পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার - ফেলে আসা দিনগুলো প্রবন্ধ রচনা

নবম এবং দশম শ্রেণির পরীক্ষার জন্য পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার এবং ফেলে আসা দিনগুলো প্রবন্ধ রচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখানে সহজভাবে যতটুকু লেখার প্রয়োজন যতটুকু লিখলে পরীক্ষার খাতায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেতে পারেন ততটুকু আজকে আমরা সহজ ভাবে তুলে ফেলেছি। আপনাদের যাদের বই নেই তাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছেন।
পরিবেশ-দূষণ-ও-তার-প্রতিকার
আপনি যদি বই না থাকে আর আপনি যদি সবসময়ই এই রচনাটি পড়তে চান তাহলে আর্টিকেলটি পড়ুন আর শেয়ার করুন আপনার বন্ধুর সাথে।
সূচিপত্র

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

পরিবেশ-দূষণ-ও-তার-প্রতিকার
প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনাদের দেখেছি এই প্রশ্নটি গত পরীক্ষায় অনেকবার এসেছে। পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার পয়েন্ট আকারে নিচে তুলে ধরেছি এতে আপনি ভালোভাবে পড়তে পারবেন। আর পরীক্ষার খাতায় পরিষ্কারভাবে লিখে সর্বোচ্চ নাম্বার পেতে পারেন। তাহলে চলুন আমরা বেশি দেরি না করে শুরু করি।
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
বা পরিবেশ দূষণের পরিণাম

ভূমিকা

পৃথিবী নামক গ্রহটিকে যে আলো-বাতাস-পানি-গাছপালা ঘিরে রয়েছে তাই তার প্রকৃতি। এ প্রকৃতির সবচেয়ে সুবিধাভোগী হলো মানুষ। বলা হয়ে থাকে, মানুষ পরিবেশের সৃষ্টি। মানুষ তার প্রতিভা, পরিশ্রম আর দক্ষতা দিয়ে আবিষ্কার করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন অনুষঙ্গ।

অধিগত করেছে জীবন-বিকাশের নানা উপকরণ। তাই দিয়ে সে তার নিজের প্রয়োজন ও রুচি অনুযায়ী তৈরি করেছে তার পরিবেশ। এ পরিবেশের মধ্যেই তার বিকাশ, তার বিনাশের ইঙ্গিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিজয়গৌরবে মোহান্দ্র মানুষ পৃথিবীর পরিবেশকে বিষাক্ত করেছে।

চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে ক্ষতিকর সব আবর্জনা। তার ফল হয়েছে বিষময়। পরিবেশ দূষিত হয়েছে। আর দূষিত পরিবেশ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করছে। তাই গোটা জীবজগতের অস্তিত্বই আজ বিপন্ন।

পরিবেশ দূষণের কারণ

জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ- জল-মাটি-বায়ুর ওপর পড়েছে প্রচণ্ড চাহিদার চাপ। শুরু হয়েছে বনসম্পদ বিনষ্টের অমিত উল্লাস। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উদ্ভিদজগৎ ও প্রাণিজগৎ। অক্সিজেনের প্রধান উৎস গাছপালা।

যে জায়গায় গাছপালা নেই, সে জায়গায় জনপ্রাণীও নেই। বর্তমানে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য এসে পৌঁছেছে এক সংকটজনক অবস্থায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান হারে শক্তি উৎপাদনের চাহিদা।

শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে নির্গত হয় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ-দূষক নানা উপজাত দ্রব্য। এতে বায়ু, জল, খাদ্যদ্রব্য মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এসব উপজাত দ্রব্যই নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যাধির দ্রুত প্রসারণের কারণ।

পরিবেশ দূষণের শ্রেণি

আমাদের পরিবেশ দূষণকারী অপদ্রব্যগুলো মোটামুটি দু ভাগে বিভক্ত। ১. প্রাকৃতিক ও ২. কৃত্রিম। প্রাকৃতিক দূষণের মধ্যে রয়েছে সীসা, পারদ, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি। এর মধ্যে কতগুলো আবার আমাদের মল-মূত্র ও শরীরের পচন থেকে উৎপন্ন। তার ওপর আছে কৃত্রিম-দূষকের সমস্যা।

কৃত্রিম-দূষকের অন্তর্গত হলো নানা কীটনাশক, গুঁড়ো সাবান, ওষুধপত্র ও প্রসাধন সামগ্রী, এমনকী প্লাস্টিকও। এসব যৌগের কয়েকটি আমাদের পরিবেশে বহুদিন ধরে টিকে থাকে। রোদ, জল, বাতাস, জীবাণু এদের কোনো ক্ষতিই করতে পারে না। এ ধরনের যৌগ নিয়েই পরিবেশ-বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তা বেশি। কেননা কিছুদিন আগেও পৃথিবীর বুকে এ ধরনের যৌগের অস্তিত্ব ছিল না।

বায়ু দূষণ ও নানা প্রতিক্রিয়া

দূষণের প্রকৃতি ও পদ্ধতির মধ্যেও রয়েছে বিভিন্নতা। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম সম্ভার হলো বায়ু। সেই বায়ু দূষণ আজ সারা বিশ্বজুড়ে। মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষেও এ এক গুরুতর সমস্যা।

ঝুল জাতীয় কার্বন কণা থেকে শুরু করে ভারী ধাতু, জটিল জৈব যৌগ নিউক্লীয় আবর্জনা, জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থাৎ তেল, কয়লা ইত্যাদি পুড়িয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া ক্লোরোফ্লুরোমিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, রাসায়নিক ধোঁয়া ইত্যাদি সবই হলো বায়ু দূষণকারী দ্রব্য। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ত বাড়ছে।

এর ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। অকাল-বর্ষণ, খরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, কুয়াশা এরই ফলশ্রুতি। এরকম আবহাওয়ায় চাষ-বাস হয় অনিশ্চিত। কুয়াশা আর তেল, কয়লা দহনের ফলে নির্গত গ্যাসের মিশ্রণে ধোঁয়াশার সৃষ্টি।

এর ক্ষতিকারক ক্ষমতা মারাত্মক। মাথাধরা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস, ফুসফুস-ক্যান্সার এ জাতীয় দূষণের ফল। বিভিন্ন যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এসে তৈরি করে আলোক রাসায়নিক ধোঁয়া। অক্সাইড ও হাইড্রো কার্বনের বিক্রিয়ায় আরও কিছু বায়ু দূষকের সৃষ্টি হয়।

ওজোন গ্যাস ও পারক্সি-অ্যাসিটালনাইট্রেট তাদের মধ্যে অন্যতম। এতে তরিতরকারি ও শস্যের ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক। এ ছাড়া আরও এক ধরনের বায়ুদূষক আবহাওয়ায় ছড়িয়ে থাকে। ওগুলো হলো বাতাসে ভেসে বেড়ানো জীবাণু। অ্যালার্জিজনিত রোগে ওইসব জীবাণুর ভূমিকা অনেক।

পানি দূষণ

পানি দূষণ আধুনিক সভ্যতার আর এক অভিশাপ। পৃথিবীর সমুদ্র, নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিল ইত্যাদির পানি নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। ভারী ধাতু, হ্যালোজেন নিষিক্ত হাইড্রোকার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, পেট্রোলিয়াম, কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় পদার্থ, সর্বোপরি সংলগ্ন শহরের নির্গমনালী বেয়ে আসা দূষিত তরল আবর্জনা- এগুলোই পানি দূষণের প্রধান উপকরণ।

তা ছাড়া পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তনেও সমুদ্রের দূষণ হচ্ছে। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ঘন বসতিপূর্ণ জনপদ, শহর। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক চটকল, কাপড় কল, কয়লা ধোলাই কল, চিনি কল, কাগজের কল, ভেষজ তেল তৈরির কারখানা, চামড়া পাকা করার কারখানা ইত্যাদি।

এসব কল-কারখানার আবর্জনা প্রতিনিয়ত নদ-নদীকে দ-নদীকে দূষিত করছে। পুকুর, খাল-বিল দূষণের জন্যে নালা-নর্দমা, ঘর-বাড়ির আবর্জনা ইত্যাদি দায়ী। এর থেকেই দূষিত হয় মাটি, দূষিত হয় পানীয়জল। সমুদ্র, নদী, খাল-বিল, পুকুরের মাছেও নানারূপ দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে।

বিস্তার লাভ করছে নানারকমের সংক্রামক রোগ। মাঝে মাঝে তা মহামারির আকার ধারণ করে। মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কত জীবন। এমনি করেই দিনের পর দিন জনস্বাস্থ্য বিনষ্ট হচ্ছে।

শব্দ দূষণ

শব্দ দূষণ এ যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শহরে শব্দ দূষণের মাত্রা সর্বাধিক। প্রতিনিয়তই এখানে মোটর গাড়ির হর্ন, কল-কারখানার বিকট আওয়াজ, বাজি-পটকার শব্দ, রেডিও-টেলিভিশনের শব্দ, লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি, উৎসবের মত্ততা, মাইকে চড়া সুর, সব মিলে-মিশে অপম্বর সৃষ্টির এক মহাযজ্ঞ চলছে।

শব্দ দূষণের পরিণাম ভয়াবহ। এর ফলে মানুষের শ্রবণ-ক্ষমতার বিলোপ ঘটে। মানসিক বিপর্যয় দেখা যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। অনিদ্রা রোগের উদ্ভব হয়। হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি ও স্নায়বিক অস্থিরতাও শব্দ দূষণের পরিণাম। শব্দের ২০ থেকে ৪০ ডেসিবেল পর্যন্ত মাত্রা হলো স্বাভাবিক। ঢাকায় এখন শব্দের পরিমাণ ৬০ থেকে ৬৫ ডেসিবেল, কোথাও কোথাও ৮০ ডেসিবেল।

তেজস্ক্রিয় দূষণ

আয়নকারী বিকিরণ শক্তির এক ক্ষমতাশালী উৎস। সায়ানাইড বা অন্যান্য বিকারকের তুলনায় এর তাপশক্তি দশ কোটি গুণ তীব্র। পারমাণবিক যুদ্ধ, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে তেজস্ক্রিয় দূষণের বিপদ সবচেয়ে বেশি নিহিত। ১৯৬৩-তে একটি মার্কিন নিউক্লীয় সাবমেরিন আটলাস্টিক সাগরে হারিয়ে যায়। তা থেকে প্রচুর পরিমাণে তৈজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে।

নিউক্লীয় জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রের আবর্জনা তার ক্ষতিকারক ক্ষমতা নিয়ে ৬০০ বছর টিকে থাকতে পারে। প্লুটোনিয়ামের অর্ধ আয়ু ২৪,৩৬০ বছর এবং তার ক্ষতি করার ক্ষমতা ওই অর্ধ আয়ুর কয়েক গুণ সময় পর্যন্ত বজায় থাকে।

দূষণের প্রতিকার

দূষণের ভয়াবহ পরিণামের কথা ভেবে বিশ্বের সভ্যমানুষ আজ আতঙ্কিত। কী উপায়ে এ ভয়ংকর সমস্যার মোকাবেলা সম্ভব তা নিয়ে ভাবনা, পরিকল্পনার শেষ নেই। বায়ু দূষণের প্রতিকারের জন্যে গ্রহণ করা হয়েছে কল-কারখানার দহন-প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্গত দূষকের পরিমাণ কমানোর ব্যবস্থা।

নির্দিষ্ট এলাকায় যাতে দূষণের প্রভাব ঘনীভূত না হয় তার জন্যে দূষকগুলোকে আরও বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, দহনে উৎপন্ন গ্যাসে অতিরিক্ত কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেওয়ার, যাতে নির্গত হওয়ার আগেই কোনো কোনো দূষক অপসারিত হতে পারে।

তাছাড়া গ্রহণ করা হয়েছে বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা। দূষণ-প্রতিরোধী উদ্ভিদের সংখ্যা বাড়ানো খুবই জরুরি। সমুদ্র দূষণের প্রতিকারের জন্যে প্রয়োজন বিভিন্ন উপদ্বীপ ও উপকূল অঞ্চলে সমুদ্র দূষণের পরিমাণ নিয়মিত পরিমাপ করা, প্রয়োজন সেসব এলাকায় দূষণ-বিরোধী বিধি-নিষেধ কার্যকর করা।

দূষিত পানিকে পনিযোগ্য করে তুলতে হলে উপযুক্ত পরিস্রাবণ দরকার। শব্দ দূষণের কুপ্রভাব কমানোর প্রধান উপায় হলো, কানে তুলো ব্যবহার কিংবা শব্দ-বিরোধী কক্ষের ব্যবহার।

প্রযুক্তিবিদ্যার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে এমন কতকগুলো পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়েছে, যাতে পরমাণু চুল্লীর আবর্জনা-নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে হয়তো নিউক্লীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপজাত দ্রব্যে কোনো তেজস্ক্রিয়তা থাকবে না।

উপসংহার

পরিবেশ দূষণ সমস্যা নিয়ে আজ সকল দেশই চিন্তিত। মানবসভ্যতার অস্তিত্বই আজ সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। তাই ১৯রো সালে মানুষের পরিবেশ' নিয়ে সম্মিলিত জাতিপুলে দেখাই চিন্তিত। মানুকসামতার ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হয় বারো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলন ও প্রতিবছর ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিব সন্মেলন ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর ২০১৪ সালে পেরুর লিমায় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।

আজ পরিকে সালের কোপেনহেগেন জলবায়কের বিপদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে দিনব্যাপী ধরিত্রী সম্মেলন। আমাদের দেশেও প্রতিদর অধিবেশন যে পরিবেশ দিবসরূপে পালিত হচ্ছে। ২০০১ সালে সুইজারল্যান্ডের লিমায় বিশ্ব তোলার লক্ষ্যে যে কোনো মূল্যে পরিবেশ দূষণ রোধ করার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই-

'এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ পীঠে চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'

ফেলে আসা দিনগুলো প্রবন্ধ রচনা

ফেলে-আসা-দিনগুলো-প্রবন্ধ-রচনা
ফেলে আসা দিনগুলো প্রবন্ধ রচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য, এটি বিশেষ করে অনেক পরীক্ষায় দেখা যায় যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে এটিও আপনার দেখে যাওয়া উচিত। পরীক্ষায় কোন রচনাটি আসবে, আমরা কেউ আগে থেকে জানিনা তাই আমাদের সব কয়টি রচনা একটিবার হলেও দেখে যাওয়া উচিত, সুবিধার্থে নিচে ফেলে আসা দিনগুলো বা তোমার শৈশবস্মৃতি নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা হলো:
ফেলে আসা দিনগুলো
বা তোমার শৈশবস্মৃতি

মানুষের জীবন ফুলশয্যা নয়। শত অভাব-অভিযোগ, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অতি মূল্যবান। জীবনের প্রতি এমন অন্ধটানের জন্যেই মানুষের বয়স যতই বাড়তে থাকে, যতই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, ততই তার পেছনে ফেলে আসা দিনগুলো শত রূপে মনকে পিছু টানে।

অতীত দিনের সুখ-দুঃখ ভরা খুঁটিনাটি স্মৃতিরাশি হীরকখণ্ডের মতো মনের গহিনে আলো বিকিরণ করতে থাকে। শোক-দুঃখ ও হাসি-কান্না, বাধা-বিপত্তিতে আকীর্ণ এ সংসার। তবুও মানুষের কাছে তার

বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তখনকার অনেক স্মৃতিই আজ আমার একে একে মনে পড়ছে। যখন আমার বয়স ৫/৬ বছর তখন থেকে কিছু কিছু স্মৃতি আমার মনে স্থান করে নিয়েছে। আমার ছয় বছর বয়সের একটি স্মৃতি বড় মনে পড়ছে।

আমার বাবা ডাক্তার ছিলেন। আমাদের বাড়ির পাশের বাজারেই তাঁর চেম্বার ছিল। একদিন সন্ধ্যাবেলায় বাবা যখন বাড়ি ফিরে আসেন তাঁর সাথে একজন নতুন লোককে দেখতে পেলাম। জানা গেল, তিনি আমাদের বাড়িতেই আজ রাতটা কাটাবেন এবং পরদিন শিশুদের টিকা দেবেন। আমি কোনো ইনজেকশন বা টিকা নিতে বরাবরই ভয় পেতাম।

বাবা এবং ঐ লোকটি খাওয়া-দাওয়ার পর যখন গল্প করছিলেন তখন বাবা আমাকে কাছে টেনে বলেছিলেন- আমার এ ছেলেকে দিয়েই প্রথম শুরু করবেন এবং পাড়ার অন্যান্য ছেলেমেয়েদেরও আমি টিকা নেওয়ার জন্যে ডেকে আনব। যে লোকটি টিকা দিতে এসেছিলেন তিনি ছিলেন থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী।

তাঁর চেহারা বেশ মিষ্টি ছিল। টিকার কথা শুনেই আমার মনে কী এক ভয় দেখা দিল। আমি আস্তে আস্তে বাবার কোল থেকে নেমে মায়ের কাছে চলে গেলাম। পরের দিন সকাল বেলা যখন ঘুম ভাঙল তখনই মনে পড়ে গেল টিকা দেওয়ার কথা। তখন আমার ভয় যেন আরও বেড়ে গেল।

আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কোনোভাবে এ লোকটি চলে গেলেই আমি যেন বেঁচে যাই। আমাকে বাবা এসে আদর করে বসালেন এবং হাত-মুখ ধুয়ে টিকা নেওয়ার জন্যে তৈরি হতে বললেন। কিন্তু আমার ভয় যেন কাটেই না বরং তা যেন আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলতে লাগল। আমার মা, বাবা, ভাই-বোন সবাই একে একে টিকা নেওয়ার জন্যে পীড়াপীড়ি করলেন কিন্তু আমি বিছানাতে বসেই রইলাম।

আমাদের ঘরেই টিকা দেয়া হচ্ছিল। স্বাস্থ্যকর্মী লোকটিও আমাকে কয়েকবার আদর করে টিকা নেওয়ার জন্যে বললেন, কিন্তু কেন জানি না টিকা নেব না বলে আমার মনে এক ধরনের জেদ চেপে বসল। বাবার ইচ্ছা ছিল আমাকে প্রথম টিকা দিয়ে গ্রামে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন, কিন্তু অবশেষে পাড়ার অন্য ছেলেমেয়েদের ডেকে আনা হলো।

আমার চোখের সামনেই তাদেরকে টিকা নিতে দেখলাম। তবু আমার ভয় কাটছে না। সবাই আরও কয়েকবার আমাকে টিকা নেওয়ার জন্যে পীড়াপীড়ি করল। কিন্তু তখন আমার মধ্যে এক ধরনের লজ্জা ও ভয় এসে দেখা দিল।

সবাই নির্ভয়ে টিকা নিচ্ছে অথচ আমি তাদের সমবয়সী এবং একজন ডাক্তারের ছেলে হয়েও টিকা নিতে এত ভয় পাচ্ছি। লজ্জার জন্যে বিছানা থেকে আমি নেমে চলে যাচ্ছি। উদ্দেশ্য বাড়ির পেছনে যেখানে নীরব জায়গা আছে সেখানে চলে যাব। চলে যাওয়ার সময়ও বাবা আমাকে কয়েকবার ডাকলেন কিন্তু আমি তা কানে নেইনি।

আমার তখন প্রচণ্ড কান্না আসছিল। আমি কান্না চেপে রেখে বাড়ির পেছনে চলে গেলাম। কিন্তু তবুও রেহাই পেলাম না। বাবাও আমার প্রতি রেগে গেলেন এবং বাড়ির পেছনে এসে আমাকে ধরে আমার গালে একটি চড় বসিয়ে দিলেন। আমি তখন জোরে কান্না শুরু করে দিলাম। বাবা আমাকে কোলে করে ঘরে নিয়ে আসলেন এবং লোকটিকে টিকা দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত হতে বললেন।

আমি অনুভব করলাম, বাবার, মধ্যেও এক রকম জেদ চেপে গেছে, টিকা আমাকে নিতেই হবে। বাবা আমাকে কোলে বসিয়ে অনেকটা জোর করেই টিকা নেয়ালেন। টিকা নেওয়ার পর অনুভব করলাম, তেমন কোনো ব্যথা অনুভব করিনি। তবে এত ভয় পাওয়ার কারণ- এটা ছিল আমার এক ধরনের মনের ভয়।

যাই হোক, টিকা নেওয়া হলেও বাবার প্রতি আমার খুব অভিমান হলো। কেন তিনি আমাকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকা নেয়ালেন? বেশ কয়েকদিন আমি বাবার প্রতি এ অভিমান পুষে রেখেছিলাম। পরে এ অভিমান দেখে বাবা-মার আদর আমার প্রতি আরও বেড়ে গেল। এমনিভাবে ফেলে আসা দিনগুলোর কত স্মৃতি আজও মাঝে মাঝে আমাকে আবেগাপ্লুত করে।

একদিন আমি গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হলাম। বাবা আমাকে নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে স্কুলে নিয়ে গেলেন এবং এর আগেই আমার জন্যে তিনি এব একসেট বই কিনে এনেছিলেন। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর প্রতিটি পরীক্ষাতেই আমি ভালো ফল করেছি।

এজন্যে শিক্ষকেরা এবং বাবা-মাসহ সবাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। মায়ের টুকটাক কাজ করে দিতাম বলে মা আমার খুব প্রশংসা করতেন। আর মাঝে মাঝে খাবার চুরি করে খেতাম বলে মা আমাকে শাসনও করতেন। মোটামুটি শান্ত ছিলাম বলে মা-বাবার কাছে খুব একটা মার খেতে হয় নি।


স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাল্যকালের অনেক স্মৃতিও একটার পর একটা ঘটনা মনে জেগে উঠছে। কোনোটা দুঃখের কোনোটা সুখের। কত সহজেই না তখন সুখ-দুঃখ পেতাম এবং মিছেমিছি অভিমান করতাম। ভালো ছাত্র বলে সবার কাছ থেকে প্রশংসা ও আদর পেতাম অনেক।

বাবা কোনো কোনো দিন ভালো খাবার ও নতুন নতুন জামাকাপড় নিয়ে আসতেন। তখন কী যে আনন্দ হতো তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আবার সামান্য জুটিতে মায়ের বকুনি খেয়েছি। এমনই ছোটখাটো কত আনন্দ-বেদনার স্মৃতি আজ আমার মনে পড়ছে।

আজ আমি জীবনের আরেক অধ্যায়ে এসে উপনীত হয়েছি। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্মেছি, নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কেবল আমার কাছে বড় নয়। আমার সামনের দিনগুলোতে যেন সমাজের মানুষের জন্যে কিছু করে যেতে পারি সে লক্ষ্যে এখন থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

আমার শৈশবের দিনগুলোর নানা স্মৃতি আমার জীবনচলার পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে- এ আশা সর্বদাই মনে পোষণ করি।

লেখকের মন্তব্য

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার এবং ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে প্রবন্ধ রচনা আমরা তৈরি করেছি এই আর্টিকেলে। আপনার ভালো লাগে আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে এবং আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে যেমন ফেসবুকে শেয়ার করুন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url