জুতা আবিষ্কার কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর রচনামূলক

জুতা আবিষ্কার কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর যদি আপনি খুশি থাকেন তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকে আপনি এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে জানতে পারবেন জুতা আবিষ্কার কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন। এখানে অনুশীলনী মূলক প্রশ্ন ও উত্তর এবং পরীক্ষায় কমন পেতে আরো প্রশ্ন ও উত্তর।
জুতা-আবিষ্কার-কবিতার-সৃজনশীল-প্রশ্নের-উত্তর
আর্টিকেলটির মাধ্যমে তুলে। ধরা যাদের বই নেই তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পতে পারে।
সূচিপত্র

জুতা আবিষ্কার কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

প্রথমেই অনুসরণী মূলক প্রশ্ন ও উত্তর লেখ এরপর পর্যায়ক্রমে পরীক্ষায় কমন আসতে পারে এমন আরো প্রশ্ন ও উত্তর। তবে নিম্নলিখিত এই প্যাটার্ন গুলো অনুযায়ী আসতে পারে। তবে আপনি যদি বোর্ড বই থাকে তাহলে সেখানে থেকে দেখে নিম্নিলিখিত জুতা আবিষ্কার কবিতা প্রশ্ন গুলো ভালো ভাবে মিলিয়ে নিবেন।

উদ্দীপক: জয়া বিদ্যালয়ের চাল ফুটো হয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ছে। জেলা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শনে এলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাঁর নজরে আনেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং বলেন, অচিরেই তিনি এ ব্যাপারে উপরে লিখবেন। অনুমোদন পেলে বাজেট করে পাঠিয়ে দিবেন। তাই তাকে আগামী বাজেট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। জেলা বোর্ড কর্মকর্তার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি এলাকায় আলোচিত হলে বেকার-ভবঘুরে যুবক সোহেলকে বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে। সে তার বন্ধুদের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে দ্রুত স্কুল ঘরের সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করে।

ক. রাজা হবু ধূলি দূর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কাকে?
খ. জলের জীব জল বিনা মরল কেন?
গ. জেলা বোর্ড কর্মকর্তার সাথে 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায়ের সাদৃশ্যগত দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'সমাজের উপেক্ষিতদের মাধ্যমেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব'- বিষয়টি উদ্দীপক ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
জুতা-আবিষ্কার-কবিতার-সৃজনশীল-প্রশ্নের-উত্তর

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. উত্তর: রাজা হবু ধূলি দূর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মন্ত্রী গোবুরায়কে।

খ. উত্তর: রাজ্যের ধুলা দূর করতে সমস্ত জল ব্যবহার করায় জলের অভাবে জলের জীব মারা পড়ে।

রাজার আদেশে ধুলা দূর করতে মন্ত্রী ও পণ্ডিতবর্গের পরামর্শে সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাঁটা কিনে রাজ্যে ঝাঁট দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। এতে গোটা রাজ্য ধূলিময় হয়ে নানা বিপত্তি দেখা দেয়। পরে সে ধুলা দূর করতে মশক কাঁখে একুশ লাখ ভিস্তি নদী খাল বিলে নেমে জল তুলে রাজ্যময় ঢালতে শুরু করে। জলাশয়ের জল ডাঙায় ঢালার কারণে জলের অভাবে সেখানকার প্রাণিকুল মারা যায়।

উত্তরের সারবস্তু: রাজ্যের ধুলা দূর করতে সমস্ত জল ব্যবহার করায় জলের অভাবে জলের জীব মারা পড়ে।

গ. উত্তর: উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তা ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায় উভয়েই কাণ্ডজ্ঞানহীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় ধুলা দূর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গোবুরায়ের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় পাওয়া যায়। তার নানা রকম প্রচেষ্টায় ধুলো তো দূর হয়ই না বরং রাজ্যময় নানা বিপত্তির উদ্ভব হয়। উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তার মধ্যেও কর্তব্যজ্ঞানের অভাব লক্ষ করা যায়।


ঘ. উত্তর: উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে জটিলতার পথে যান। ফলে কাজটির সমাধান না হয়ে বরং আরও দীর্ঘায়িত হয়। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায়ও কাজের প্রকৃত সমাধান না করে বরং বাগাড়ম্বরের সৃষ্টি করে। এদিক থেকে কবিতার গোবুরায় ও উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তা সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তা ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায় উভয়ের মধ্যেই কর্তব্যবৃদ্ধির অভাব লক্ষ করা যায়।

সমাজের উপেক্ষিত মানুষেরাও অনেক সময় নিজেদের যোগ্যতার প্রকাশ ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান এনে দিতে পারে।

কোনো সমস্যার সমাধানে কর্তব্যবুদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন সমস্যা সমাধানের প্রতি আন্তরিকতা। এ দুটোর মিশেল থাকলে যেকোনো ধরনের মানুষের পক্ষেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় আমরা দেখি কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্ত্রী গোবুরায় সমস্যার সমাধান না করে বরং সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। একইভাবে উদ্দীপকের জেলা বোর্ডের কর্মকর্তাও সমস্যার কোনো বাস্তব সমাধান দিতে পারেননি। এক্ষেত্রে নির্বুদ্ধিতার পাশাপাশি তাঁর আন্তরিকতার অভাবকেও সমানভাবে দায়ী করা যায়। তবে 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার বৃদ্ধ চর্মকার নেতা ও উদ্দীপকের ভবঘুরে বেকার যুবক সোহেলের ক্ষেত্রে আমরা বিপরীত চিত্র দেখতে পাই।

কবিতার বৃদ্ধ চর্মকার দলপতি উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেয়। উদ্দীপকের সোহেলও সমস্যার সমাধানে আন্তরিকতা ও কর্মপটুতার প্রমাণ রাখে। সমাজে উপেক্ষিত ব্যক্তিদের মাঝেও অনেক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে, বিরাজিত সেই সম্ভাবনার প্রকাশ ঘটিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানে সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া যায় উদ্দীপক ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায়।

উত্তরের সারবস্তু: সমাজের উপেক্ষিত মানুষদের মাঝেও লুকিয়ে আছে হাজারো সম্ভাবনা। আন্তরিকতা ও বিচারবুদ্ধির সংমিশলে দোৱাও দিতে। পারে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান।

পরীক্ষায় কমন পেতে আরও প্রশ্ন ও উত্তর

কামরান সাহেবের অফিসে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আসিফ। বুদ্ধিমত্তা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে অল্প সময়েই সে নিজের যোগ্যতা প্রমাণে সক্ষম হলো। কোম্পানির বাৎসরিক হিসাব করার সময় দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা সব লেজে গোবরে করে ফেলল। এসময় কাজটি সহজে করার বিষয়ে নতুন কিছু ভাবনা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে এলো আসিফ। তার নেতৃত্বে অল্প সময়েই নিখুঁতভাবে হিসাবের কাজটি সম্পন্ন হলো।

ক. দারুণ ত্রাসে মন্ত্রীর গায়ে কী বয়?
খ. "রাজ্যে মোর এক এ অনাসৃষ্টি।" কথাটি রাজার কেন মনে হলো?
গ . উদ্দীপকের কর্মীদের ব্যর্থতা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ করে? বর্ণনা করো।
ঘ . "জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় উল্লিখিত গোবুরায় উদ্দীপকের আসিফের মতো হলে কবিতায় বর্ণিত বিড়ম্বনা এড়ানো যেত”- মন্তব্যাট সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. উত্তর: দারুণ ত্রাসে মন্ত্রীর গায়ে ঘাম বয়।

খ. উত্তর: মহা ক্ষমতাধর হওয়ার পরও রাজার পায়ে ধুলা লাগায় বিষয়টিকে রাজা অনাসৃষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজা অসীম ক্ষমতার অধিকারী। জল ও স্খলের সর্বত্রই তাঁর কর্তৃত্ব বিদ্যমান। অথচ মাটিতে পা ফেলা মাত্রই তাঁর পায়ে ধুলা লেগে যায়। রাজ কর্মচারীরা মাসে মাসে মাইনে নেয়। অথচ রাজাকে এই সামান্য সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে না। সব দেখেশুনে রাজা তাই অস্থির হয়ে পড়েন। এ কারণে তাঁর মনে হয় রাজ্যে বুঝি অনাসৃষ্টি চলছে।

উত্তরের সারবস্তু: মহা ক্ষমতাধর হওয়ার পরও রাজার পায়ে ধুলা লাগায় বিষয়টিকে রাজা অনাসৃষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন।

গ. উত্তর: উদ্দীপকের কর্মীদের ব্যর্থতা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বর্ণিত রাজকর্মচারীদের ধুলা দূর করার কাজের ব্যর্থতাকেই মনে করিয়ে দেয়।

আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত রাজা হবু বড়ই চিন্তিত। মাটিতে চরণ ফেলামাত্র তাঁর পা ধুলায় ভরে যায়। তাই তিনি কর্মচারীদের কড়া হুকুম দেন, যে করেই হোক তাঁর পায়ে যাতে ধূলা লাগতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে। রাজার আদেশে ধুলা দূর করতে গিয়ে রাজ্যজুড়ে মহা গণ্ডগোল বাঁধিয়ে দেয় তারা। তাদের কর্মকাণ্ডে কখনো রাজ্য হয় ধূলায় পরিপূর্ণ, কখনো কাদায় পর্যুদস্ত। অনেক ফন্দি-ফিকির এবং চেষ্টা করেও রাজ্য থেকে ধুলা দূর করতে পারে না তারা।

উদ্দীপকের কামরান সাহেবের অফিসে বাৎসরিক হিসাব-নিকাশ চলছিল। কাজটির দায়িত্ব যারা পায় তারা এ বিষয়ে চরম অদক্ষতার পরিচয় দেয়। এ জন্য কাজটি করতে গিয়ে তারা সব লেজেগোবরে করে ফেলে। অবশেষে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার আসিফের বদৌলতে সে যাত্রায় রক্ষা পায় তারা। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায়ও আমরা রাজার হুকুম তামিল করতে গিয়ে কর্মচারীদের মহা বিড়ম্বনায় পড়তে দেখি। এভাবে উদ্দীপকের কর্মীদের ব্যর্থতা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বিধৃত রাজকর্মচারীদের ব্যর্থতার দিকটিকেই প্রকাশ করে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের কর্মীদের ব্যর্থতা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বর্ণিত রাজকর্মচারীদের ধুলা দূর করার কাজের ব্যর্থতাকেই মনে করিয়ে দেয়।

ঘ. উত্তর: 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় উল্লিখিত গোবুরায় উদ্দীপকের আসিফের মতো বুদ্ধিমান ও দক্ষ হলে কবিতায় বর্ণিত বিড়ম্বনা এড়ানো যেত বলেই আমি মনে করি।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাস্যরসের মাধ্যমে রাজার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্বুদ্ধিতা ও চাটুকারিতার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। রাজা তাঁর মন্ত্রী গোবুরায়কে রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন। রাজার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে তাঁর অনুগতরা নানা ধরনের বুদ্ধি বের করে। ঝাড় দিয়ে, পানি ঢেলে তারা ধুলা দূর করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হওয়ার বদলে উল্টো নানা রকম সংকট দেখা দেয়। উদ্দীপকের আসিফ একটি অফিসে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে সদ্য নিয়োগ পেয়েছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই নানা ক্ষেত্রে সে তার যোগ্যতার প্রমাণ রাখে। একবার কোম্পানির বাৎসরিক হিসাব-নিকাশের সময় কর্মীরা কাজ গুলিয়ে ফেললে সে বলিষ্ঠভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বর্ণিত গোবুরায়ের মাঝে এমন বুদ্ধিমত্তা ও কর্মদক্ষতার প্রমাণ মেলে না।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে তা থেকে প্রমাণিত হয় যে গোবুরায় একজন অযোগ্য ও অকর্মণ্য মন্ত্রী। রাজার আদেশ পালনের জন্য যথাযথ উপায় বের করতে সে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদের বের করা ফন্দিগুলোর পরিণতি কী হতে পারে, তা বোঝার মতো দূরদৃষ্টিও তার ছিল না। এ কবিতায় রাজার চাটুকারিতা আর অন্যের সাফল্যকে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টাতেই তাকে বিভোর থাকতে দেখা যায়। তার বিপরীতে উদ্দীপকের আসিফ একজন করিৎকর্মা অফিসার। তাই কোম্পানির সংকটের মুহূর্তে সে যথাযথ ভূমিকা রাখে এবং কর্মীদের সফলতা নিশ্চিত করে। এমন ভূমিকা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বর্ণিত মন্ত্রী রাখতে পারেনি বলেই রাজ্যজুড়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। সার্বিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি তাই যথাযথ।

উত্তরের সারবস্তু: 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে তা থেকে প্রমাণিত হয় যে গোবুরায় একজন অযোগ্য ও অকর্মণ্য মন্ত্রী তার বিপরীতে উদ্দীপকের আসিফ একজন করিৎকর্মা অফিসার।

৩ নম্বর প্রশ্ন

প্রয়াত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঝিনা গ্রামের দুই ছোট শিশু শিহাব ও লিটন আলী এখন 'ট্রেন রক্ষার বীর সৈনিক।' দুর্ঘটনার কবল থেকে তেলবাহী ৩২টি বগির একটি ট্রেন রক্ষা করায় তাদের এ উপাধি দিয়েছে রেলপথ বিভাগ। ছোট্ট এ শিশুরা রেললাইনের পাশে খেলতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দেখতে পায়। এর পরই তারা বাড়ি থেকে লাল মাফলার নিয়ে রেললাইনের ওপর টেনে ধরে ট্রেনটি থামিয়ে দেয়।

ক. 'বলিতে পারি করিলে অনুমতি'-উক্তিটি কার?

খ. মন্ত্রী কাকে কেন বুদ্ধ করে রাখতে চায়?

গ. উদ্দীপকের 'ট্রেন রক্ষার বীর সৈনিক' খেতাবপ্রাপ্তরা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার কোন চরিত্রের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. 'গায়ে গতরে যে বড় সে বড় নয়, বুদ্ধিতে যে বড় সেই ধন্য'- উদ্দীপক ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. উত্তর: 'বলিতে পারি করিলে অনুমতি' উক্তিটি বৃদ্ধ চামার কুলপতির।

খ. উত্তর: বৃদ্ধ চর্মকারের বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে হিংসার বশবর্তী হয়ে মন্ত্রী তাকে রুদ্ধ করে রাখতে চায়।

রাজার পায়ে ধুলা না লাগার উপায় বের করতে ব্যর্থ হন সভাসদগণ। রাজার ভয়ে হন্তদন্ত মন্ত্রীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। এমন সময় বৃদ্ধ চর্মকার জুতা দিয়ে পা ঢাকলে রাজার পা এবং রাজ্য দুই-ই ধুলামুক্ত থাকবে বলে জানায়। ব্যর্থ মন্ত্রী তখন চর্মকারের প্রতি হিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে কারারুদ্ধ করে রাখতে চায়।

উত্তরের সারবস্তু: বৃদ্ধ চর্মকারের বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে হিংসার বশবর্তী হয়ে মন্ত্রী তাকে রুদ্ধ করে রাখতে চায়।

গ. উত্তর:  বৃদ্ধিমত্তার দিক থেকে উদ্দীপকের 'ট্রেন রক্ষার বীর সৈনিক' খেতাবপ্রাপ্ত বুদ্ধিমান দুই শিশু 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চর্মকারের সাথে সম্পর্কিত।

জড়া-আবিষ্কার' কবিতার বৃদ্ধ চর্মকার একজন অত্যন্ত বন্ধিমান মানুষ। শত চেষ্টা করেও রাজ্যের মন্ত্রীরা যেখানে রাজার পায়ে ধুলা না লাগার উদ্দীপকের শিশুদের কর্মকাণ্ডেও লক্ষিত হয়। টুণায় বের করতে ব্যর্থ হয়, সে তখন সহজ উপায় বাতলে দেয়। এতে রাজা খশি হন এবং চর্মকারের বদ্ধির জয় হয়। তার এ বদ্ধিমত্তার দিকটি

চমীগকের ছোট দুই শিশু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তেলৰাধী ৩২ বগির একটি ট্রেনকে রক্ষা করে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঝিনা গ্রামের এ দুই রেললাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত। তাই তারা বাড়ি গিয়ে লাল মাফলার এনে লাইনের ছোট্ট শিশু রেললাইনের পাশে খেলতে গিয়েছিল। সেখানে তারা দেখে যে, রেললাইন উপর ধরে রাখে। তা দেখে ট্রেন থামে এবং বড় দুর্ঘটনা থেকে ট্রেনটি রক্ষা পায়।

তাদের এমন ভূমিকার কারণে রেলপথ বিভাগ তাদেরকে 'ট্রেন কোর বীর সৈনিক' উপাধি দেয়। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার বৃদ্ধ চর্মকারও বুদ্ধিমতার পরিচয় দিয়ে রাজা এবং রাজ্যকে ধুলার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। মন্ত্রীরা ব্যর্থ হলেও এই চর্মকার তার উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সহজ সমাধান দেয়। এভাবে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সমস্যা সমাধানের সূত্রে উদ্দীপকের শিশুরা আলোচ্য কবিতার চর্মকারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের ছোট দুই শিশু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তেলবাহী ৩২ বগির একটি ট্রেনকে রক্ষা করে। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার বৃদ্ধ চর্মকারও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে রাজা এবং রাজ্যকে ধুলার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

ঘ. উত্তর: জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় উল্লিখিত বৃদ্ধ চর্মকার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে রাজার চরণ যুগলকে ধুলামুক্ত করে।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় বড় বড় মন্ত্রী ও সভাসদগণ রাজা ও রাজ্যের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন। শুধু তাই নয়, নানা অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করে তাঁরা সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। এমতাবস্থায় বৃদ্ধ চর্মকার নিজের বিচার-বুদ্ধি দিয়ে সে সমস্যার সহজ ও স্থায়ী সমাধান বের করেন।

উদ্দীপকের ছোট শিশুরা অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তাদের বুদ্ধির জোরেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পায়। খেলার সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেন লাইন দেখতে পায়। আশু বিপদ থেকে ট্রেনটিকে রক্ষা করতে তারা বাড়ি থেকে লাল মাফলার এনে লাইনের ওপর ধরে রাখে। ট্রেন চালক তা দেখে বিপদসংকেত বুঝে ট্রেনটিকে থামায়। তাদের এমন দায়িত্বশীল আচরণের কারণেই সেদিন শত শত যাত্রীর জীবন রক্ষা হয়। আলোচ্য কবিতায় চর্মকারের আচরণেও তাদের বুদ্ধিমত্তার দিকটি লক্ষিত হয়।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় একজন তুচ্ছ মানুষের বুদ্ধির পরিচয় ফুটে উঠেছে। যে মানুষটি রাজ্যের কোন মন্ত্রী বা উজির শ্রেণির লোক নন। তিনি ছিলেন সামান্য একজন চর্মকার। রাজ্যের মন্ত্রীরা যেখানে রাজার পায়ের ধুলা দূর করতে গিয়ে রাজ্যকে ধুলাময় করে তোলে, সেখানে তিনি জুতা আবিষ্কার করে রাজা এবং রাজ্য উভয় সমস্যাই সমাধান করেন। এভাবে তিনি বৃদ্ধ এবং নীচু শ্রেণির লোক হয়েও বড় বড় মন্ত্রীদের বুদ্ধি দিয়ে হার মানিয়েছেন। উদ্দীপকের ছোট দুই শিশুও আলোচ্য কবিতার এই বৃদ্ধের মতোই বুদ্ধিদীপ্ত ছিল। বয়সে ছোট হলেও তারা বড়দের মতো বুদ্ধি খাটিয়ে ট্রেনটিকে থামায় এবং দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের বাঁচতে সাহায্য করে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ। উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের ছোট শিশুদের দায়িত্বশীল আচরণের কারণেই সেদিন শত শত যাত্রীর জীবন রক্ষা হয়। আলোচ্য কবিতায় চর্মকারের আচরণেও তাদের বুদ্ধিমত্তার দিকটি লক্ষিত হয়।

৪ নং প্রশ্ন

আরও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জেরিনের বেশ কিছুদিন থেকে পেট ব্যথা। মাঝে মাঝে ব্যথা অসহ্য হয় এবং সে বমি করে। তার বাবা তাকে চিকিৎসার জন্য শহরে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার অনেকগুলো পরীক্ষা করার পরও রোগ নির্ণয় করতে না পেরে জেরিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের মাদ্রাজে নিয়ে যেতে বলেন। জেরিনের মধ্যবিত্ত বাবা মেয়ের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। এমন সময় এলাকার পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম সব কিছু শুনে জেরিনকে কৃমিনাশক ওষুধ দেন এবং জেরিন অল্প সময়েই সুস্থ হয়ে ওঠে।

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

খ. 'শুনিয়া গোবু ভাবিয়া হলো খুন'- ব্যাখ্যা করো।

গ.উদ্দীপকের পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেমের সাথে 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চামার কুলপতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকে উল্লিখিত শহরের ডাক্তার ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার পণ্ডিতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।"-উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

জুতা-আবিষ্কার-কবিতার-সৃজনশীল-প্রশ্নের-উত্তর

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'।

খ. উত্তর: রাজার পায়ে ধুলা লাগার প্রতিকার করতে ব্যর্থ হলে মন্ত্রীকে শাস্তি পেতে হবে ভেবে তার এমন অবস্থা হয়েছে।

রাজা মাটিতে পা ফেলামাত্র তাঁর পায়ে ধুলা লাগে। নিজ রাজ্যের ধুলা রাজার নিজের পায়ে লাগে অথচ মন্ত্রীর সেদিকে কোনো প্রকার দৃষ্টি নেই। রাজা মনে করেন এটি মন্ত্রী গোবু রায়ের দায়িত্বে অবহেলা। রাজা তাকে অতিসত্বর এর প্রতিকার করতে বললেন। অন্যথায় কারো আর রক্ষা থাকবে না।
রাজার এরূপ দৃঢ় ঘোষণা শুনে গোৰু ভেবে খুন হলো।

উত্তরের সারবস্তু: রাজার পায়ে ধুলা লাগার প্রতিকার করতে ব্যর্থ হলে মন্ত্রীকে শাস্তি পেতে হবে শুনে মন্ত্রী গভীর ভাবনায় পড়ে গেছে।

গ. উত্তর: কঠিন সমস্যার সহজ সমাধানের দিক দিয়ে উদ্দীপকের পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম এবং 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চামার কুলপতির সাদৃশ্য রয়েছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত জেরিনের রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে শহরের বড় ডাক্তার যখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তখন জেরিনের বাবা চিকিৎসার ব্যয়ভারের কথা চিন্তা করে হতাশ হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম জেরিনের রোগের লক্ষণ শুনে তাকে অল্পমূল্যের কৃমিনাশক ওষুধ খেতে দেন এবং জেরিন সুস্থ হয়ে ওঠে।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজার পায়ে ধুলা লাগা সমস্যা সমাধানে রাজ্যের মন্ত্রী ও পণ্ডিতবর্গ উদ্ভট সব পন্থা অবলম্বন করে ও সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়। সে সময় চামার কুলপতি রাজার পা চামড়া দিয়ে ঢেকে সহজেই সমস্যার সমাধানের উপায় বের করে। উভয় ক্ষেত্রে দেখা যায় যেসব সমস্যা সমাধানে বড় মানুষেরা ব্যর্থ সেসব সমস্যা সমাজের অতি সাধারণ মানুষ অতি সহজেই সমাধান করেছে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম ও 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চামার কুলপতির মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।


উত্তরের সারবস্তু: কঠিন সমস্যার সহজ সমাধানের দিক দিয়ে উদ্দীপকের পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম এবং 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চামার কুলপতির সাদৃশ্য রয়েছে।

লেখকের মন্তব্য

জুতা আবিষ্কার কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর রচনামূলকভাবে সহজ ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি গাইড। এই আর্টিকেল টিম ভালো লাগলে আপনার বন্ধু-বানকদের সাথে শেয়ার করুন আপনার মন্তব্য জানান। এই রকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url