ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড সুবিধা ও অসুবিধা
আপনি যদি ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন বা আপনি যদি ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চান এ আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করেছি ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড সুবিধা ও ও অসুবিধা নিয়ে। এছাড়াও ব্যাংক এশিয়া সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড সকল তথ্য জানতে পড়তে থাকুন।
ইভিভিটিভি
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড সুবিধা
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আর সেই তালিকায় অন্যতম জনপ্রিয় একটি নাম হলো ব্যাংক এশিয়া ক্রেটি কার্ড। আপনি ও যদি ক্রেডিট কার্ড নিতে চান, তাহলে ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা কী তা জানা প্রয়োজন।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারকারীরা নিজের সুবিধা গুলো পেয়ে থাকেন:
- সুদমুক্ত: ২০-৪৫ দিন পর্যন্ত সুদ মুক্ত কেনাকাটা করা যায়।
- EMI সুবিধা: জিরো পার্সেন্ট ইএমআই (০% প্রযুন্ত) সুবিধা পাওয়া যায়।
- দ্বৈত মুদ্রা: এই কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশি টাকা এবং ইউএসডি দুটোই ব্যবহার করতে পারবেন।
- রিওয়ার্ড পয়েন্ট: ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কোন কিছু কিনলে সেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছু রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া থাকে। পরবর্তীতে এরইভার পয়েন্ট গুলো কাজে আসে।
- সহজ পেমেন্ট: সহজ কিস্তিতে পণ্য কেনাকাটা করার সুবিধা পাওয়া যায়।
- ডিসকাউন্ট ক্যাশব্যাক: এই কার্ডের মাধ্যমিক কেনাকাটা করলে অনেক ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। এছাড়াও এই কার্ড দিয়ে অনলাইনে ই-কমার্স সাইটগুলোতেও পেমেন্ট করা যায়।
- নিরাপত্তা: এই কার্ডে উন্নত মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে যা প্রতিটি লেনদেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।
- ক্যাশ উইথড্রায়াল: এটিএম-এর মাধ্যমে ১০০% ক্যাশ পেট্রোল সুবিধা (শর্ত প্রযোজ্য)।
- লাউঞ্জ সুবিধা: আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরের বালকা লাউঞ্জ এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য ২ বার আন্তর্জাতিক লউঞ্জ ব্যবহার করার সুবিধা।
এছাড়াও বাই ওয়ান গেট ওয়ান এর অনেক সুবিধা আছে। এই সকল সুবিধা ছাড়া আরো অনেক সুবিধা রয়েছে। তবে যেমন ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড সুবিধা রয়েছে তেমনি অসুবিধা রয়েছে।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ডের অসুবিধা কি?
ব্যাংক এশিয় ক্রেডিট কার্ডের প্রধন অসুবিধা উচ্চ সুদ, লেট ফি প্রদানে অতিরিক্ত চার্জ + ভেট, অতিরিক্ত খরচে ঝুঁকি এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রানজেকশনের সিমাবদ্ধতা।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ডের অসুবিধা গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- চার্জ ও উচ্চ ফিস: সঠিক সময় বিল পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত চার্জ সাথে ভ্যাট দিতে হয়, উচ্চহারে সুদ প্রদান করতে হয়।
- লেনদেনের সীমাবদ্ধতা: অনেক সময় অন্যান্য ব্যাংক (ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক) ব্যাংক থেকে এটিএম এর মাধ্যমে টাকা তুলতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
- বিল পরিশোধের অতিরিক্ত চার্জ: আপনি যখন বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করেন, প্রতি ট্রানজেকশনে ৪৭ টাকা বা আপনার লেনদেনের উপর ভিত্তি করে ট্রানজেকশন ফি আলাদা হতে পারে। এটি সাশ্রয়ী গ্রাহকদের জন্য বড় অসুবিধা।
- কল সেন্টার ও কাস্টমার সার্ভিস: আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি অনেক ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন প্রয়োজনে ব্যাংকের হটলাইনে (১৬২০৫) কল দিলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, এছাড়াও অনেক কল কানেক্ট করতে সমস্যা হয়। এছাড়াও অনেকে ব্যবহারকারী যখন ই-মেইলের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পেতে চাই তখন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানতে পেরেছি।
- রিওয়ার্ড পয়েন্ট রিডেম্পশন: আমি আরো জানতে পেরেছি কিছু গ্রাহকের মতে কার্ডে জমা থাকা রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহারের বা ক্যাশ করার প্রক্রিয়াটা খুবই জটিল। আবার নির্দিষ্ট পরিমাণে রিওয়ার্ড পয়েন্ট থাকলেও আকর্ষণীয় অপশন এর অভাব।
- ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন: অনেক সময় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হলেও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট (যেমন: google play store বা বিদেশি ওয়েবসাইটে) করার সময় ডলার এনডোর্সমেন্ট বা কল করে ব্যাংক এশিয়া থেকে পারমিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার নিয়ম
সকল সুবিধা অসুবিধা জানার পর ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে জানতে হবে ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার নিয়ম। প্রতিটা ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য কিছু নিয়ম কিছু শর্তবলীর প্রয়োজন হয়।
ব্যাংক এশিয়া থেকে ক্রেডিট কার্ড পেতে ন্যূনতম ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা বেতনের চাকরিজীবী হতে হবে অথবা পর্যাপ্ত লেনদেনের ব্যবসায়ী হতে হবে। আব্দুল কাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে এক বছর এর ব্যাংক স্টেটমেন্ট সেলারি স্লিপ ছবি সহ নিকটস্থ ব্যাংক এশিয়া শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার নিয়ম ও যোগ্যতা:
- বয়স: ব্যাংক এশিয়া থেকে ক্রেডিট কার্ড পেতে সাধারণত সর্বনিম্ন ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- আয়: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বেতন ৩০,০০০ টাকা হতে হবে। গার্মেন্টস কর্মকর্তাদের জন্য সর্বনিম্ন বেতন হতে হবে ৩৫,০০০ টাকার প্রয়োজন হতে পারে।
- চাকরির অভিজ্ঞতা বা স্থায়িত্ব: ব্যাংক এশিয়ার ক্রেডিট কার্ড পেতে আপনার চাকরির ধরন এবং চাকরির স্থায়িত্বের উপর নির্ভর হতে পারে।
আপনি যদি প্রতিদিন বা প্রতি মাসে অনেক বেশি লেনদেন করে থাকেন তাহলে ক্রেডিট কার্ড আপনার জন্য সঠিক হতে পারে।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পেতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে?
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পেতে ডকুমেন্টস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জন্য ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড পেতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে এ বিষয়টিও জানা প্রয়োজন। আপনি যদি ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করতে চান তাহলে নিম্নলিখিত ডকুমেন্টসগুলো সংগ্রহ করুন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
- আবেদনকারীর ছবি: ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের সাইজের রঙিন ছবি।
- জাতীয় পরিচয় পত্র: আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।
- ঠিকানা প্রমাণপত্র: ঠিকানা প্রমাণের জন্য বাসাবাড়িরে বিদুৎ বিলের ফটোকপি এবং গ্যাসবিলের ফটোকপি।
- স্যালারি রশিদ: আপনি যদি সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবী হন তাহলে সেলারি রশিদ। ব্যবসায়ী হলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
- টিন সঠিফিকেট: আপনি ব্যবসায়ী হলে E-Tin সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড চার্জ
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন তা হলেও ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড চার্জ। অনেক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে চার্জ আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ সুবিধা এবং অসুবিধা এই ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড চার্জ দেখলেই বোঝা যাবে।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ডের চার্জ বাৎসরিক সর্বনিম্ন ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত হয়। বিকাশ বা নগদে তে অ্যাডমিনি করা গেলেও ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১% যা নিজস্ব ব্যাংকে 5 টাকা 75 পয়সা এবং অন্যান্য ব্যাংকে ১১ টাকা ১২ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এখানে বার্ষিকী মাফ করতে রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড চার্জ (সহজভাবে সম্পূর্ণ তথ্য)
ব্যাংক এশিয়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে কিছু নির্দিষ্ট চার্জ দিতে হয়। নিচে সব গুরুত্বপূর্ণ চার্জ সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
- বার্ষিক ফি (Annual Fee)
- বছরে একবার কাটা হয়
- Classic Card: ৳500-৳1,000
- Gold/Platinum: ৳1,500-৳3,000
- নির্দিষ্ট খরচ করলে অনেক সময় ফ্রি (Waiver) পাওয়া যায়
সুদের হার (Interest Rate)
- বিল পুরো পরিশোধ না করলে সুদ লাগে
- মাসে: প্রায় 2%-2.5%
- বছরে: প্রায় 24%-30%
- সময়মতো পুরো বিল দিলে সুদ দিতে হয় না
লেট পেমেন্ট চার্জ (Late Fee)
- নির্ধারিত সময়ের পরে টাকা দিলে
- চার্জ: প্রায় ৳300-৳1,000+
- মিনিমাম পেমেন্ট
- পুরো বিল না দিলে কমপক্ষে 5%-10% দিতে হয়
- বাকি টাকার ওপর সুদ লাগবে
ক্যাশ অ্যাডভান্স চার্জ
- ATM থেকে টাকা তুললে
- চার্জ: 2%-3% (ন্যূনতম ৳300-৳500)
- সঙ্গে সঙ্গে সুদ শুরু হয় (গ্রেস পিরিয়ড নেই)
ওভার লিমিট চার্জ
লিমিটের বেশি খরচ করলে
- চার্জ: প্রায় ৳500-৳1,000
- ফরেন ট্রানজ্যাকশন চার্জ
- বিদেশে বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করলে
- চার্জ: 2%-3.5%
কার্ড রিপ্লেসমেন্ট ফি
কার্ড হারালে বা নতুন নিতে চাইলে
- চার্জ: প্রায় ৳300-৳1,000
- স্টেটমেন্ট চার্জ
- পুরনো স্টেটমেন্ট নিলে কিছু ক্ষেত্রে চার্জ লাগতে পারে
কিভাবে চার্জ কমাবেন?
- সময়মতো পুরো বিল পরিশোধ করুন
- ATM থেকে টাকা তোলা কমান
- লিমিটের মধ্যে খরচ করুন
- অফার/ওয়েভার ব্যবহার করুন
শেষ কথা
ব্যাংক এশিয় ক্রেডিট কার্ড সুবিধা ও অসুবিধা এবং ক্রেডিট কার্ড পেতে প্রয়োজনিয় তথ্য এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আরো যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে চান তাহলে আমাদের েইভিভিটিভি ওয়েবসাইট প্রয়োতিদিন ভিজিটচ করুন। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। আপনি যদি আরো কোন তথ্য জানতে চান তাহলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমরা প্রতিটা কমেন্ট গুরুত্বদেই।



ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url