সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল বিস্তারিত
সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক শিক্ষার্থী এটি করতে পারেন না। সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময় আপনি যদি নিয়ম অনুসরণ করেন লিখেন তাহলে আপনি খুব সহজেই একটি সারমর্ম বা সারাংশ করতে পারবেন এবং পরীক্ষার খাতায় সর্বোচ্চ মার্ক নিশ্চিত করতে পারবেন।
আপনি যে শ্রেণীর শিক্ষার্ত হন না কেন আপনি যদি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল গুলো জানা দরকার।
TOC
ভূমিকা
সারাংশ বা সারমর্ম শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্টের অর্জন করা নয় বরঞ্চ শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বিষয়ের গভীর উপলব্ধি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কোন একটি বড় গল্প বা গদ্য সেখান থেকে মূলভাবটি বুঝিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারের বা অল্প পরিসরে উপস্থাপন করা সারমর্ম বা সারাংশ মূল উদ্দেশ্য।
আর আপনি যদি এই দক্ষতাটি অর্জন করতে চান তাহলে আপনাকে জানতে হবে সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল। নিচের নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে একটি সহজে আপনি সুন্দর একটি সারাংশ বা সারমর্ম তৈরি করতে পারবেন। আর একবার আপনি এটি শিখে গেলেই এখান থেকে আপনি সর্বোচ্চ মার্ক নিশ্চিত করতে পারবেন পরীক্ষায় খাতায়।
সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল
সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল গুলো আপনাদের সকলের জেনে রাখা প্রয়োজন। কারন সহ বা সারমর্মক রচনার যে কতিপয় কৌশল গুলো রয়েছে সেগুলো নিচে দেওয়া হল।
প্রথমত প্রদত্ত অংশটি কয়েকবার পড়ে নিতে হবে: আপনাকে যে অংশটুকু থেকে সারাংশ বা সারমর্ম লিখতে বলা হবে আপনি সেই অংশটি ভালোভাবে কয়েকবার পড়ে নিবেন। অবশ্যই আপনি মনোযোগ দিয়ে সেই অংশটুকু পড়বেন। শুধু প্রদত্ত অংশটুকু পড়লেই হবে না আপনাকে বুঝে শুনে পড়তে হবে। এই অংশটুকুর মধ্যে কি বলতে চেয়েছে সেই বিষয়টুকু আপনাকে সেখান থেকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
পড়ে পড়ে বক্তব্য বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে: সেখানে যে বিষয়টি দেওয়া থাকবে সে বিষয়টি আপনাকে ভালোভাবে পড়তে হবে এবং সেই বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে সেখানে কি বলতে চেয়েছে সেটা আপনাকে বুঝে নিতে হবে। অনেক সময় সেগুলোতে অনেক কঠিন শব্দ দেওয়া থাকে আপনাকে সে সকল কঠিন শব্দের অর্থ জানতে হবে।
তবেই আপনি সুন্দর একটি সারাংশ বা সারমর্ম লিখতে পারবেন। কোন শব্দের অর্থ না জানলে তারপরেও আপনাকে সেই গল্পের বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে আপনাকে বিষয়টি বুঝতে হবে সেখানে কি বলতে চেয়েছেন।
অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ দিন: অপেক্ষাকৃত অপ্রয়োজনীয় ও অপপ্রধান অংশগুলো বাধা দিয়ে প্রয়োজনীয় অংশগুলোকে চিহ্নিত করে নিতে হবে। আপনি যখন সেই মূল বক্তব্যটি পড়বেন বা প্রদত্ত অংশটি পড়বেন তখন অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো সেখান থেকে বাদ দিবেন।
যে অংশগুলো প্রধান নয় বা যে অংশগুলো সেখানে অপ্রয়োজনীয় সে অংশগুলো সেখান থেকে বাদ দিয়ে দিবেন। এক কথায় বলতে গেলে সেখানে অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বা অপ্রধান অংশগুলো চিহ্নিত করুন।
মূল বক্তব্যটি উল্লেখ করে লিখুন: একটি সহজ বাক্যে মূল বক্তব্যটি উল্লেখ করে লেখা আরম্ভ করতে হবে। এর মানে হলো আপনি যখন কোন সারাংশ বা সারমর্ম লিখবেন তখন সেই প্রধান বক্তব্য গুলো কি বলতে চেয়েছে বা সে প্রদত্ত অংশের মধ্যে কি বলতে চেয়েছে সেটি ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেখানে যেই মূল কথাটি বোঝাতে চেয়েছে সেই মূল কথাটি দিয়ে আপনি সারাংশ বা সারমর্ম লেখা শুরু করবেন। তবে সহজ ভাষায়।
সংক্ষিপ্ত করতে হবে: মূল বা প্রদত্ত অংশে প্রত্যক্ষ অতি থাকলে তাকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করে সংক্ষিপ্ত করতে হবে। ধরুন সেই প্রদত্ত অংশের কারও বক্তব্য থাকে বা কেউ কোন কিছু একটা বলছে। তাহলে সেটিকে হুবহু না লিখে আপনার মতন করে সংক্ষিপ্ত আকারে আপনি লিখবেন।
উদ্বৃতিচিন্হ ব্যবহার করবেন না: সারমর্মে মেয়ে বা সারাংশে কখনো উদ্বৃতিচিন্হ চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না। এখানে উদ্বৃতিচিন্হ যেমন “ ” বা ‘ ’এই চিহ্নগুলো আপনি কখনোই সারাংশে অথবা সারমর্মে ব্যবহার করবেন না। এই চিহ্ন গুলি সাধারণত প্রদত্ত অংশেই দেওয়া থাকে যখন কেউ বক্তব্য প্রদান করে তখন এই চিহ্নি গুলো ব্যবহার করা হয়। এজন্য আপনি যখন সারমর্ম অথবা সারাংশ লিখবেন তখন এই উদ্বৃতিচিন্হ ব্যবহার করবেন না।
মূল বিষয়টি সাজাতে হবে: বিশেষণ, ক্রিয়াপদ, রূপক, উপমা,অলম্কারাদি বাদ দিয়ে মূল বিষয়টি সাজাতে হবে। আপনি যখন কোন সারমর্ম বা সারাংশ লিখবেন তখন অবশ্যই বিশেষণ ক্রিয়াপদ রূপক উপমা অলম্কারাদি দিয়ে মূল বিষয়টি সাজাবেন। সারাংশে বা সারমর্মে প্রদত্ত অংশে যেই কথাগুলো থাকবে শুধুমাত্র সেই কথাগুলোই আপনাকে সাজিয়ে লিখতে হবে।
যেমন প্রদত্ত অংশে একটি কথা বলা হয়েছে কিন্তু সে কথাটির পেরিপেক্ষিতে আপনি অন্যান্য উদাহরণে যুক্ত করলেন। এক্ষেত্রে কিন্তু আপনার সঠিক নিয়মে সারাংশ বা সারমর্ম লেখা হবে না। এই কারণে আপনাকে মূল বিষয়টি সাজাতে হবে।
আরো পড়ুন: মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট
ব্যবহৃত ভাষা, সাবলীল ও সৌন্দর্য-সৌকর্যমন্ডিত হওয়া: ব্যবহৃত ভাষা যথাসম্ভব বিষয়োচিত হতে হবে। মূল ভাবির সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় ভাষা যথাসম্ভব সরল, প্রাঞ্চল, সাবলীল ও সৌন্দর্য-সৌকর্যমন্ডিত হওয়া আবশ্যক।
একই কথার পুনরাবৃত্তি বর্জনীয়: আপনি যখন সারমর্ম বা সারাংশ লিখবেন তখন আপনি কখনোই একই কথা বারবার লিখবেন না। যদি আপনি কোন একটি লাইন লিখেন সেই লাইনটি আবার পুনরায় সেখানে লেখার চেষ্টা করবেন না।
একটি অনুচ্ছেদে লিখুন: সারমর্ম বা সারাংশ একটি অনুচ্ছেদে লিখিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সংক্ষেপে মূলভাব প্রকাশ: সারমর্ম বা সারাংশ কত বড় হবে বা ছোট হবে তা নির্ভর করে প্রদত্ত অংশে বর্ণিত বিষয়ের গুরুত্ব ও গভীরতার উপর। তবে যত সংক্ষেপে মূলভাব প্রকাশ করা যায় ততই শ্রেয়।
সর্বোপরি সারমর্ম বা সারাংশ টি লেখা শেষ হলে কয়েকবার পড়ে দেখতে হবে তা যথোপযুক্ত হয়েছে কিনা, অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়লো কিনা। ভালোভাবে সারমর্ম বা সারাংশ লেখার জন্য দরকার ব্যাপক অনুশীলন। আর এজন্য প্রস্তুতিপর্বে নানা ধরনের অনুচ্ছেদের সারমর্ম বা সার কথা লিখে লিখে প্র্যাকটিস বা অনুশীলন করার কোন বিকল্প নেই।
সারমর্ম বা সারাংশ লিখন কি?
সার-সংক্ষেপে বা সারমর্ম বা সারাংশ এর আভিধানিক বা বুৎপত্তিগত অর্থ হলো- গূঢ়, মজ্জা, শ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্ট, প্রকৃত, মূল্যবান, সারগর্ভ, মূলভাব, মূল তাৎপর্য ইত্যাদি। বস্তুত কোন বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যম থেকে ব্যাখ্যামূলক কথাগুলো বাদ দিয়ে ‘সার’ বামুল কথাটি সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম বা সারাংশ লিখন। ইংরেজিতে এর প্রতিশব্দ হিসেবে তিনটি শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যথা: সামারি, (সার-সংক্ষেপ), সাব সেনটেন্স (সারাংশ), এবং প্রিমিম (মার্মার্থ)।
আরো পড়ুন: সাইবার অপরাধ রচনা
কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সারাংশ
- যত বড় কঠিন কাজই হোক না কেন, অনুকূল পরিবেশে ও উপযুক্ত সময়ে তাহা করিবার জন্য অগ্রসর হইলে সেই কঠিন কাজই অতি সহজে সম্পাদিত হয়। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশে ও অসময়ে তাহা শত চেষ্টাতেও সম্পন্ন করা যায় না। বিজ্ঞানের জগতে স্বীকৃত এ সত্যটি মনোজগতেও সমভাবে প্রকটিত। মানুষের মন জিনিসটি বড়ই রহস্যময়, সন্দেহ নাই। বাহির হইতে শক্তি প্রয়োগ করিয়া এ মনকে আয়ত্তের মধ্যে আনা যায় না। মনেরও আছে গতি এবং সেই গতিও বহু বিচিত্ররূপে প্রসারিত। ইহা না বুঝিয়া যত শক্তিই প্রয়োগ করা হোক না কেন, কোনো ফলই হয় না। ভয় দেখাইয়া বা প্রলুব্ধ করিয়া যে মানব মনকে আকর্ষণ করা যায় না, তাহাকেই হয়তো বা আকর্ষণ করা যায় সহৃদয় অন্তরের দরদ ভরা স্পর্শ লাগাইয়া। সদম্ভ শক্তি প্রাচুর্যের দ্বারা মানব চিত্ত জয় করা যায় না, বরং মানব সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা, স্থির বুদ্ধি ও বিবেচনা শক্তিকে লইয়া আগুয়ান হইলে দৃঢ়সংকল্প মানব মনকে বশীভূত করা যায়।
সারাংশ: ভয়ভীতি ও বাহুবলে মানব মনকে জয় করা যায় না, বরং দরদমাখা স্নেহাস্পর্শ দিয়ে সম্ভব হয়। আর কোন কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সম্ভ্রয়োপযোগী উদ্যোগ, উপযুক্ত পরিবেশ আর পারস্পরিক সহযোগিতা। - যাহারা স্বয়ং চেষ্টা করেন আল্লাহ তাহাদের সহায় হন। পৃথিবীতে যাহারা বড়লোক হইয়াছেন তাহাদের প্রত্যেকের জীবনী পাঠ করিলে আমরা এ শিক্ষাই পাইয়া থাকি। বিদ্যাই হউক আর ধনই হউক, পরিশ্রম না করিলে কেহ তাহা লাভ করিতে পারে না। এক রাজপুত্র এক পণ্ডিতকে বলিয়াছিলেন, "মহাশয়! সাধারণ লোক পরিশ্রম করিয়া বিদ্যা লাভ করিয়া থাকে। আমি রাজপুত্র, পরিশ্রমে অভ্যস্ত নহি। আমার জন্য কি বিদ্যা অর্জনের সহজ পথ করিয়া দিতে পারেন না?" পণ্ডিত বলিলেন, "রাজা বা রাজপুত্রের জন্য বিদ্যাশিক্ষার স্বতন্ত্র উপায় নাই।" অনেক বালক আছে যাহারা কোন শিক্ষক মহোদয়ের সাহায্যের উপর নির্ভর করিয়া থাকে। অভিধান খুলিয়া কষ্ট স্বীকার না করিয়া পুস্তকের সাহায্যে অর্থ গ্রহণ করে এরূপ লোক জগতে কখনো উন্নতি লাভ করিতে পারে না।
সারাংশ: সাধনাই সাফল্য লাভের সর্বোত্তম পন্থা। পরিশ্রমীদের আল্লাহতাআলা সাহায্য করেন। পরশ্রমজীবী মানুষের দ্বারা উন্নতি সম্ভব নয়। ধনার্জন বা জ্ঞানার্জন কোনটাই পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব নয়। আর পরনির্ভরশীলতা উন্নতির অন্তরায়। - তুমি যদি অতুল ঐশ্বর্যের অধিপতি হও, সিংহাসনে বসিয়া অনেকের উপর প্রভুত্ব কর, লোকে তোমাকে 'মহারাজ চক্রবর্তী' বড় মানুষ বলিয়া মহাসম্ভ্রমে সম্বোধন করিবে। কিন্তু তুমি যদি আসল মানুষ না হও, তবে মানুষ তোমায় কখনই মানুষ বলিবে না। ধনে কি মানুষ বড় হয়? ধনের মানুষ কখনই মনের বড় মানুষ নহে, ধনের মানুষ মানুষ নহে, মনের মানুষই মানুষ। আমি ধন দেখিয়া তোমাকে সমাদর করিব না, জন দেখিয়া তোমাকে আদর করিব না, সিংহাসন দেখিয়া তোমায় সম্মান করিব না, বাহুল্যের জন্য তোমায় সম্মান করিব না, কেবল মন দেখিয়া তোমায় পূজা করিব।
সারাংশ: ক্ষমতা বা সম্পদ প্রকৃতপক্ষে মর্যাদার মাপকাঠি নয়। মনুষ্যত্ব যার মধ্যে আছে সে প্রকৃত মানুষ, প্রকৃত মর্যাদাবান। এ গুণের কারণেই জগতে সে পূজনীয় হয়ে থাকে। - যতটুকু আবশ্যক কেবল তাহারই মধ্যে কারারুদ্ধ হইয়া থাকা মানবজীবনের ধর্ম নহে। আমরা কিয়ৎ পরিমাণে আবশ্যক শৃঙ্খলে বদ্ধ হইয়া থাকি এবং কিয়ৎ পরিমাণ স্বাধীন। আমাদের দেহ সাড়ে তিন হাতের মধ্যে বন্ধ কিন্তু তাই বলিয়া ঠিক সেই সাড়ে তিন হাত পরিমাণ গৃহনির্মাণ করিলে চলে না। স্বাধীন চলাফেরার জন্য অনেকখানি স্থান থাকা আবশ্যক; নতুবা আমাদের স্বাস্থ্য ও আনন্দের ব্যাঘাত হয়। শিক্ষা সম্বন্ধেও একথা খাটে। অর্থাৎ যতটুকু কেবলমাত্র শিক্ষা আবশ্যক- তাহারই মধ্যে ছাত্রদিগকে একান্ত নিবদ্ধ রাখিলে কখনই তাহাদের মন যথেষ্ট পরিমাণে বাড়িতে পারে না। অত্যাবশ্যক শিক্ষার সাথে স্বাধীন পাঠ না মিশাইলে ছেলেরা ভালো করিয়া হইতে পারে না, বয়ঃপ্রাপ্ত হইলেও বুদ্ধিবৃত্তি সম্বন্ধে সে অনেকটা পরিমাণে বালকই থাকিয়া যায়।
আরো পড়ুন: অ-তৎসম শব্দে বাংলা বানানের নিয়মসমূহ কী কী
সারাংশ: প্রয়োজনই উদ্ভাবনের পূর্বশর্ত। কিন্তু তাই বলে উদ্দেশ্যকে আবশ্যিক গণ্ডির মধ্যে সংকুচিত রাখা মূর্খতার কাজ। জীবনের মতো পাঠেও কেবল আবশ্যিক বিষয়ের সংযুক্তি ছাত্রছাত্রীদের চিন্তাচেতনাকে সংকুচিত করে রাখে। অথচ স্বাধীনভাবে পাঠাভ্যাস করলেই তাদের বুদ্ধিবৃত্তির পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। - যে জাতির লক্ষ্য 'সত্য' নহে, সেই জাতির কোন সাধনাই সফল হবে না। 'সত্যবর্জিত' জাতির জীবন অন্ধকার জাতির উন্নতির জন্য তারা বৃথাই শরীরের রক্তপাত করে। সত্যই শক্তি ও সকল কল্যাণের মূল। এতে মানুষের সর্বপ্রকার দুঃখের মীমাংসা হয়। সত্যকে ত্যাগ করে কোন জাতি কোনদিন বড় হয় নি, হবে না। মানবজীবনের লক্ষ্যই সত্য। এটাই শাস্তি ও ঐক্যের পথ। স্নত্যের অভাব বিরোধ ও দুঃখ সৃষ্টি করে। মানুষে মানুষে, বন্ধুতে বন্ধুতে, আত্মীয়ে আত্মীয়ে পরস্পর মতান্তর উপস্থিত হয়। সত্য বর্জন করে তোমরা কোন কাজ করতে যেও না। এর ফল পরাজয়। কথায় কথায় মিথ্যাচারণ, বাক্যের মূলকে অশ্রদ্ধ করা-এসব সত্যনিষ্ঠ জাতির লক্ষণ নয়। স্বাধীন হওয়ার জন্য বা স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধহীন জাতি যতই চেষ্টা করুক, তাদের আবেদন নিবেদন আল্লাহতায়ালার কাছে পৌঁছবে না। তাদের স্বাধীনতার মন্দির-দ্বার থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হবে।
সারাংশ: মানবজীবনে সত্য এক অক্ষয় শক্তি। এ শক্তির দ্বারা শান্তি ও ঐক্য সংরক্ষিত হয়। এ শক্তির দ্বারাই জাতীর জীবনে উন্নতি সাধিত হয়। অপরদিকে, সত্য বর্জনে সকল অকল্যাণের আগমন ঘটে, স্বাধীনতার পরাভব ঘটে।
লেখকের মন্তব্য
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা শিখতে পেরেছেন সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল গুলো। এবং সারমর্ম বা সারাংশ লিখন কি? সারমর্ম বা সারাংশে রচনার মূল কথাটি সংহত, সংযত ও যথাযথ রূপ লাভ করে। সারমর্মের আকৃতি কত নিয়ম কানুন অপেক্ষা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় মূলভাবটি সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থিত হয়েছে কিনা তার উপর।
তবে আপনি যদি সারাংশ বা সারমর্ম রচনা কতিপয় কৌশল গুলো সম্পর্কে কথা বুঝতে না পারেন তাহলে নিচে মন্তব্য বাটনে ক্লিক করে আপনি আপনার সমস্যার কথা অথবা আমাদেরকে যা জানাতে চান তা জানাতে পারেন আপনার মূল্যবান মতামতি সেখানে দিতে পারেন। আমরা প্রত্যেকের কমেন্ট দেখি এই কারণে আপনি এখানে নিচে মন্তব্য করুন অপশনে ক্লিক করে আপনার মূল্যবান মতামতি জানাবেন।



ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url