লেখ্য ভাষা | সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য
ক্লাসে একজন বাংলা শিক্ষাক ক্লাশ রুমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেলেন " আজকে বাংলা ভাষার ভিতরের ভাষা শিখব” আরোশি অবাক হয়ে জিঙ্গেস করলো "স্যার, ভাষার আবার ভিতর-বাহিরের ভাষা আছে না কি? স্যার মুচকি হেসে বোর্ডে লিখলেন লেখ্য ভাষা, সাধু চলিত ভাষা; আর সেখানে থেকে শুর হলো তাগের নতুন গল্প।
আপনি যদি লেখ্য ভাষা এবং সাধু আর চলিত ভাষা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনি শুধু এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
লেখ্য ভাষা কাকে বলে?
লেখ্য ভাষা হলো ভাষার লৈখিক রূপ। যে ভাষা কাগজে-কলমে লেখা হয় কিংবা সাহিত্যচর্চা, বই-পুস্তক সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত হয় তাই লেখ্য ভাষা। লেখ্য ভাষা মার্জিত, শুদ্ধ ও ব্যাকরণসিদ্ধ। লেখ্য ভাষার দুটি রীতি রয়েছে। সাধু ভাষারীতি ও প্রমিত লেখ্য বা চলিত ভাষা রীতি।
সাধু ভাষারীতি
উনিশ শতকে বাংলার যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা। রাজা রামমোহন রায়ের মতে ‘সাধু সমাজের লোকেরা যে ভাষা কহেন ও শোনেন সেই ভাষায় সাধু ভাষা।’ অর্থাৎ বাংলা গদ্য সাহিত্যে বিবাহিত সংস্কৃত শব্দবহুল সুষ্ঠ, মার্জিত, সর্বজনবোধ অথচ নিয়মবদ্ধ ও কৃত্রিম ভাষারূপ হল সাধু ভাষা। যেমন: তখন তাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবার জন্য উকিলবাবু গোত্রোত্থুান করিলেন।
সাধুভাষার বৈশিষ্ট্য
- সাধুভাষা গুড়গম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধুভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- অসমাপিকা ক্রিয়ার কোনোরকম ব্যবহৃত হয়।
- সাধুভাষার অনুসর্গ অন্যরূপের ব্যবহৃত হয়।
- এ ভাষায় সন্ধি ও সমাসবদ্ধ শব্দের প্রাধান্য থাকে।
- সাধুভাষা ও মার্জিত ও সর্বজনবোধ কিন্তু বহুলাংশে কৃত্রিম।
- সাধুভাষা বক্তৃতা, কথোপকথন ও সংলাপের অনুপযোগী।
- সাধুভাষা ব্যাকরণ এর নিয়ম পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করে।
- সাধুভাষা পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
প্রমিত লেখ্য বা চলিত ভাষারীতি
মানুষের মুখের কথার মার্জিত লিখিত রূপী হচ্ছে প্রমিত লেখ্য ভাষা। কলকাতা এবং ভাগীরথী তীরবর্তী অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষা শিক্ষিত বাঙালি সমাজ কর্তৃক গৃহীত হয়ে প্রমিত লেখ্য ভাষারীতি বিকাশ ঘটেছে।
প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ সাহিত্যিকগণ সাধু ভাষার বলই থেকে বাংলা সাহিত্যের ভাষাকে প্রমিতকরণ করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের প্রমিত লেখ্য রীতির প্রচলন শুরু হয়। এ সময় প্রগতিশীল লেখক তৎসম শব্দবহুল সাধুভাষার গদ্যকে নিছক পন্ডিত গদ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে জনসাধারণের মুখের ভাষা বা কথ্য ভাষা ব্যবহার করে গদ্য লেখা শুরু করেন।
প্যারীচাঁদ মিত্রের “আলালের ঘরে দুলাল” -এর প্রথম প্রয়াস। তারপর কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হুতুম প্যাঁচার নকশা’ এ প্রয়াস কে আরও গতিশীল করে। এ দুটো রচনাতেই খাঁটি বাংলা কথ্য ভাষার ব্যবহার থাকাই সুধীমহলে এ ভাষা গৃহীত হয়ানি। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার চিঠিপত্র ও ডায়েরীতে এ বাসায় কে গ্রহণ করাই সুধীমহলে সাড়া পড়ে যায়।
১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার মাধ্যমে প্রমিত কথ্য ভাষাকে পুরোপুরি লেখ্য ভাষা হিসেবে মর্যাদার আসনে স্থান দেন। প্রমথ চৌধুরী লিখলেন, ‘শুধু মুখের কথাই জীবন্ত। যতদূর পারা যায়, যে ভাষায় কথা কই সে ভাষায় লিখতে পারলেই লেখা প্রাণ পায়।’ তারপর থেকে কমান্বয়ে প্রমিত ভাষা হয় সাহিত্য রচনার প্রধান ভাষা। বর্তমানে সাহিত্য, পাঠকপ্রস্তাক, সংবাদপত্র ছাড়াও সর্বক্ষেত্রে প্রমিত লেখ্য ভাষার একচেটিয়া প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রমিত বা চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য
- চলিত ভাষা তদ্ভব, দেশী ও বিদেশী শব্দবহুল।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের সংক্ষিপ্ত ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষায় কতিপয় বিশেষ্য ও বিশেষণ পদেরও সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহারিত হয়।
- চলিত ভাষার সাবলীল, চঞ্চল ও পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, কথোপকথন ও সংলাপের উপযোগী।
সাধু ও চলিত ভাষারীতির পার্থক্য
| ক্রম | সাধুভাষা | চলিত ভাষা |
|---|---|---|
| ১ | সাধুভাষায় তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: পক্ষী, হস্তী, সৌষ্ঠব, কেদারা। | চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি, বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক। যেমন: পাখি, হাতি, গঠন, চেয়ার। |
| ২ | সাধুভাষায় সমাসবদ্ধ শব্দ অধিক ব্যবহৃত হয়। যেমন: কাজলকালো, নববর্ষ, ভাবোদয়। | চলিত ভাষায় সমাস ভেঙে সহজ বা তদ্ভব রূপে ব্যবহার করা হয়। যেমন: কাজলের ন্যায় কালো, নতুন বছর, ভাবের উদয়। |
| ৩ | ক্রিয়াপদ পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাইতেছিলাম, হাঁটিতেছি, করিয়াছি। | ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্তরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যাচ্ছিলাম, হাঁটছি, করেছি। |
| ৪ | সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তাহাদিগকে, ইহাকে, কাহাকে। | সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তাদের, একে, কাকে। |
| ৫ | অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহার করা হয়। যেমন: হইতে, অপেক্ষা, দ্বারা, নিমিত্ত। | অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়। যেমন: হতে, চেয়ে, দিয়ে, জন্য। |
| ৬ | বক্তৃতা, কথোপকথন ও নাটকের সংলাপের অনুপযোগী। | বক্তৃতা, কথোপকথন ও নাটকের সংলাপের উপযোগী। |
| ৭ | বহুভাষণ প্রশংসিত। | মিতভাষণ সমাদৃত। |
| ৮ | গুরুগম্ভীর, কৃত্রিম ও প্রাচীন নির্ভর। | চটুল, স্বাভাবিক ও যুগোপযোগী। |
শব্দশ্রেণি অনুযায়ী সাধু ও চলিত রীতি
| শব্দশ্রেণি | সাধুরীতি | চলিত রীতি |
|---|---|---|
| সমাপিকা ক্রিয়া | করিয়াছিলাম, হইয়াছিল, করিতেছি, খাইয়াছে, শুনিল, বলিলাম | করছি, খেয়েছে, শুনল, বললাম, করেছিলাম, হয়েছিল |
| অসমাপিকা ক্রিয়া | করিয়া, যাইতে, হইতে, বলিলে, হইবার, খাইলে, খাইবার | করে, যেতে, হতে, বললে, হবার, খেলে, খাবার |
| সর্বনাম | কাহার, তাহার, যাহার, তাহাদের, কাহারা, উহার, উহাদের | কার, তার, যার, তাদের, কারা, ওর, ওদের |
| বিশেষ্য | রবিবার, কলিকাতা, সজিনা, সন্ধ্যা | রোববার, কলকাতা, সজনে, বিকেল, সন্ধে |
| অনুসর্গ | চাইতে, দ্বারা, নিকটে, হইতে, অপেক্ষা, তদপেক্ষা | চেয়ে, দিয়ে, কাছে, হতে, তারচেয়ে |
| অব্যয় (যোজক) | বরণ্য, তথাপি, অদ্যাপি, নচেৎ, তথায়, যদ্যপি | বরং, তবুও, আজও, নইলে, সেখানে, যদিও |
| সমাসবদ্ধ শব্দ | রাজাজ্ঞা, বহুদিনান্তরে, দামেস্কাধিপতি, মনুষ্যবংশ | রাজার হুকুম, অনেক দিন পরে, দামেস্কের অধিপতি, মানুষের বংশ |
| সন্ধিবদ্ধ শব্দ | গাত্রোত্থান, প্রত্যাবর্তন, মনস্কামনা, প্রত্যুত্তর, রসাভিষিক্ত | গা তোলা, ফিরে আসা, মনের ইচ্ছা, প্রতি উত্তর, রসে অভিষিক্ত |
| তৎসম/তদ্ভব | মৃত্তিকা, পক্ষী, দ্বিপ্রহর, কর্ণ, হস্ত, ভ্রাতা | মাটি, পাখি, দুপুর, কান, হাত, ভাই |
সাধু ও চলিত ভাষারীতির রূপান্তরের নমুনা
- ১. সাধুভাষা: মার্জারী কমলাকান্তকে চিনত; সে যষ্টি দেখিয়া বিশেষ ভীত হওয়ার কোন লক্ষণ প্রকাশ করিল না। কেবল আমার মুখপানের চাহিয়া হাই তুলিয়া, একটু সরিয়া বসিল। বলিল, “মেও!” প্রশ্ন বুঝিতে পারিয়া যষ্টি ত্যাগ করিয়া পুনরপি শয্যায় আসিয়া গুঁকা লইলাম। তখন দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হইয়া, মার্জারের বক্তব্য সকল বুঝাতে পারিলাম।
- চলিত ভাষা: মার্জারী কমলাকান্ত কে চিনত, সে লাঠি দেখে বিশেষ ভীত হবার কোন লক্ষণ প্রকাশ করণ না। কেবল আমার মুখপানে চেয়ে হাই তুলে, একটু সরে বসল। বলল, “মেও!” প্রশ্ন বুঝতে পেরে লাঠি ত্যাগ করে আবার শয্যায় এসে হুঁকা নিলাম। তখন দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে, মার্জারের সব কথা বুঝতে পারলাম।
আরো পড়ুন: অধ্যাপস্যায় রচনা ২০ পয়েন্ট উক্তিসহ
- ২. সাধুভাষা: আমি আর সহ্য করিতে না পারিয়া বলিলাম, “থাম!থাম সার্জারপন্ডিতে! তোমার কথাগুলি ভারি সোশিয়ালিস্টিক! সমাজবিশৃঙ্খলার মূল! যদি যাহার যত ক্ষমতা, সে তত ধনসঞ্চয় করতে না পায়, অথবা সঞ্চয়ী করিয়া চোরের জ্বালায় নির্বিঘ্নে ভোগ করিতে না পায়, তবে কেহ আর ধন সঞ্চয়ের যত্ন করিবে না। তাহাতে সমাজের ধনবৃদ্ধি হইবে না।
- চলিত ভাষা: আমি আর সহ্য করতে না পেরে বললাম, “থামো! থামো মার্জারপন্ডিত! তোমার কথাগুলো খুবই সোশ্যালিস্টিক! সমাজ শৃংখলার মূল। যদি যার যত ক্ষমতা শেষ তত ধনসঞ্চয় করতে না পারে, অথবা সঞ্চয় করে চোরের জ্বালাই নির্বিঘ্নে ভোগ করতে না পারে তবে কেউ আর ধন সঞ্চয়ী যত্ন করবে না। তাদের সমাজের ধনবৃদ্ধি হবে না।”
- ৩. সাধুভাষা: হরিমের কাছে শুনিয়াছি,মেয়েটাকে আমার ফটোগ্রাপ দেখানো হয়েছিলো। পছন্দ করিয়াছে বৈকি। না করিবার তো কোনো কারণ নেই । আমার মন বলে, সে ছবি তার কোনএকটি বাক্সের মধ্যে লুকানো আছে। একলা ঘরে দরজা বন্ধ করিয়া এক-একদিন নিরালা দুপুরবেলায় সে কি সেটি খুলিয়া দেখে না! যখন ঝুঁকিয়া পড়িয়া দেখে তখন ছবিটির উপরে কি তার মুখের দুই ধার দিয়া এলোচুল আসিয়া পড়ে না! হঠাৎ বাহিরে কারো পায়ের শব্দ পাইলে সেই কি তড়াতাড়ি তার সুগন্ধ আঁচলের মধ্যে ছবিটিকে লুকিয়া ফেলে না?
- চলিত ভাষা: হরিশের কাছে শুনেছি, মেঢেটিকে আমার ফটোগ্রাফ দেখানো হয়েছিলো। পছন্দ করেছে বৈকি। না করার তো কোনো কারণ নেই। আমার মন বলে, সে ছবি তার কোন একটি বক্সের মধ্যে লুকানো আছে। একলা ঘরে দরজা বন্ধ করে এক-একদিন নিরালা দুপুরবেলায় সে কি সেটি খুলে দেখেনা! যখন ঝোঁকে পড়ে দেখে তখন ছবিটির উপর কি তার মুখের দুই ধার দিয়ে এলোচুল এসে পড়ে না! হঠাৎ বাহিরে কারো পায়ের শব্দ পেলে সে কি তাড়াতাড়ি তার সুগন্ধ আঁচলে মধ্যে ছবিটিকে লুকিয়ে ফেলে না!
- ৪. সাধুভাষা: এবার সেই সুরটিকে চোখে দেখিলাম; তখনো তাহাকে সুর বলিয়াই মনে হইল। মায়ের মুখের দিকে চাহিলাম; দেখিলাম তাঁর চোখে পলক পড়িতেছে না। মেয়েটির বয়স ষোলো কি সতেরো হইবে, কিন্তু নবযৌবন ইহার দেহের মনে কোথাও যেন একটু ভার চাপিয়া দেয় নাই। ইহার গতি সহজ, দিপ্তি নির্মল, সৌন্দর্যের শুচিতা অপূর্ব, এর কোন জায়গা কিছু জরিমা নেই।
- চলিত ভাষা: এবার সেই সুরটিকে চোখে দেখলাম; তখনো তাকে সুর বলেই মনে হল। মায়ের মুখের দিকে চাইলাম; দেখলাম তাঁর পলক পরছে না। মেয়েটির বয়স ষোলো কি সতেরা হবে, কিন্তু নবযৌবন এর দেহে মনে কোথাও যেন একটুও ভার চাপিয়ে দেয়নি। এর গতি সহজ, দীপ্তি নির্মল, সৌন্দর্যের সুচিত্রা অপূর্ব, এর কোন জায়গায় কিন্তু জরিমা নেই।
- ৫. চলিত ভাষা: আমরা পৌঁছে খবর পেলাম জাহাজ ছেড়ে চলে গেছে। এখন উপায়? কোথায় আমাদের নিয়ে যাবে? রাত একটাই আর একটা জাহাজ ছাড়বে। আমাদের নারায়ণগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হল। উপর ওয়ালাদের টেলিফোন করল এবং হুকুম নিল থানায় রাখতে। আমাদের পুলিশ ব্যারাকের একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হল।
- সাধু ভাষা: আমরা পৌঁছেয়াই খবর পেলাম জাহাজ ছাড়িয়া চলিয়া গিয়েছে। এখন উপায়? কোথায় আমাদিগকে লইয়া যাইবে। রাত একটাই আর একটা জাহাজ ছাড়িবে। আমাদেরকে নারায়ণগঞ্জ থানায় লইয়া যাওয়া হইল। উপরওয়ালাদের টেলিফোন করিল এবং হুকুম লইলো থানাতে রাখিতে। আমাদিগকে পুলিশ ব্যারাকের একটি ঘরে লইয়া যাওয়া হইল।
- ৬. চলিত ভাষা: মিলিটারি এখন যাবতীয় গাড়ি থামাচ্ছে। গাড়ির প্যাসেঞ্জারদের নামের দাঁর করিয়ে দেয় রাস্তার ধরে। আরেকদল মিলিটারির স্ট্যান্ড গান তাক করিয়া রাখিয়াছে এই মানুষের সারির উপর। অন্য একটি দল ফের ওইসব লোকের জামাকাপড় ও শরীরের গোপন জায়গাগুলো তল্লাশি করে। মিলিটারি যাদের পছন্দ করিতেছে তাহাদেরে লইয়া দিতেছে পিছনে দাঁড়ানো একটি লরির দিকে। তাহাদের বাসটিতে উঠিল লম্বা ও খুব ফর্সা এক মিলিটারি।
- সাধুভাষা: মিলিটারি এখন যাবতীয় গাড়ি থামাচ্ছে। গাড়ির প্যাসেঞ্জারদের নামিয়া দাঁড় করিয়ে দেয় রাস্তার ধারে। আরেক দল মেলেটারি করিয়া রাখিয়াছে সেই মানুষদের সরির ওপর। অন্য একটি দল ফের ওইসব লোকেদের জামা কাপড় ও শরীরের গোপন জায়গাগুলিতে তল্লাশি করে। মিলিটারি যাহাদের পছন্দ করিতেছে তাহাদের লইয়া দিতেছে পেছনে দাঁড়ানো একটি লজের দিকে। তাহাদের বাসটিতে উঠিল লম্বা ও খুব ফর্সা এক মিলিটারি।
- ৭. চলিত ভাষা: বাড়ি ফিরবার পথে গায়ে জ্ববরাবার জন্য তাহারা যে আটপৌরে সাধারণ চাদর নিয়ে এসেছিল সে তার কাধের ওপর সেটি ছড়িয়ে দেয়। ‘বল’ নাচের পোশাকে অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐটির দারিদ্র সুপরিস্ফুট হয়ে উঠছিল। মেয়েটি তা অনুভব করতে পেরে তাই অন্য যেসব ধনী মেয়ে দামি পশমির চাদর দিয়ে পা ঢেকে ছিল তাদের চোখে না পড়বার জন্য সে তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে লাগল।
- সাধুভাষা: বাড়ি ফিবার পথে গায়ে জ্বরাবার জন্য তাহার যে আটপৌরে সাধারণ চাদর লইয়া আসিয়াছিল সে তাহার স্বকান্ধের উপরে তাহা ছড়িয়া দেয়। ‘বল’ নাচের পোশাকে অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐটির দরিদ্র সুপরিস্ফুট হইয়া উঠিতেছিল। মেয়েটি তাহা অনুভব করিতে পারিয়া ছিল তাই অন্য যেসব ধনী মেয়ে দামি প্রশমিতি চাদর দিয়া ঢাকিয়া ছিল তাহাদের চোখে না পরিবারের জন্য সে তাড়াতাড়ি আগাইয়া যাইতে লাগিল।
লেখকের মন্তব্য
লেখ্য ভাষা এবং সুধু ও চলিত ভাষা সম্পর্কে বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়েন তাহলে আপনি সাধু ও চলিত ভাষা সম্পর্কে আরো গভীরভাবে জানতে পারবেন। আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধুদের কাছে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন।
আপনার ক্লাসমেটদের কাছে শেয়ার করুন যাতে তারাও এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারে। আর্টিকেলটি পরবর্তীতে পেতে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে শেয়ার করে রাখুন। আপনার যদি কোন মতামত থাকে নিচে মন্তব্য করুন ওখানে ক্লিক করে আপনার মূল্যবান মতামত জানিয়ে দিন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে ইভিভিটিভি ওয়েবসইটটি প্রতিদিন ভিজিট করুন।


ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url