বাংলা বানানের নিয়ম | প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম
আমরা একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের বাংলা বানানের নিয়ম গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক আর। আর এই বাংলা বানানের নিয়ম গুলো বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন আর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন তাহলে নিচে সহজ ভাবে বাংলা বানানের নিয়ম এবং প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলা বানানের নিয়ম এবং প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম সহজেই আপনি বুঝতে পারবেন এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়লে।
ভূমিকা
19 শতকের আগে পর্যন্ত বাংলা বানানের লিখিত নিয়ম বলতে কিছু ছিল না। বাংলা ভাষার বানান প্রমিত করার চেষ্টা দেখা যায় উনিশ শতকের প্রথমার্ধে। তখন সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুশাসন অনুযায়ী বাংলা তৎসম শব্দের বানান নির্ধারিত হয়। কিন্তু অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশী ও বিদেশী শব্দের বানান কে বিধিবদ্ধ করা হয়নি।
তাছাড়া প্রত্যয়ে, বিভক্তি, উপসর্গ ইত্যাদি সহযোগে গঠিত নানা রকমের মিশ্র শব্দের বানানেও থেকে যায় বিভ্রান্তি। বাংলা গত চলিত রীতির ব্যাপক প্রচলন এর ফলে একই শব্দের বানানে ভিন্নতা বেড়েই চলে।
রই সমাধান গল্পে বিশ শতকের বিশের দশকে বিশ্ব ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চলিত ভাষার বানানের একটি নিয়ম নির্ধারণ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুরোধে হাজার ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে তারপর থেকে এই বানানেররীতি আমরা অনুসরণ করে চলেছি।
আরো পড়ুন: চলিত ভাষা কাকে বলে এর বৈশিষ্ঠ্য
আধুনিক কালের দাবি অনুযায়ী সে বানানেও কিছু কিছু বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অতঃপর বাংলাদেশে একটি অভিন্ন বানাননীতি প্রচলনের লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে জাতীয় শিক্ষা ক্রম ও পাঠ প্রস্তুত বোর্ড বাংলা বানানের নিয়মের একটি খসড়া তৈরি করে। 1992 সালে অধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান ও অন্যদের সম্পাদনায় এই বানানরীতির একটি শিক্ষা প্রকাশিত হয়।
এরপর ’প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের সমস্ত ব্যবহারকারীর কাছে তা উপস্থাপন করে। সাদরে গৃহীত হতে থাকে। এরপর নানা গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০১২ সালে এর পরিমার্জিত সংস্কার প্রকাশিত হয়। বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা বানানের নিয়মের সর্বশেষ সংস্কার টি এখানে নিচে দেওয়া হয়েছে।
প্রমিত বাংলা বানান কি?
বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যে বানান ব্যবহার করা হয় তাকে প্রমিত বাংলা বানান বলা হয়। বই, পত্রিকা, সরকারি নথি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন বিভিন্ন কনটেন্টে এই বানান ব্যবহার করা হয়। প্রমিত বানান অনুসরণ করলে লেখার মান ও বিশেষ যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। তবে বাংলা একাডেমি অনুযায়ী বাংলা বানানের নিয়ম রয়েছে।
উদাহরণ:
- কলেজ (সঠিক)
- কোলেজ (ভুল)
বাংলা বানানের নিয়ম কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলা বানানের নিয়ম বা প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম জানার আগে আমাদেরকে জানতে হবে বাংলা বানানের নিয়ম কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা এবং যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সঠিকভাবেই বাংলা লেখার জন্য অত্যন্ত জরুরী। বানানো ভুল করে লেখার অর্থ পরিবর্তন থেকে যেতে পারে এবং পাঠকের কাছে লেখার মান কমে যায়। তাই প্রমিত বাংলা বানান অনুসরণ করে লেখা প্রতিটি শিক্ষার্থী, ব্লগার ও লেখকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অনলাইন কনটেন্ট ব্লক অফিসিয়াল লেখার ক্ষেত্রে সঠিক বানান লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। আর পাঠককে ধরে রাখতে সহযোগিতা করে।
উদাহরণ:
- ভুল: অন্নেক, বিদ্দালয়
- সঠিক: অনেক, বিদ্যালয়
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম
বাংলা একাডেমীর নির্ধারিত বানানের শব্দ লেখার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম মেনে লিখলে ভাষার শুদ্ধতা ও একরূপতা বজায় থাকে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিচে দেওয়া হল।
গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি
- অপ্রয়োজনীয় দ্বিত্ব বর্ণ ব্যবহার করা যাবে না
ভূল: দায়িত্ ব্ ব
সঠিক: দায়িত্ব
- উচ্চারণ নয়, প্রমিত রূপ অনুসরণ করতে হবে।
- অ অনেক শব্দ আমরা যেভাবে বলি আসলে সেভাবে লেখা ঠিক নয়।
ভূল: ব্যাবহার
সঠিক: ব্যবহার
- বিদেশি শব্দের প্রমিত রূপ ব্যবহার
অফিস
কলেজ
স্কুল
বাংলা বানানের নিয়ম
বাংলা ভাষা সঠিকভাবে লিখতে প্রমিত বানানের নিয়ম জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য আমরা প্রথমেই প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রথমেই আলোচনা করেছি। অনেক সময় আমরা উচ্চারণ অনুযায়ী লিখে ফেলি, কিন্তু প্রমিত বাংলা বানানে সব শব্দ উচ্চারণ অনুযায়ী লেখা হয় না বাংলা একাডেমী নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করলেই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বানান লেখা সম্ভবভ।
আরো পড়ুন: ব্যাংক কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি
স্বরবর্ণের সঠিক ব্যবহার
বিশেষ করে বাংলা বানানের মধ্যে স্বরবর্ণের বেশি ভুল হয়ে থাকে। বিশেষ করে ই-ঈ, উ-ঊ, এ-ঐ, ও-ঔ ব্যবহার।
- উধাজরণ:
- ভূল: নিতি
- সঠিক: নীতি
- ভূল: দুনিা
- সঠিক: দুনিয়া
যুক্তাক্ষর এর সঠিক ব্যবহার
বাংলা ভাষায় অনেক যুক্তব্যঞ্জন থাকে। এগুলো ভুল করলে শব্দের অর্থ পরিবর্তন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ নিচে কিছু ভুল এবং সঠিক বানান তুলে ধরা হলো।
উদাহারণ:
- ভূল: তত্ব
- সঠিক: তত্ত্ব
- ভুল: বর্ননা
- সঠিক: বর্ণনা
বাংলা বানানের আরো কিছু নিয়ম
তৎসম শব্দ
এই নিয়মে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের নির্দিষ্ট বানান অপরিবর্তিত থাকবে।
- ১.২: যেসব তৎসম শব্দে ই ঈ বা উ ঊ উভয় শুদ্ধ কেবল সেসব শব্দে ই বা উ এবং তার কারচিন্হ ি, ু হবে।
- য়েমন: কিংবদন্তি, খাঞ্জনি, চিৎকার, চুল্লি, তরণি, ধমনি, ধরণি, নাড়ি, পাঞ্জি, পদবি, পল্লি, ভঙ্গি, মঞ্জরি, মসি, রচনাবলি, লহরি, শ্রেণি, সরণি, সূচিপত্র।
- ১.৩: রেফার পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্ত্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্চ্ছা, সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে আর্জন, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূর্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।
- ১.৪: সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থানেত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে। যেমন: অহম্ + কার = অহংকার। এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম,সংঘটন।
- ১.৫: সংস্কৃত ইন ্-পত্যয়ন্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকারণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলোতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন: গুণী-গুণিজন, প্রাণী-প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী-মন্ত্রীপরিষদ। ইন্-পত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে -ত্ব ও - তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে। যেমন: কৃতী-কৃতিত্ব, দায়ী-দায়িত্ব, প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা, মন্ত্রী-মন্ত্রিত্ব, সহযোগী-সহযোগীতা।
- ১.৬: শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না। যেমন: ইতস্তত, কার্যত, ক্রমশ, পুনঃপুন, প্রথমত, প্রধানত, প্রয়াত, প্রায়শ, ফলদ, বস্তুত, মূলত।
অতৎসম শব্দ
২.১: ই, ঈ, উ, ঊ
সকল অতসৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে। যেমন: আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইমান, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়ালি, গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি,
জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, নানি, নিচু, পশমি,পাখি, পাগলমি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙগালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইন, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি.সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।
জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, নানি, নিচু, পশমি,পাখি, পাগলমি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙগালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইন, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি.সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।
চুন, পুজো, পুব, মুলাম মুলো। পদাশ্রিত নির্দেশক টিতে ই-কার হবে। যেমন:র ছেলেটি, বাইটি, লোকটি, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন: এটা কী বই? কী আনন্দ! কী আর বলব? কী করছ? কী করে যাব? কী খেলে? কী জানি?
কী দুরাশা! তোমার কী! কী বুদ্ধি নিয়ে এনেছিল! কী পড়ো? কী যে করি! কী বাংলা কী ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি পারদর্শী। কীভাবে, কীরকম, কীরূপে প্রভৃতি শব্দে ও ঈ-কার হবে।
যেসব প্রশ্নবাচক বাক্যের উত্তর হ্যাঁ বা না হবে, সেইসব বাক্যে ব্যবহৃত ‘কি’ হ্রস্ব ই-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন: তুমি কি যাবে? সে কি েএসেছিলে?
২.২: এ, অ্যা
বাংলায় এ বর্ণ বা -েকার তিয়ে এ এবং অ্যা-এই উভয় ধ্বনি নির্দেশিত হয়। যেমন: কেন, কোন (ক্রয় করো); খেলা খেলি; গেল, গেলে, গেছে; দেখা, দেখি; জানো, যেন। তবে কিছুই তদ্ভব এবং বিশেষভাবে দেশি শব্দ রয়েছে যেগুলির ্যা-কার যুক্ত রূপ বগুল পরিচিত। যেমন: ব্যাঙ, ল্যাঠা। এসব শব্দে ্যা অপরিবর্তিত থাকবে। বিদেশি শব্দে ক্ষেত্রে অনুযায়ী অ্যা বা ্যা-কার ব্যবহৃত হবে। যেমন: অ্যাকাউন্ট, অ্যান্ড (And), অ্যাসিড, ক্যাসেট, ব্যাংক, ভ্যাট, ম্যানেজার, হ্যাট।
২.৩: ও
বংলায় অ-ধ্বনির উচ্চারণ বহু ক্ষেত্রে ও-র মতো হয়। শব্দশেষের এসব অ ধ্বনি ও-কার দিয়ে লেখা যেতে পারে। যেমন: কারো, খাটো, ভালো, এগারো, বারো, তেরা,পরেরোম ষোলো, সতেরো, আঠারো; করানো, খাওয়ানো, চড়ানো, চালানো, দেখেনো, নামানো, পাঠানো, বসানো, শেখানো, শোনানো, হাসানো; কুড়ানো, নিকানো, বাঁকানো, বাঁধানো, ঘোলালো, জোরালো, ধারালো, প্যাঁচানো; কার, চড়ো, জেনো, ধরো, পড়ো, বলো, বসো, শেখো; করাতো, কেনো, দেবো, হোত, হবো, হলো; কোন, মতে। ভবিষৎ অনুজ্ঞায় শব্দের আদিতেও- ও-কার লেখা যেতে পারে। যেমন: কোরোম বোলো, বসো।
২.৪: ং, ঙ
শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে। যেমন: গাং, .ঢাং, রং, রাং, সং।তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ও হবে। যেমন: বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের। বাংলা ও বাংলাদেশে শব্দে অনুস্বার থাকবে।
২.৫: ক্ষ, খ
অতৎসম শব্দ খিদে, খুদ, খুদে, খুর, (গবাদি পশুর পায়ের শেষে প্রান্ত),খেত খ্যাপা ইত্যাদি লেখা হব।
২.৬ জ, য
বাংলায় প্রচলিত বিদেশী শব্দ সাধারণভাবে বাংলা ভাষার ধ্বনিপদ্ধতি অনুযায়ী লিখতে হবে। যেমন: কাগজ, জাদু, জাহাজ, জুলুম, জেব্রা, বাজার, হাজার। ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত কয়েকটি শব্দ বিকল্পে ‘য’ লেখা যেতে পারে। যেমন: আযান, ওযু, কাযা, নামায, মুয়ায্ যিন, যোহর, রমযান, হযরত।
আরো পড়ুন: অধ্যবসায় রচনা ২০ পয়েন্ট উক্তিসহ
২.৭ মূর্ধন্য ণ, দন্ত ন
অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না। যেমন: অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা হর্ন। তৎসম শব্দে ট ঠ ড ঢ-এর আগে যুক্ত নার্সিক্যবর্ণ ণ হয়, যেমন: কণ্টক, প্রচন্ড, লুণ্ঠন। কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-এর আগে কেবল না হবে যেমন: গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লণ্ঠন।
২.৮: শ, ষ, স
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ‘ষ’ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যেমন কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, বেহেশ্ ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন; আপস, জিনিস, মসলা, সন, সাদা, সাল (বৎসর), স্মার্ট, হিসাব; স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর। ইসলাম, তসলিম, মুসলমান, মুসলিম, সালাত, সালাম; এশা, শাওয়াল (হিজরি মাস), শাবান (হিজরি মাস)।
ইংরেজি ও ইংরেজির মাধ্যমে আগত বিদেশি S ধ্বনির জন্য স এবং -sh, -sion, -ssion, -tion প্রভৃতি, বর্ণগুচ্ছ বা ধ্বনির জন্য শ ব্যবহৃত হবে। যেমন: পাসপোর্ট, বাস; ক্যাশ; টেলিভিশন; মিশন, সেশন, রেশম, স্টেশন। যেখানে বাংলায় বিদেশি শব্দের বানান পরিবর্তিত হয়ে স ছ- এর রূপ লাভ করেছে সেখানে ছ-এর ব্যবহার থাকবে। যেমন: তছনছ, পছন্দ, মিছরি, মিছিল।
২.৯: বিদেশি শব্দ ও যুক্তবর্ণ
বাংলায় বিদেশি শব্দের আদিতে বর্ণবিশ্লেষ সম্ভব নয়। এগুলো যুক্তবর্ণ দিয়ে লিখতে হয়। যেমন: স্টেশন, স্ট্রিট, সিপ্রং। তবে অন্য ক্ষেত্রে বিশ্লেষন করা যায়। যেমন: মার্কস, শেকসপিয়র, ইসরাফিল।
২.১০ হস্-চিহ্ন
হস্-চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করা হবে। যেমন: কলকল, করলেন, কাত, চট, চেক, জজ, ঝরঝর, টক, টন, টাক, ডিশ, তছনছ, ফটফট, বনলেন, শখ, হুক। তবে যদি অর্থবিভ্রান্তি বাবুল উচ্চারণের আকাঙ্ক্ষা থাকে তাহলে হস্-চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন: উহ্, বাহ্, যাহ্।
২.১১ ঊধ্ব-কমা
যথাসম্ভব বর্জন করা হবে। যেমন: বলে (বলিয়া), হয়ে দুজনে, চাল, (চাউল), আল (আইল)
বিবিধ
- ৩.১: সমাজবদ্ধ শব্দগুলি যথাসম্ভব একসঙ্গে লিখতে হবে। যেমন: অদৃষ্টপূর্ব, অনাস্বাদিতপূর্ব, নেশাগ্রাস্ত, পিতাপূত্র, পূর্বপরিচিত, বিষাদমন্ডিত, মঙ্গলবার, রবিবার, লক্ষ্যভ্রষ্ট, সংবাদপত্র, সংযতবাক, সমস্যাপূর্ণ, স্বভাবগতভাবে। বিশেষ প্রয়োজনে সমাসবদ্ধ শব্দটিকে েএক বা একাধিক হাইফেন ( - ) দিয়ে যুক্ত করা যায়। যেমন: কিছু-না-কিছু, জল-স্থল-আকাশ, বাপ-বেটা, বেটা-বেটি, মা-ছেলে, মা-মেয়ে।
- ৩.২: বিশেষণ পদে সাধারণভাবে পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত হবে না। যেমন: ভালো দিন, লাল গোলাপ, সুগন্ধি ফুল, সুনীল আকাশ, সুন্দর মেয়ে, স্তব্ধ মধ্যাহ্ন।
- ৩.৩: না-বাচক না এবং নি-এর প্রথমটি ( না ) স্বতন্ত্র পদে হিসেবে এবং দিতীয়তটি (নি) সমাসবদ্ধ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যেমন: করি না, কিন্তু করিরি। এ ছাড়া শব্দের পূর্বে না-বাচক উপসর্গ ১ ‘না’ উত্তরপদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যেমন: নাবালক, নারাজ, নাহক। অর্থ পরিস্ফুট করার জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভূত হলো না-এর হাইফেন ব্যবহার করা যায়। যেমন: না-গোনা পাখি, না-বলা বাণী, না শোনা কথা।
- ৩.৪: অধিকন্তু অর্থে ব্যবহৃত ‘ও’ প্রত্যয় শব্দের সঙ্গে কার-চিহ্ন রূপে যুক্ত না হয়ে পূর্ণ রূপে শব্দের পরে যুক্ত হবে। যেমন: আজও, আমারও , কালও, তোমারও।
আরো পড়ুন: জুলাই বিপ্লব ২০২৪ বাংলাদেশ রচনা পরিক্ষার জন্য - ৩.৫: নিশ্চয়য়ার্থক ‘ই’ শব্দের সঙ্গে কার-চিহ্ন রূপে যুক্ত না হয়ে পূর্ণ রূপে শব্দের পরে যুক্ত হবে। যেমন: আজই, এখনই।
- ৪. ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নাম ই নিয়মের আওতাভুক্ত নয়।
লেখকের মন্তব্য
বাংরা বানানের নিয়ম বা প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম উপরে ভালোভাবে বিস্তরিত আকারে দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এই আর্টিকেলটিতে কোন আপডেট বা সংশোধনের প্রয়োজন মনে করেন তাহলে অবশ্যই নিচে আপনার মূল্যবান মতামতই জানিয়ে দিবেন। আপনি যদি আরো কোন তথ্যের বিষয়ে জানতে চান তাহলে অবশ্যয় কমেন্ট করে জানিয়ে দিবনে। আপনার স্যোসিয়াল মিডিয়াতে আপনার এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন যাতে করে করে পরবর্তীতে সহজে বাংলা বানানের নিয়মটি খুঁজে পান।




ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url