যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধ pdf এবং মূলভাব
প্রমথ চৌধুরীর লেখা যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধ pdf বা যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধের মূলভাব ছাড়াও এই নির্বাচিত প্রবন্ধ নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং প্রশ্নের উত্তর যদি আপনি জানতে চান আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেলে আমরা তুলে ধরেছি যৌবনের প্রবন্ধের পিডিএফ এবং এর মূলভাব এবং কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর।
তাই আপনি যদি যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধ pdf খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন।
সূচিপত্র
যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধ pdf
যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধের পিডিএফ নিচের বাটনে ক্লিক করে সহজেই ডাউনলোড।
যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধের মূলভাব
আপনারা অনেকেই নির্বাচিত প্রবন্ধটি পড়েন তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূলভাব জানা। আপনার সুবিধার্থে নিচে যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধের মূলভাব তুলে ধরা হলো।
'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধে সুসাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী যৌবনের বন্দনা করেছেন, মুক্তকণ্ঠে। তিনি যৌবনকে রাজাটকা পরানোর প্রস্তাব করেছেন এই নিবন্ধে। যৌবন মানুষের জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়। যৌবনে প্রবেশ করে মানুষ খুঁজে পায় জীবনের চরম সার্থকতা।
এ সময়েই মানুষের বাহ্যেন্দ্রিয়, কর্মেন্দ্রিয় ও অন্তরেন্দ্রিয় সবচেয়ে বেশি সজাগ ও সচল থাকে। যৌবন বহন করে। অপরিমেয় শক্তি। তাই এই শক্তির যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য যৌবনকে সঠিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই লেখক এই প্রবন্ধে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশে যৌবনকে বাঁকা চোখে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হয়ে থাকে। যৌবনকে মনে করা হয় একটা মস্তবড় ফাঁড়া হিসেবে। তাই তার কপালে রাজটিকা পরানোর পরিবর্তে তার পিঠে দেওয়া হয়। রাজদণ্ড।
আমাদের দেশের জ্ঞানীগুণীরা বসন্ত ঋতু ও প্রকৃতির যৌবনকে অশোভন ও শাসনযোগ্য মনে করেন। তাই তারা বাল্য থেকে এক লাফে বার্ধক্যে পৌঁছাতে চান। ফলে মিলন ঘটে এক জড়ত্বের সাথে আর এক জড়ত্বের। এ কারণে প্রমথ চৌধুর বলেছেন, "আমাদের জীবন গ্রন্থের প্রথমে ভূমিকা আছে, শেষে উপসংহার আছে, ভিতরে কিছু নেই।
" সৃজনশীল যৌবনের ললাটে। রাজটিকা প্রদানে বিশেষ আপত্তি জড়বাদীদের। জড়বাদী জুড়ের পূজারি। তাই তারা দেহকে প্রাধান্য দেয়। যৌবনকে প্রাধান্য দিলেও তা দেহের যৌবনকে মনের যৌবনকে নয়। জড়বাদীরা চায় দেহের জড়তার সাথে মনের জড়তার মিল। মনের যৌবন জীবন প্রবাহকে জাগ্রত করে।
একজনের মনের যৌবন অন্যের মনে সঞ্চারিত করা যায়। কিন্তু জড়বাদীরা মনের পরিবর্তে জড় দেহকে প্রাধান্য দেয়। ফলে মনের যৌবন অস্বীকৃত থেকে যায়- দেহের যৌবন পায় সমাদর। যে যৌবন ভোগের ভোগটুকু শেষ হলেই তার আয়ুটুকু শেষ; তার বৃদ্ধি নেই, সঞ্চারণ নেই; আছে কেবল ক্ষয়।
আমরা যে যৌবনকে গোপন করে রাখতে চাই তার জন্য দায়ী আমাদের প্রাচীন সাহিত্য। সংস্কৃত সাহিত্যে দৈহিক যৌবনের বিচিত্র লীলা কলা সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা লক্ষ করা যায়। এ সাহিত্যে যুবক যুবতী ব্যতীত আর কারও স্থান নেই।
যৌবনের যে ছবি সংস্কৃত দৃশ্যকাব্যে ফুটে উঠেছে, সে হচ্ছে ভোগবিলাসের চিত্র। সংস্কৃত কাব্যজাং মাল্যচন্দন বনিতা দিয়ে গঠিত। আর এ জগতে বনিতারাই হচ্ছে স্বর্গ এবং মাল্যচন্দন তার উপসর্গ। এ কাব্য জগতের স্রষ্টা বা দ্রটা কবিদের মতে প্রকৃতির কাজ হচ্ছে শুধু রমণী দেহের উপমা যোগান, পুরুষের কাজ শুধু রমণীর মন যোগান।
যযাতি নিজের ভোগবিলাস চরিতার্থ করার জন্য পুত্রদের কাছে যে দৈহিক যৌবন ভিক্ষা করেছিলেন সংস্কৃত কবিরা সেই যৌবনেরই রূপগুণ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ প্রাচীনপন্থি সংস্কৃতসেবীরা যৌবন নিন্দায় পঞ্চমুখ ছিলেন। কারণ তাঁরা যৌবনকে কেবল ভোগের মোক্ষম সময় বলে মনে করতেন।
যৌবন যে সৃষ্টির প্রধানতম বাহন তা তাঁরা জানতেন না। ভোগ ও লালসার মাধ্যম হিসেবে যৌবনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এঁরা যৌবন ভয়ে ভীত থাকতেন। তাইতো যযাতি স্বার্থপরতার পরাকাষ্ঠা দেখাতে লজ্জাবোধ করেননি। প্রমথ চৌধুরী সংস্কৃত সাহিত্যের যৌবন চিন্তার ঘোর বিরোধী।
তিনি যৌবনকে দেখেছেন প্রাণশক্তি হিসেবে। এ কারণেই তিনি যৌবনের ললাটে। রাজটিকা পরানোর কথা বলেছেন। তাঁর মতে, দেহের যৌবনের সাথে মনের যৌবনের একটা যোগাযোগ থাকলেও দৈহিক যৌবন ও মানসিক যৌবন স্বতন্ত্র।
এ মানসিক যৌবন লাভ করতে পারলেই আমরা তা সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারব। দেহ সংকীর্ণ ও পরিত্রা মন উদার ও ব্যাপক। একের দেহের যৌবন অপরের দেহে প্রবেশ করিয়ে দেবার জো নেই; কিন্তু একের মনের যৌবন লক্ষ লোকের মনে সংক্রমণ করে দেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, মানসিক যৌবনই সমাজে প্রতিষ্ঠা করা আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা সমা সমাজকে একটা ব্যক্তি হিসেবে দেখলেও আসলে মানবসমাজ হচ্ছে বহুব্যক্তির সমষ্টি। যে সমাজে বহুব্যক্তির মানসিক যৌবন আছে, সেই সমাজেরই যৌবন আছে। দেহের যৌবনের সঙ্গে সঙ্গেই মনের যৌবনের আবির্ভাব হয়।
সেই মানসিক যৌবনকে স্থায়ী করতে হলে শৈশব নয়, বার্ধক্যের দেশ আক্রমণ ও অধিকার করতে হবে। দেহের যৌবনের অন্তে বার্ধক্যের রাজ্যে যৌবনের অধিকার বিস্তার করবার শক্তি আমরা সমাজ হতেই সংগ্রহ করতে পারি।
প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধের শেষাংশে গিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে ফাল্গুন একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে না; কিন্তু সমগ্র সমাজে ফাল্গুন চিরদিন বিরাজ করছে। অর্থাৎ দেহের যৌবন ক্ষণস্থায়ী। তা একবার গত হলে আর ফিরে পাওয়া যায় না।
কিন্তু মানুষের সমাজে যে মানসিক যৌবন আছে তা অজর, অমর ও অব্যয়। যে মানুষ মানসিক যৌবনে সমৃদ্ধ বার্ধক্য তাকে কাবু করতে পারে না। সুতরাং বয়স দিয়ে যৌবন ও বার্ধক্য পরিমাপ করা ঠিক নয়।
যার মনে প্রাণশক্তি আছে, সে যুবকই হোক আর বৃদ্ধই হোক সেই প্রকৃত যৌবনের অধিকারী, যৌবনের পূজারি। মনের যৌবনই প্রকৃত যৌবন। যার মনে যৌবন নেই তার দৈহিক যৌবন মূল্যহীন।
দেহের যৌবন এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তর করা যায় না; কিন্তু এক মনের যৌবন অন্যের মনে সঞ্চালন করা সম্ভব। দেহের যৌবন ও মনের যৌবনের মধ্যে তাই পার্থক্য অনেক। দেহের যৌবন ক্ষণস্থায়ী আর মনের যৌবন চিরস্থায়ী।
যৌবনকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেকের উচিত যৌবনকে সমাদর করা। যৌবনের কপালে রাজটিকা পরানোর ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক থাকা অনুচিত। যদি সমাজ দেহে যৌবন শক্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে সমাজ পঙ্গুত্ব থেকে মুক্তি পাবে। যে সমাজে যৌবন আছে সেই সমাজ প্রগতির পথে এগিয়ে যায়। তার গতি কেউ রোধ করতে পারে না। আমরা যৌবনসমৃদ্ধ সেই সমাজই প্রত্যাশা করি।
প্রাবন্ধিক কোন জাতীয় যৌবনকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে চান?
উত্তর: 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধে প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী উদাত্ত কণ্ঠে যৌবনের বন্দনা করেছেন। যৌবনকালকে তিনি মানুষের জীবনের সর্বোত্তম সময় বলে আখ্যায়িত করে একে রাজটিকা পরাবার প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রাবন্ধিক যে-জাতীয় যৌবনকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে চান: এ দেশের লোকেরা যৌবনের কপালে রাজটিকার পরিবর্তে তার পৃষ্ঠে রাজদণ্ড প্রয়োগ করতে বেশি ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এদেশের মানুষেরা সবাই ভুলে যায় যে, একমাত্র ব্যক্তি এবং জাতীয় জীবনে যৌবনকে প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে সমাজে পরিবর্তন সূচিত হতে পারে।
প্রাবন্ধিকের মতে- "প্রাণিজগতের রক্ষার জন্য নিত্য নতুন প্রাণের সৃষ্টি আবশ্যক এবং সে সৃষ্টির জন্য দেহের যৌবন চাই, তেমনি মনোজগতের এবং তদাধীন কর্মজগতের রক্ষার জন্য সেখানেও নিত্য নব সৃষ্টির আবশ্যক এবং সে সৃষ্টির জন্য মনের যৌবন চাই। পুরাতনকে আঁকড়ে থাকাই বার্ধক্য এবং জড়তা। মানসিক যৌবন লাভের জন্য প্রথম আবশ্যক প্রাণশক্তি, যে দৈব শক্তি এই বিশ্বাস। এই মানসিক যৌবনই সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।"
মন্তব্য: মনের যৌবনই প্রকৃত যৌবন। যার মনে যৌবন নেই তার দৈহিক যৌবন মূল্যহীন। দেহের যৌবন এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তর করা যায় না; কিন্তু এক মনের যৌবন অন্যের মনে সঞ্চালন করা সম্ভব। যে সমাজে মানসিক যৌবন আছে সেই সমাজ প্রগতির পথে এগিয়ে যায়। তার গতি কেউ রোধ করতে পারে না। আমরা মানসিক যৌবনসমৃদ্ধ সেই সমাজই প্রত্যাশা করি।
"আমাদের জীবনগ্রন্থে প্রথমে ভূমিকা আছে, শেষে উপসংহার আছে, ভিতরে কিছু নেই।”- বুঝিয়ে দাও।
উৎস: ব্যাখ্যেয় অংশটুকু বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমালোচক প্রমথ চৌধুরী বিরচিত 'যৌবনে দাও রাজটিকা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ : আমাদের জীবনের একটা মস্ত বড় অসঙ্গতিকে স্পষ্ট করে তোলার জন্য প্রাবন্ধিক এ তির্যক মন্তব্যটি করেছেন।
বিশ্লেষণ: বিরাট মহাবিশ্বে আমাদের বসবাস। এ বিশ্বের আদি বা শুরু সম্পর্কে আমাদের কোন স্পষ্ট ধারণা নেই। এক অভেদ্য রহস্যজালে তা আবৃত। একইভাবে এর অন্ত সম্পর্কেও আমাদের অজ্ঞতা সীমাহীন। আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারি না। আমাদের কাছে শুধু এর মধ্য পর্বটি স্পষ্ট। অর্থাৎ পৃথিবীর বাল্য ও বার্ধক্য সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না।
জানি শুধু তার বর্তমান বা যৌবনকালকে। আদি ও অন্তহীনতার মধ্যে পৃথিবী আশ্চর্য রকমের উজ্জ্বল হয়ে আছে শুধু তার মধ্য, পর্বকে আশ্রয় করে। অথচ এ পৃথিবীতেই বসবাস করে আমরা চলেছি তার বিপরীত পথ ধরে।
বাল্য, যৌবন ও বার্ধক্যের সুনির্দিষ্ট কাল পর্বে জীবন বিভক্ত হলেও আমাদের দেশে বাল্য ও বার্ধক্য প্রবলভাবে উপস্থিত। পক্ষান্তরে, যৌবন অনুপস্থিত ও অস্বীকৃত। যৌবনকে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ফাঁড়া বলে মনে করে। যৌবনের তেজ ও শক্তিকে তারা ভয় পায়। তাই কোনোভাবে তাকে পাথ কাটিয়ে চলতে চায়।
কী জ্ঞানী কী অজ্ঞানী প্রায় সকলেই তাদের জীবনে বাল্য থেকে এক লাফে বার্ধক্যে গিয়ে পৌছুতে চায়। ফরে জীবন থেকে বাদ পড়ে যায় সবচেয়ে মূল্যবান মধ্য পর্ব বা যৌবন কালটিই। এ যেন ঠিক একটা অসম্পূর্ণ গ্রন্থের মতো যার ভূমিক এবং উপসংহার আছে কিন্তু মূল অধ্যায় নেই।
একটি গ্রন্থের ভূমিকা এবং উপসংহার যত ভালোই হোক না কেন, মূল অংশ বা মথা পর্ব না থাকলে তা কিছুতেই সম্পূর্ণ গ্রন্থের মর্যাদা দাবি করতে পারে না। একইভাবে যৌবনকে বাদ দিয়ে জীবনের বাল্য ও বার্ধক্যের উপর যত গুরুত্বই আরোপ করা হোক না কেন মূল বা মধ্য পর্বহীন গ্রন্থের মতই সে জীবন থেকে যাবে অসম্পূর্ণ।
আরো পড়ুন: বর্তমান বিশ্বের সেরা গোলকিপার কে
মন্তব্য: যৌবনকে বাদ দিয়ে জীবন কিছুতেই সম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারে না।
লেখকের মন্তব্য
আমরা এই আর্টিকেলটির মধ্যে আপনার চাওয়া মোতাবেক যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধ pdf তুলে ধরেছি। এছাড়াও যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধের মূলভাব আলোচনা করেছি এবং আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরেছি আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে শেয়ার করুন আপনার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে করুন। শেয়ার করতে তবে এই বিষয়ে যদি আরো কোন প্রশ্ন জানতে চান তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্টে জানাতে পারেন। ইভিভিটিভির সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।



ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url