগুলোর বিষয়ে অনেকেই বিস্তারিত জানেন আমার অনেকেই জানেন। যারা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না তাদের জন্য নিম্নে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।

রহমতের ১০ দিন

রমজানের প্রথম দশটি হচ্ছে রহমতের দশক। এই সময়ে আল্লাহর অসীম দয়া ও রহমত বর্ষিত হয়। ইসলামে এটি অত্যন্ত পূর্ণময় একটি সময়, যেখানে আল্লাহ তার বান্দাদের পাপ ক্ষমা করেন এবং তাদের প্রতি তার অনুগ্রহের দরজা খুলে দেন। কিছু উপকারিতা রয়েছে যেমন প্রথম দশ দিনের রোজার জন্য বিশেষভাবে প্রশান্তি এবং হৃদয়ের পরিশুদ্ধি আসে।

এই সময়টিতে মুসলিমদেরকে অবশ্যই রোজা এবং বেশি দেওয়া এবং ইবাদত করা উচিত। এটি দেওয়ার জন্য একটি উৎকৃষ্ট সময়। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরির সময় বেশি বেশি করে দোয়া করতে হবে। এবং কেউ যদি এই সময় ভালো কাজ করে তাহলে আল্লাহর রহমতে মিলিত হয়। রোজাদারের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ বাড়ে।

মাগফিরাতের ১০ দিন

রমজানের দ্বিতীয় দশকটি হচ্ছে মাগফিরাতের দশক। এই সময় এই সময়টির মধ্যে আল্লাহ তার বান্দাদের ক্ষমা করেন এবং তাদের বাবা ক্ষমা। করে প্রথম রহমতের 10 দিনের যারা নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছেন,

তারা দ্বিতীয় দশকে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করার সুযোগ বেশি পাবেন। যারা নিজেদেরকে পাপী মনে করেন তাদের জন্য এডিট একটি অত্যন্ত ভালো সময়। এই সময় আল্লাহ তার মাগফিরাত (ক্ষমা) করে দেন।

এই সময় প্রত্যেকটি মুসলিমকে বেশি করে দোয়া ও ইবাদত। করতে হবে পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর মাগফিরাত লাভের জন্য অধিক ইবাদত করা উচিত।

নাজাতের ১০ দিন

রমজানের শেষ দশকটি হচ্ছে নাজাতের ১০ দিন। এটি হলো মুক্তি এবং পরিত্রাণের সময় যেখানে আল্লাহ তার বান্দাদের আগের সব পাপ থেকে মুক্তি দেন এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। এই সময়টিতে বেশি করে ইবাদত করা প্রয়োজন এবং তারাবি নামাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাতের মধ্যবর্তী সময় গুলোতে আল্লাহর কাছে তওবা এবং দোয়া করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

লাইলাতুল কদর শেষের এই দশকে লাইতুল কদর (দরের রাত্রি) রয়েছে, যা ১০ নাম্বার রাতের মধ্যে এক রাত্রি হতে পারে, যে রাতে আল্লাহর রহমত সবচেয়ে বেশি নেমে আসে। এবং রাতের সময়টিতে আল্লাহর কাছে বেশি করে দোয়া এবং ইবাদত করার মাধ্যমে মুক্তি অর্জন করা যায়।

রোজা রাখার নিয়ম

আমরা অনেকেই রয়েছেন যারা রোজা রাখার নিয়ম জানেন না। রোজা রাখার মূল বিষয় হলো সুবহে সাদিক (ফজরের সময়) থেকে সূর্যাস্ত (মাগরিবের সময়) পর্যন্ত নির্দিষ্ট কাছ থেকে বিরত থাকা। এই সময় বেশি করে কোরআন পাঠ করতে হবে।
রোজা-রাখার-নিয়ম
দোয়া করতে হবে ইবাদত করতে হবে। তবে রোজা রাখার যে নিয়মটি সেটি পানীয় থেকে বিরত থাকা নয় এবং খাদ্য থেকে বিরত থাকা নয় বা সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাকে মেনে চলতে হবে।

যেমনঃ রাখার সময় অবশ্যই আপনাকে খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকতে হবে। অবশ্যই ইফতারের আগে আপনি কখনো বিকেলে খাবার পানীয় গ্রহণ করবেন না। রোজা রাখার সময় আপনি কখনও মিথ্যা কথা বলবেন না গালাগালি করবেন না অশ্লীল কথা বলবেন না।

মোবাইলে অন্য কোন ভিডিও দেখবেন না। অশ্লীল কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। ঝগড়াঝাঁটি বন্ধ করবেন মারামারি করবেন না। কারো সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। এবং কখনো মিথ্যা সাক্ষ্য দিবেন না। বা কাউকে অপমান করা যাবে না। কারো বিষয়ে খারাপ কিছু চিন্তাভাবনাও করা যাবে না।

রোজা রাখার সময় আপনাকে সাহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত সময় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। তবে যদি রোজা ভেঙ্গে যায় তাহলে তা পরবর্তীতে পূর্ণ করতে হবে (কাফফারা)।

আপনার উচিত রোজা রাখার আগে নিয়ত করা। আপনি যখন সেহরি খাবেন তখন থেকে অথবা তার আগে থেকে করবেন আপনি মনে মনে ঠিক করে নিবেন যে আপনি আল্লাহর জন্য রোজা রাখছেন। আপনি এমনটা করতে পারেন “আমি আল্লাহর জন্য আগামী দিনের রোজা রাখছি।”

FAQ

আপনাদের মনে অনেকের অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে এই কারণে FAQ টি তৈরি করেছি যাতে করে আপনারা জানতে চেতে পারেন এবং সেই উত্তর পেয়ে যান। তবে এখানে যদি আপনার জানার মতন কোন প্রশ্ন না থাকে তাহলেও মন্তব্য করবেন আমরা আপনার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব।

রমজান মাসের রোজার সময়সূচী কোথায় পাবো

রমজান মাসের সময়সূচী আপনি বিভিন্ন স্থানীয় মুহূর্তের অথবা ইসলামিক ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আপনি চাইলে আমাদের ইভিভিটিভি ওয়েবসাইট থেকে পেয়ে যেতে পারেন।

রমজান মাসে রোজার নিয়ত কিভাবে করবেন

সাধারণত রোজার নিয়ত মনে মনে করতে হয়। সেহরি খাওয়ার সময় এবং সাহরি খাওয়ার আগেও আপনি বলুন মনে মনে যে ”আমি আল্লাহর জন্য আগামী দিনে রোজা রাখছি।”

ইফতারের দোয়া কি

ইফতারের দোয়া হল:
” আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফাতারতু।”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রাখছি এবং তোমার দেওয়া রিজিকে ইফতার করছি।”

রমজানে কি খাবার খাওয়া উচিত

সাহরি ও ইফতারের হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যেমন খেজুর ফলমূল দ্রুত শাকসবজি এবং প্রোটিনের যুক্ত খাবার। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। আপনি দুধ শাকসবজি এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে পারেন।

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কবে

রমজান মাস ২৮ দিন অথবা ৩০ দিনে হতে পারে অথবা আরো কম হতে পারে। ঈদুল ফিতর ১৯ শে মার্চ বৃহস্পতিবার অথবা ২০ শে মার্চ ২০২৬ শুক্রবার ঈদুল ফিতর হতে পারে। তবে এটিই সম্ভাব্য তারিখ।

লেখক এর মন্তব্য

2026 সালের রমজানের ক্যালেন্ডার বা রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২৬ সম্পর্কে আপনি জেনে গেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে গেছেন এই নিবন্ধনটি যদি আপনি ভালো করে পড়ে থাকেন। এই বিষয়ে যদি আপনি আরও অন্য কোন তথ্য জানতে চান তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানিয়ে দিবেন।

অথবা এই বিষয় যদি আপনার কোন মতামত থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানিয়ে দেবেন আমরা প্রত্যেকের কমেন্টের রিভিউ করি। নিবন্ধনটি আপনার ভালো লেগে থাকলে আপনার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিবন্ধনটি শেয়ার করুন যাতে করে তারা উপকৃত হতে পারে। আমাদের সঙ্গে এতক্ষণ থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url