১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা কর

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা করো এই প্রশ্নটা প্রায় পরীক্ষায় দেখা যায়। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন আর এই প্রশ্নটি নিয়েই আজকে আমরা আলোচনা করব। লাহোর প্রস্তাবের ইংরেজি হল Lahore Resolution. এখানে লাভার প্রস্তাবের পুরো বিষয়টা তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৪০-সালের-লাহোর-প্রস্তাবের-পটভূমি-আলোচনা-কর
আপনি যদি 1940 সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ুন।
ইভিভিটিভি

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে লাহোর প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৪০ সালের ২৩ শে মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ২৭ তম কাউন্সিল অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।

লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলার অদ্বিতীয় জনপ্রিয় নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীর সের-এ বাংলা এ.কে ফজলুল হক। এই প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একাধিক পৃথক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল সমূহে কমপক্ষে দুটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

এজন্য বলা হয়, লাহোর প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কূটকৌশলে কনভেনশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একটি রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করেন। লাহোর প্রস্তাব পাকিস্তান প্রস্তাব নামেও পরিচিত। কারণ এটি পাকিস্তান দাবির মূল ভিত্তি।

এই প্রস্তাবের আলোকেই 1947 সালের ভারত বিভক্ত ঘটে ও ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা কর

১৯৪০-সালের-লাহোর-প্রস্তাবের-পটভূমি-আলোচনা-কর
ভূমিকা: লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব। 1935 সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় ১৯৩৭ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রাদেশিক ক্ষমতা নিয়ে হিন্দু প্রকৃত কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।

এরই পরিণতিতে মোহাম্মদ আলী জিন্না ১৯৪০ সালের ২২ শে মার্চ তার দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন। মুসলিম লীগ এ নেতার মতে, ধর্ম, সমাজ, কষ্টি সব কিছুতেই হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি। সুতরাং তাদের আবাসভূমিও ভিন্ন হওয়া উচিত।

ঘটনা প্রবাহের ধারাবাহিকতায় কংগ্রেস নেতা পণ্ডিত জওরলাল নেহরু স্বীকার করেন, রাজনৈতিক দিক থেকে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে কোন সাধারণ এবং উভয়ের উদ্দেশ্যে ও সম্পূর্ণ আলাদা। এ অবস্থায় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণার্থে তাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি সংবলিত ঐতিহাসিক লাহু প্রস্তাব গৃহীত হয়। তবে এই প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরো পূর্ব থেকে, যা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. মুসলিম পণ্ডিতদের চিন্তাভাবন

স্যার সৈয়দ আহমদ ও আল্লামা ইকবালসহ বিভিন্ন মুসলিম চিন্তাবিদ ও পন্ডিতদের লেখালেখি এবং চিন্তা ভাবনা ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদী মনোভাব তৈরি করে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে স্যার সৈয়দ আহমেদ খান ঘোষণা করেন, ভারতের দুটি ভিন্ন জাতীয় বসবাস করে।

এমনকি তিনি হিন্দু প্রভাবিত কংগ্রেসের যোগদান করতে মুসলমানদের নিষেধ করেন। ১৯৩০ সালে আল্লাম ইকবাল এলাহাবাদে এক ভাষাণে মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন। এজন্য আল্লাম ইকবালকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।

১৯৩৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী ও ১৯৩৫ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব উঠে। এভাবে মুসলিম পন্ডিত ও চিন্তাবিদদের চিন্তা ভাবনা লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি রচনা করে।

২. বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের প্রতিক্রিয়া

1905 সালে বঙ্গভঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গভঙ্গ কে বিশেষ করে বাংলা অঞ্চলের মুসলমান সম্প্রদায়ী আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায় এর তীব্র প্রতিরোধ করে। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ এমনকি সরকার বিরোধী সন্ত্রাস কার্যক্রম ও পরিচালনা করে।

বিলেতি দ্রব্য বর্জন এবং স্বদেশী আন্দোলনের ফলে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটে। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ বঙ্গভঙ্গ কে মেনে নেয়নি। স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, জি . কে গোখলে প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ও বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য আন্দোলন পরিচালনা করেন। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনের মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ করে।

মূলত কংগ্রেস এবং ব্রিটিশ বেনিয়াদের চাপের মুখে সরকার 1911 সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। এতে সমগ্র ভারত মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মুসলমান সম্প্রদায় উপলব্ধি করে যে, মুসলমানদের স্বার্থ হিন্দু স্বার্থ থেকে আলাদা। এরূপ বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের মধ্যে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি রচিত হয়।

৩. মুসলিম রাজনীতির পুনর্বিন্যাস

কংগ্রেস ও সমাজবাদীদের রাজনৈতিক চাপে এবং সর্বপরিব ব্রিটিশদের ‘Divide and Rule' নীতির কারণে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে ভারতের মুসলমানরা নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আবশ্যক মনে করলG তাদের সরকার ঘেঁঘ আনুগত্যও অনেকাংশেই প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়।

এর ফলে মুসলিম নীতি নেতৃত্ব হতে সুবিধাবাদী রক্ষণশীল নেতৃত্বের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী ও উদারনৈতিক নেতৃত্বে আবির্ভাব ঘটে। 1910 সালে জিন্নাহর মুসলিম লীগে যোগদান মুসলিম নেতৃত্বে এবং ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

এ সময় মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মৌলানা জাফর আলী খান, বলোনা আজাদ প্রমুখ মুসলিম রাজনীতির পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যদিকে েএ . কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ও সময় বাংলার মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার হোয়ার আসে।

৪. ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা

ব্রিটিশ সরকারের কিছু কিছু কর্মকাণ্ড মুসলমান সম্প্রদায় কে হিন্দু সম্প্রদায় থেকে পৃথকভাবে চিন্তা করার ক্ষেত্রে প্ররোচিত করে। ব্রিটিশদের শাসন কৌশলের একটি অন্যতম নীতি ছিল, ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি’ ।

এ নীতির ভিত্তিতে ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখলের প্রথম দিকে হিন্দুদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু একপর্যায়ে, বিশেষ করে সিপাহী বিদ্রোহের পর তারা মুসলিম সম্প্রদায়কে তোষণনীতি অনুসরণ করে। ১৯০৫ সালে বঙ্গবন্ধু ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনে আইন সভায় মুসলমানদের জন্য পৃথক প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ প্রদান করে।

আইন টি পাসের সময় লর্ড মর্লি ব্রিটিশ আইনসভায় উচ্চকক্ষ লর্ড সভায় ঘোষণা করে, ভারতীয় মুসলমানরা শুধু একটি পৃথক ধর্ম অনুসরণ করে তা নয়, সামাজিক আচরণ ও জীবনযাত্রার দিক থেকে তারা একটি পৃথক জাতির সমতুল্য। সরকারের এরূপ কর্মকান্ড মুসলমানদের মনে স্বতন্ত্রবোধের সৃষ্টি করে।

৫. খিলাফত আন্দোলন

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তুরস্ক স্বীয় স্বার্থে জার্মানির পক্ষ নিয়ে মিত্রশক্তির (ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া) বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তুরস্কের বিদ্যমান খিলাফতের প্রতি ভারতীয় ও মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও তারা ব্রিটেন কে সাহায্য প্রদান করে এই শর্তে যে, যুদ্ধ শেষে ভারতবাসীকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে এবং তুর্কি খেলাফতের কোন ক্ষতিসাধন করা হবে না।

কিন্তু যুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিশাল তুর্কি সম্রাজ্যকে খন্ড বিখন্ড করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এর প্রতিবাদে ১৯২০ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী এ দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে ভারতীয় মুসলমানগণ তুরস্কের খিলাফতের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জন্য ‘খিলাফত আন্দোলন’ এর সূত্রপাত ঘটানো।

খেলাফত নেতার ব্রিটিশ দ্রব্য ও পদবী বর্জন, আইনসভার সদস্য পদ ত্যাগ ও সরকারের সাথে অসহযোগ নীতি, এমনকি স্বাধীনতা অর্জনের ডাকও দেন। এ সময় মহাত্মা গান্ধী ছিলেন কংগ্রেসের কর্ণধার। তিনি খিলাফত আন্দোলনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে একই সাথে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

ইতিমধ্যে তুরস্কের মুস্তাফা কামাল পাশার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয় এবং তিনি 1924 সালের সুদ দীর্ঘকালের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতীক ‘খিলাফতের’ অবসান ঘোষণা করলে খিলাফত আন্দোলনের অবসান ঘটে। তবে আপাতদৃষ্টিতে খেলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলেও এ আন্দোলনেই রাজনীতির ক্ষেত্রে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

৬. নেহরু রিপোর্ট ও জিন্নাহর চৌদ্দ দফা

দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়নের জন্য মতিলাল নেহেরুকে সভাপতি করে একটি কমিশন গঠন করা হয়। উক্ত কমিশন ১৯২৮ সালে যে রিপোর্ট পেশ করে, তাতে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের বিরোধিতা।

এমনকি এতে বঙ্গ ও পাঞ্জাবের মুসলমানদের সংরক্ষিত আসুন এরে দাবিও ও উপেক্ষিত হয়। ফেলে এ রিপার্ট হিন্দু-মসলিম ঐক্য প্রচেষ্ঠার মূলে, কাঠারঘাত করে এবং এরপরেই ১৯২৯ সালের জানুয়ারি মাসের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের দাবি সংরক্ষণও জাতি স্বার্থ রক্ষার্থে ঐতিহাসিক চৌদ্দ দফা পেশ করেন।

এর অন্যতম দফা ছিল কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুনলমানদের জন্য অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ আসর রাখা। মুসলমানদেরকে সরকারি এবং অন্যান স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে যোগ্যতানুযায়ী নিয়োহ করা ইত্যাদি। কিন্তু এ প্রস্তাবহমূহ হিন্দ নেতৃবৃন্দ কিছুতেই গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না। এর পর হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি ক্রমশ স্বতন্ত্রধারায় অগ্রসর হতে থাকে।

৭. ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন

১৯৩২ সালে প্রথমবারের মতো শ্রমিক দলের নেতা রামজে ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে গঠিত হয়। শ্রমিক দল ভারতের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারে বিশ্বাসী ছিল বিধায় তারা ১৯৩২ সালে ‘সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ’ ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে ভারতের মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনোধিকারের এবং বিধান পরিশোধগুলোতে সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৫ সালে ‘ভারত শাসন আইন’প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মধ্যে প্রথমবারের মতো সীমিত আকারের হলেও ভারতীয় উপমহাদেশ গুলোতে সাহিত্য শাসন প্রবর্তন করা হয়।

কিন্তু এই আইনের দ্বারা সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে আইনসভার সদস্য পদ বন্টনের যে অবস্থা করা হয়, তা কংগ্রেস পছন্দ করেনি। অপরদিকে, কেন্দ্রীয় আইন সভায় মুসলমানগণ চিরতরে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে এবং কেন্দ্রে হিন্দু প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা হবে-তা মুসলমান নেতৃবৃন্দ মেনে নেয়নি।

৮. গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থতা

ব্রিটিশ ভারত সংবিধান সমস্যা সমাধান, জনগণের উত্তেজনা প্রশমন হিন্দু মুসলমান বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার লন্ডনে ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে তিনটি গোল টেবিল বৈঠক আয়োজন করে। ১৯৩০, ১৯৩১ ও ১৯৩২ সালে এই তিনটি বৈঠক বসে।

ব্রিটিশ সরকার, ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, কংগ্রেস প্রথম ও দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠক বর্জন করে। অন্য বৈঠকেও কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের একগুয়েমির এর কারণে সম্প্রদায়গত স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইন সভার প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নের গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয়।

কংগ্রেস কর্তৃক মুসলমানদের ন্যূনতম দাবি মেনে না নেওয়ার কারণে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে এ বোধোদয় হয় যে , কংগ্রেসের নেতৃত্বে অবিভক্ত ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার সম্ভাব নয়। ফলে তারা মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

৯. দ্বিজাতিতত্ত্ব

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় ১৯৩৭ সালে ভারতের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ কংগ্রেস এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশের মুসলিম লীগের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, সেসব প্রদেশ বসবাসকারী মুসলমানদের উপর অবিচার ও নিপীড়ন চলতে থাকে। এর ফলে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পুনরায় সম্প্রদায়িকতা মাথা চারা দিয়ে ওঠে।

এর উপস্থিতিতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাত তার বহুল আলোচিত ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’ ঘোষণা করেন। এ এ তত্ত্বের দ্বারা তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দুটি প্রধান ও স্বতন্ত্র জাতি। এদের জীবন দর্শন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং তাদের আবাস ভূমি ও হবে ভিন্ন। জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে মূলত লাহোর প্রস্তাব পরিচিত হয়।

উপসংহার

১৯৪৭ সালে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয় পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্বাধীন পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু মূল লাহোর প্রস্তাবে একটি অখন্ড মুসলিম রাষ্ট্র বা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়নি। এই ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি।

লেখকের মন্তব্য

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা কর এই বিষয়ে আমরা সমস্ত তথ্য তুলে ধরেছি। তবে এখানে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে যে তথ্যগুলো আপনাদের জানা প্রয়োজন। আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে আমি এখানে আরো তথ্য আপডেট করতে পারি। নিচের মন্তব্য করুন অপশনে ক্লিক করে আপনার মূল্যবান মন্তব্যটি করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু-বান্ধব অথবা স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করে রাখুন। এই রকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ইভিভিটিভি ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন। অথবা ইমেইল এর মাধ্যমে নোটিফিকেশ পেতে নিচে ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রায়িব করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url