প্রাগৈতিহাসিক গল্প অবলম্বনে পাঁচী চরিত্র আলোচনা কর খ বিভাগ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রাগৈতিহাসিক গল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য। তাই অনেক শিক্ষার্থী আছেন আপনারা প্রাগৈতিহাসিক গল্প অবলম্বনে পাঁচী চরিত্র আলোচনা কর এ ধরনের প্রশ্ন বা এই গল্প সম্পর্কিত অন্যান্য প্রশ্ন জানতে চান। তবে এই প্রশ্নটির সঙ্গে আরও কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়া হয়েছে।
প্রাগৈতিহাসিক-গল্প-অবলম্বনে-পাঁচী-চরিত্র-আলোচনা-কর
আপনি যদি প্রাগৈতিহাসিক গল্প অবলম্বনে বাজি চরিত্র আলোচনা করো খবিভাগের জন্য প্রশ্ন খুজে থাকেন তার সঠিক জায়গায় এসেছেন।
সূচিপত্র

প্রাগৈতিহাসিক গল্পের পাঁচীর মূলভাব

তবে প্রাগৈতিহাসিক গল্প অবলম্বনে পাঁচী চরিত্র আলোচনা কর এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা প্রথমে আলোচনা করব প্রাগৈতিহাসিক গল্পের পাঁচীর মূলভাব।

ভিখু যখন গুরুতর আহত হয় আর ভিক্ষা করতে শুরু করে ঠিক সে সময় সে নারীসঙ্গীন জীবন কাটাতো। একদিন ভিখুর কমবয়সী ভিখারীনের দিকে তার নজর পড়ে। ভিখারিনীর নাম পাঁচী। পাঁচী রাত কাটায় বসির নামের আর এক খঞ্জ ভিক্ষুকের সাথে।


ভিখু পাঁচীকে তার সাথে থাকার প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। ভিখুর জেদ চেপে যায়। বসিরের সাথে আলাপ জমাতে গিয়ে জীবন নাশের হুমকি খেয়ে ভিখু ক্ষিপ্ত হয়। সে বসিরকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। নদীর তীরে কুড়িয়ে পাওয়া একটা লোহার শিকের মাথা পাথরে ঘষে ঘষে ভিখু মারণাস্ত্রে পরিণত করে। একদিন অন্ধকার রাতে এই অস্ত্র হাতে নিয়ে সে সতর্কতার সাথে বসিরের কুঁড়েঘরে গিয়ে হামলা চালায়।

কৌশলে এক হাতের সাহায্যেই বসিরকে হত্যা করে সে। সংঘর্ষের শব্দে পাঁচীর ঘুম ভেঙে যায়। হত্যাকাণ্ড নির্বিঘ্নে সুসম্পন্ন হওয়ার পর ভিখু পাঁচীকে তার সাথে পালিয়ে যাওয়ার আদেশ দেয়। ভীতসন্ত্রস্ত পাঁচী তার ও বসিরের গচ্ছিত পয়সাকড়ি সাথে নিয়ে ভিখুকে অনুসরণ করে।

তারা নতুন জীবন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে অজানার দিকে পাড়ি জমায়। 'প্রাগৈতিহাসিক' ছোটগল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সভ্যতার নিরাভরণ নগ্নমূর্তি উন্মোচন করেছেন। ভিখুকে তিনি গ্রহণ করেছেন মূর্তি নির্মাণের উপকরণ হিসেবে। ভিখু ও অন্যান্যদের মধ্যে যে নগ্নতা তা তাদের নিজস্ব সম্পদ নয়। এ সম্পদ সমাজ ও সভ্যতার।

ভিখু এখানে অবলম্বন মাত্র। ভিখুর বেঁচে থাকার সংগ্রাম, কামনা চরিতার্থ করার উন্মাদনা, মানুষ খুন করার প্রবণতা প্রভৃতি মানুষের ভেতরকার সুপ্ত আদিমতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। গল্পকার মানুষের এসব সুপ্ত প্রবণতাসমূহের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।

এ গল্পের ভিখু, পাঁচী, বসির, পেহ্লাদেরা আমাদের সভ্যসমাজের অন্ধকার গহবরে বসবাস করছে। মানুষের মধ্যে যে পশুপ্রবৃত্তি ও প্রাগৈতিহাসিকতা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তা মাঝেমধ্যে আত্মপ্রকাশ করে সমাজের বুকে অঘটন ঘটায়

'প্রাগৈতিহাসিক' গল্প অবলম্বনে পাঁচী চরিত্র আলোচনা কর।

প্রাগৈতিহাসিক-গল্প-অবলম্বনে-পাঁচী-চরিত্র-আলোচনা-কর

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পে পাঁচী অন্ত্যজ শ্রেণিচরিত্র- তার পেশা ভিক্ষা করা। বাজারে ঢোকার মুখে ভিখু যেখানে ভিক্ষা করে- তার থেকে কিছুটা দূরে-ই পাঁচীও ভিক্ষা করতে বসে।

পাঁচীর পরিচয়: পাঁচীর বয়স বেশি নয়, দেহের গাঁধুনিও শক্ত কিন্তু হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত থকথকে ঘা। এই ঘায়ের জোরে সে ভিখুর থেকে বেশি উপার্জন করে। সেজন্য সে বিশেষ যত্নে ঘাটিকে সারতে দেয় না।

ভিখু আজীবন তাকে সুখে রাখবার প্রতিজ্ঞা করে বিয়ে করতে চায় এবং আরো বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখায়। কিন্তু ভিখু তাকে ওষুধ দিয়ে পায়ের ঘাটি সারানোর জন্য বলে। কিন্তু পাঁচী তাতে রাজি হয় না এই কারণ দেখিয়ে যে, দুদিন পরে ভিখু তাকে তাড়িয়ে দিতে পারে, আর ঘাটি সেরে গেলে তখন তাকে আবার ভিক্ষা করতে হবে।

কিন্তু ঘাটি না থাকলে তাকে আর কেউ ভিক্ষা দেবে না। আর এই কারণেই পাঁচী ঘাটি সারতে চায়নি। পাঁচী বসির নামে আরেক ভিক্ষুকের সাথে ঘর বাঁধে। কিন্তু পাঁচী বসিরকে বিয়ে করলে ভিখুর মধ্যে প্রবাহিত দুর্দমনীয় কামনার তাড়না তাকে হিংস্র করে তোলে। তাছাড়া বসির কর্তৃক ভিখু অপমানিত হওয়ার জ্বালা তাঁকে আরো ভয়ংকর করে তোলে।

একদিন গোপন পরিকল্পনা মতো ভিখু বসিরের আস্তানা খুঁজে বের করে। নদীর ধারে সে একদিন হাঁতখানেক লম্বা লোহার শিক কুড়িয়ে পেয়েছিল সেটির মাথা ঘষে ঘষে ধারালো করে। আরেক দিন রাতের অন্ধকারে বসিরের কুড়ে ঘরে গিয়ে মাথার তালুর মধ্যে লোহার ধারালো এবং সরু শিক ঢুকিয়ে বসিরকে খুন করে।

তারপর পাঁচী এবং ভিখু বসিরের সঞ্চিত সম্পদ নিয়ে বের হয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে পাঁচীর হাঁটতে কষ্ট হলে ভিখু তাকে কাঁধে তুলে নেয়। তারা চলে নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে। তারা আবার ফিরে যায় আদিম সভ্যতার দিকে।

গল্পের ভাষায়:"হয়তো ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিকতা অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহার সন্তানের মাংস আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই কোনদিন পাইবেও না।”


মন্তব্য: সার্বিক আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, মানুষ আলোকিত সভ্যতার দিকে অগ্রসর হলেও আদিম বৈশিষ্ট্যগুলো এখনো সবার মধ্য থেকে লুপ্ত হয়ে যায়নি- সেগুলো প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে আবার মাথা তুলে দাঁড়ায় নগ্ন মূর্তিতে। 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পে ভিখুর সাথে পাঁচীর রওনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে সে-সত্য প্রকাশিত।

"নারীসঙ্গহীন এই নিরুৎসব জীবন আর তার ভালো লাগে না।”- ব্যাখ্যা কর।

নারীসঙ্গহীন-এই-নিরুৎসব-জীবন-আর-তার-ভালো-লাগে না
উৎস: ব্যাখ্যেয় গদ্যাংশটুকু ত্রিশোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাণপুরুষ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরচিত 'প্রাগৈতিহাসিক' শীর্ষক ছোটগল্প থেকে চয়ন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গ: এখানে দুর্ধর্ষ ডাকাত ভিখুর আদিম অকৃত্রিম কাম-প্রবৃত্তি সম্পর্কে গল্পকার উল্লিখিত মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষণ : ভিখু ছিল এক দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার। ডাকাতি করার পাশাপাশি সে জোর করে নারীদেহ ভোগ করতে অভ্যস্ত ছিল। একবার পাহানার শ্রীপতি বিশ্বাসের বোনকে অপহরণ করার দায়ে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। রাখু বাদীর বৌকে ফুসলিয়ে নিয়ে ভিখু হাতিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল।

এরপর বসন্তপুরের বৈকুণ্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করতে গিয়ে তার দলের অন্যান্য সকলে - ধরা পড়লেও ভিখু ডান কাঁধে বর্শার একটা খোঁচা খেয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। অনেক কষ্টে চিতলপুরের পেহ্লাদের কাছে আশ্রয় পেয়ে প্রায় বিনা চিকিৎসায় ডানহাতটা হারিয়ে ভিখু আরোগ্য লাভ করার পর একদিন তার ভিতরকার কামতৃষ্ণা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।

বাড়িতে যখন কেউ ছিল না তখন পঙ্গু ভিখু পেহ্লাদের বৌয়ের দিকে হাত বাড়াল। পেহ্লাদ ফিরে এসে ভিখুর নেমকহারামির কথা জানতে পেরে বেদম মার দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল।

রাতের আঁধারে ভিখু পেহ্লাদের ঘরে আগুন দিয়ে মহকুমা শহরের বাজারে পালিয়ে গিয়ে ভিক্ষে করতে শুরু করল। কিছুদিন ভিক্ষে করার পর পেটভরে খেয়ে ও আরামে ঘুমিয়ে সে তার পূর্বের স্বাস্থ্য ফিরে পেল। আবার তার মধ্যে কামতৃষ্ণা জাগ্রত হলো। এখন নারীসঙ্গহীন এই নিরুৎসব জীবন তার আর ভালো লাগে না।

মন্তব্য

কামুক ভিখুর কাম-প্রবৃত্তির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে উল্লিখিত বাক্যটিতে।

লেখকের মন্তব্য

প্রাগৈতিহাসিক গল্প অবলম্বনে পাঁচীর চরিত্র আলোচনা কর এই প্রশ্ন উত্তর আমারা এখানে তুলে ধরিছে সঠিক ভাবে খ বিভাগের প্রশ্নের উত্তর এর জন্য। এছাড়া আমারা আরো একটি প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি তাহলো ”নারীসঙ্গীহীন এই নিরৎসব জীবন আর তার ভালো লাগেনা ব্যাখ্যা কর”। এই বিষয়ে যদি আপনার কোন মাতামত থাকে তাহলে অবশ্যয় কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।


আর্টিকেলটি ভালো লগলে আপনি আপনার বন্ধু বান্দাদের সঙ্গে অথবা সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। এই প্রশ্নটি বিশেষ করে যারা স্নাতক শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন। আপনি যদি ইমেইলের মাধ্যমে প্রতিদিন নতুন নতুন আপডেট পেতে চান তাহলে নিচে ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url