বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার জন্য
প্রমথ চৌধুরীর এই বই পড়া গল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের অনেকের বই থাকে কিন্তু গাইড থাকে না যার কারণে সঠিকভাবে এই প্রশ্নগুলো পড়তে পারেন না। এই আর্টিকেলটির মধ্যে বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাবে দেওয়া হয়েছে।
বই পড়া সৃজনশীল গুলোর সাথে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করা হয়েছে তাই মিস করবেন না। আরো বিস্তারিত নিচে।
সূচিপত্র
ভূমিকা
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর বা প্রশ্ন জানার আগে আমরা জানবো বই পড়া গল্পের মূল বক্তব্য। তুমি যখন বইপড়া গল্পের মূল বক্তব্যটি জানবে তখন সহজেই নিজেই প্রশ্ন তৈরি করতে পারবে আর সঠিক উত্তর লিখতে পারবে যে কোন প্রশ্নের। মূল বক্তব্যটি জেনে রাখলে নিচে প্রশ্নগুলো এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো আরো সহজ হবে।
আর্থিকভাবে লাভজনক নয় এমন কিছুই এদেশে অনর্থক বিবেচনা করা হয়। কিন্তু যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে প্রয়োজন মনের প্রসার। এইজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্যপাঠ এর অভ্যাস ও আগ্রহ বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয় বলেই আমাদের অনেক বই পড়া দরকার। জনসাধারণের মাঝে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হলে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। লেখক গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
লাইব্রেরীর গুরুত্ব হাসপাতালের চেয়ে কম নয়। লাইব্রেরীতে মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে মনের প্রসার ঘটাতে পারে। যথার্থ শিক্ষিত হয়ে ওঠার জন্য এটি খুবই জরুরী। প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সাহিত্যচর্চা আবশ্যক বলে মনে করেন লেখক।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিম্নে এমন কিছু সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো যে ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষার খাতায় আসতে পারে। নিম্নলিখিত এই প্রশ্ন এবং প্রশ্নের উত্তর গুলো নমুনামূলক প্রশ্ন। নিম্নলিখিত প্রশ্ন এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো দেখলে তুমি শতভাগ কমন পেতে পারো।
বই পড় গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন
আস জাতীয় জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতোই দুই ধারায় প্রবাহিত। এক ধারার নাম আত্মরক্ষা বা স্বার্থপ্রসার, আরেক ধারার নাম আত্মপ্রকাশ বা পরমার্থ বৃদ্ধি। একদিকে যুদ্ধবিগ্রহ, মামলা-ফ্যাসাদ প্রভৃতি কদর্য দিক; অপরদিকে সাহিত্য, শিল্প, ধর্ম প্রভৃতি কল্যাণপ্রদ দিক।
একদিকে শুধু কাজের জন্য কাজ; অপরদিকে আনন্দের জন্য কাজ। একদিকে সংগ্রহ, আরেক দিকে সৃষ্টি। যে জাতি দ্বিতীয় দিকটির প্রতি উদাসীন থেকে শুধু প্রথম দিকটির সাধনা করে, সে জাতি কখনো উঁচু জীবনের অধিকারী হতে পারে না।
ক. 'ভাঁড়েও ভবানী' অর্থ কী?
খ. অন্তর্নিহিত শক্তি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দিকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের যে দিকটিকে ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে পরমার্থ বৃদ্ধির প্রতি যে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মতকে সমর্থন করে মন্তব্যটির বিচার করো।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ১
(ক) উত্তর: ভাঁড়েও ভবানী' অর্থ হলো- রিক্ত বা শূন্য।
(খ) উত্তর: 'বই পড়া' প্রবন্ধে অন্তর্নিহিত শক্তি বলতে মানুষের আত্মিক শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
মানুষের দুই রকমের শক্তি আছে। যথা- দৈহিক শক্তি ও আত্মিক শক্তি। এই আত্মিক শক্তির মাধ্যমে মানুষ তার আত্মাকে উদ্বোধিত করে নিজের মন নিজে গড়ে তোলে, নিজের বিদ্যা নিজে অর্জন করে। অর্থাৎ, এই আত্মিক শক্তি যেহেতু মানুষের অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যক্ত করে সেহেতু তাকে অন্তর্নিহিত শক্তি বলা হয়।
উত্তরের সারবস্তু: 'বই পড়া' প্রবন্ধে অন্তর্নিহিত শক্তি বলতে মানুষের আত্মিক শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
(গ) উত্তর: জাউদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দিকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত মানুষের অর্থনৈতিক চিন্তার দিকটিকে ইঙ্গিত করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মনে করেন- আমাদের দেশের মানুষ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে জীবনের সুকুমার বৃত্তির তুলনায় অর্থনৈতিক চিন্তাকেই প্রাধান্য দেয়। তাঁর মতে, এই অর্থনৈতিক চিন্তার ফলে আমাদের দেশের শিক্ষা হয়ে উঠেছে মানুষের আত্মার পরিপন্থী। সাহিত্যচর্চার মতো আনন্দের বিষয়ের পরিবর্তে মানুষের মন মেতে আছে অর্থ উপার্জনের দিকে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অর্থকরী নয় এমন সবকিছুকে এদেশে অনর্থক বলে বিবেচনা করা হয়। মনতুষ্টির চেয়ে অর্থনৈতিক চাহিদাই বড় বলে বিবেচ্য হয়।
উদ্দীপকে যে দুটি দিকের কথা বলা হয়েছে তার প্রথম দিকটি হলো আত্মরক্ষা বা স্বার্থপ্রসার কিংবা সম্পদ সংগ্রহ। এদিকে যুদ্ধবিগ্রহ মামলা-ফ্যাসাদ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য উপস্থিত। সংগত কারণে এ দিকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধে এদেশের মানুষের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চিন্তাকে নির্দেশ করে। প্রাবন্ধিকের মতে, এ দিকটিই আমাদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দিকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত মানুষের অর্থনৈতিক চিন্তার দিকটিকে ইঙ্গিত করে।
(ঘ) উত্তর: 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের আত্মার বিকাশকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরমার্থ বৃদ্ধির দিকটিকে সমর্থন করে।
প্রমথ চৌধুরী জাতির সমৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক দিককে অস্বীকার করেননি কিন্তু প্রাধান্য দিয়েছেন জাতির মানসিক বিকাশকে। উদ্দীপকেও অর্থের পরিবর্তে পরমার্থ বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যা প্রাবন্ধিকের মতকে সমর্থন করে।
আরো পড়ুন: আমি টাকা ইনকাম করতে চাই
আলোচ্য উদ্দীপকে জাতির সার্বিক সমৃদ্ধির জন্য পরমার্থ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এমন বক্তব্য অবশ্যই প্রাবন্ধিকের মতের সমর্থনযোগ্য। তাঁর মতে, 'জাতি হিসেবে আমরা এখনো উঁচু মানের হতে পারিনি, কেননা আমরা এখনো জ্ঞানের চেয়ে অর্থকে প্রাধান্য দেই। এ কারণে সাহিত্যচর্চার প্রতি আমাদের আগ্রহ নেই। কিন্তু জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মহৎ জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।'
উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় জীবনে জ্ঞানচর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পরমার্থ বৃদ্ধির প্রতি যে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে তা 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মতকে সমর্থন করে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও 'বই পড়া' প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় জীবনে জ্ঞান চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ২
আবিদ এমএ পাস যুবক। ছাত্রজীবনে সে পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করে ভালো রেজাল্ট করেছে। একদিন তার এক বন্ধু তাকে নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যায়। সেখানে সে বিভিন্ন বই দেখে আগ্রহী হয় এবং একটি দুটি করে বই এনে পড়তে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই সে অনুধাবন করে যে, এতদিন কেবল পাঠ্যপুস্তক পড়ে সে সুশিক্ষিত হতে পারেনি। যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের যে প্রসার দরকার তা সে অর্জন করতে পারেনি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই তার মনের জানালা খুলে দিয়েছে। এখন সে প্রয়োজন অনুভব করে যে, দেশের প্রতিটি গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
ক. বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
খ. ‘ব্যাধিই সংক্রান্ত, স্বাস্থ্য নয়’--কে?
গ. উদ্দীপকে আবিদের এ দৃষ্টিভঙ্গি ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের কোন দিকটির ইঙ্গিতবহ?-ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘আবিদের সুশিক্ষিত না হওয়ার কারণ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ক্রটি’-‘বই পড়া’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ২
ক. উত্তর: বাংলা সহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।
খ. উত্তর: সভ্যতার গুণ বর্জন করে দোষ আয়ত্তকরণের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- 'ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি পালন ব্যতীত স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলেই স্বাস্থ্যবান হওয়া যায় না। তেমনই সচেতন প্রয়াস ছাড়া শুধু উন্নত সভ্যতার সংস্পর্শে এলেই তার ইতিবাচক দিকগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। রোগ-জীবাণু ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের চারপাশে রোগ বিস্তার করে বলে রোগীর সংস্পর্শে সুস্থ ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনুরূপভাবে সাধনা শূন্য হলে বিনা প্রয়াসেই যেকোনো সমুন্নত সভ্যতার গুণগুলোর পরিবর্তে দোষগুলো কোনো সভ্য জাতির জীবনেও সংক্রমিত হতে পারে।
উত্তরের সারবস্তু: সভ্যতার গুণ বর্জন করে দোষ আয়ত্তকরণের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- 'ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'। সচেতন প্রয়াস ছাড়া শুধু উন্নত সভ্যতার সংস্পর্শে এলেই তার ইতিবাচক দিকগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।
গ.উত্তর: উদ্দীপকের আবিদের দৃষ্টিভঙ্গি 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচিত মুক্ত জ্ঞানচর্চা তথা লাইব্রেরির ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিতবহ।
প্রাবন্ধিকের মতে, স্কুল-কলেজে প্রচলিত উপার্জনধর্মী শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের আত্মার স্বাধীন বিকাশ ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীর মনের সুপ্ত বৃত্তিগুলোর অপমৃত্যু ঘটে। অপরদিকে, লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীরা নিজের রুচি ও অভিমত অনুযায়ী মুক্তভাবে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়। প্রাবন্ধিক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়ে ব্যক্তির মনের হাসপাতালের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এছাড়া তিনি দেশবাসীকে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্দীপকের আবিদ ছাত্রজীবনে পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করে ভালো রেজাল্ট করে। পরবর্তীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যাবার পর তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। সে মনে করে মুখস্থবিদ্যার জোরে ভালো ফল অর্জন করলেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা তার মনের উৎকর্ষ সাধন করতে পারেনি। আবিদ এটা উপলব্ধি করে তার মনের বিকাশ ঘটেছে লাইব্রেরিতে স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চার সুযোগ পাওয়ার ফলে। তার বিশ্বাস মানুষের মনের প্রসারতা ও সুশিক্ষিত হবার পথ সুগম হবে লাইব্রেরিতে বহুমুখী জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে, এ বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের আবিদের দৃষ্টিভঙ্গি 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচিত মুক্ত জ্ঞানচর্চা তথা লাইব্রেরির ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিতবহ।
ঘ.উত্তর: ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত হওয়ার পথে প্রধান অন্তরায় যা 'বই পড়া' প্রবন্ধ ও উদ্দীপকে আলোচিত হয়েছে।
প্রাবন্ধিক যুক্তিতর্কের মাধ্যমে দেখিয়েছেন প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় গৎবাঁধা কিছু পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করে শিক্ষার্থীরা যথার্থ শিক্ষিত না হয়ে ডিগ্রিধারী কূপমণ্ডকে পরিণত হচ্ছে। স্কুল-কলেজের গতানুগতিক পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের জীবিকা অর্জন ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপনের কৌশল শেখালেও পরিশীলিত মানুষ হতে শেখায় না। এতে জাতি ডিগ্রিধারী হলেও শিক্ষার যথাযথ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।
উদ্দীপকের আবিদ মুখস্থ বিদ্যার জোরে ভালো রেজাল্ট করে। পরবর্তীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যাবার পর সেখানে বিভিন্ন বই দেখে সে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং বই পড়তে শুরু করে। কিছুদিন পর সে অনুভব করে পাঠ্যপুস্তক পড়ে যথার্থ শিক্ষিত হতে পারেনি, যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মুক্ত জ্ঞানচর্চার প্রয়োজন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে। মুখস্থবিদ্যার ফলে জাতি শিক্ষিত হলেও শিক্ষার সুফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। উদ্দীপকেও মুখস্থবিদ্যার ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার ফলে উদ্দীপকের আবিদ যথার্থ শিক্ষিত হতে পারেনি। সে মুক্ত জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেকে সুশিক্ষিত করতে সচেষ্ট হয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে বই পাঠের মাধ্যমে আবিদ নিজেকে পরিশীলিত করে গড়ে তোলে। সুতরাং বলা যায়, 'আবিদের সুশিক্ষিত না হওয়ার কারণ প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি'- কথাটি যথার্থ।
উত্তরের সারবস্তু: 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে। মুখস্থবিদ্যার ফলে জাতি শিক্ষিত হলেও শিক্ষার সুফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। উদ্দীপকেও মুখস্থবিদ্যার ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার ফলে উদ্দীপকের আবিদ যথার্থ শিক্ষিত হতে পারেনি। সুতরাং বলা যায়, 'আবিদের সুশিক্ষিত না হওয়ার কারণ প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি'- কথাটি যথার্থ।
বই পড়া সৃজনশীল প্রশ্নে ৩
দাদু বললেন,
'টেমস নদীর সুড়ঙ্গ অতি মনোহর
উপরে জাহাজ ভাসে নিচে চলে নর।'
নবম শ্রেণির ছাত্রী হীরা দাদুর মুখে লন্ডন শহর, টেমস্ নদীর পানির মধ্য দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ, ব্রিটিশ মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন বর্ণনা শুনে অভিভূত। অথচ দাদু দেশের বাইরে না গিয়েও শুধু বই পড়েই সারা বিশ্বকে চিনেছেন। দাদুর উৎসাহে হীরা এখন পাবলিক লাইব্রেরির নিয়মিত পাঠক।
ক. প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী?
খ. স্কুল কলেজের শিক্ষাকে বিদ্যা গেলানোর সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের হীরা কোন দিক থেকে 'বই পড়া' প্রবন্ধ রচয়িতার প্রত্যাশিত মানুষ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'দাদু একজন স্বশিক্ষিত মানুষ'- 'বই পড়া' প্রবন্ধের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ৩
ক. উত্তর: প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম বীরবল।
খ. উত্তর: আমাদের দেশে স্কুল কলেজে মুখস্থ বিদ্যার প্রতি জোর দেওয়া হয় বলে সে শিক্ষাকে বিদ্যা গেলানোর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা ও সামর্থ্যের দিকটি বিবেচনা না করেই তাদের শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করা হয়। তারাও বাধ্য হয়েই পাশ করার তাগিদে না বুঝে মুখস্থ করতে বাধ্য হয়। ফলে এ শিক্ষায় তাদের যথার্থ মানসিক বিকাশ হয় না, বরং তারা শিক্ষার প্রতি আগ্রহই হারিয়ে ফেলে। এজন্য স্কুল কলেজের শিক্ষাকে বিদ্যা গেলানোর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: আমাদের দেশে স্কুল কলেজে শিক্ষাকে একরকম জোর করে ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বলে সে শিক্ষাকে বিদ্যা গেলানোর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
গ.উত্তর: নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে লাইব্রেরিতে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণের কারণে উদ্দীপকের হীরা 'বই পড়া' প্রবন্ধ রচয়িতার প্রত্যাশিত মানুষ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সুশিক্ষিত হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে লাইব্রেরিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, মুখস্থ নির্ভর আরোপিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মন নির্জীব হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে স্বাধীন পাঠচর্চাই মনের আনন্দময় বিকাশে ভূমিকা পালন করতে পারে যার একমাত্র উপায় লাইব্রেরি।
উদ্দীপকে নবম শ্রেণির ছাত্রী হীরা তার দাদুর মুখে লন্ডন শহর, টেমস নদীর সুড়ঙ্গ পথ, বৃটিশ মিউজিয়ামসহ দেশ-বিদেশের নানা বর্ণনা শুনে অভিভূত হয়। সে জানতে পারে তার দাদু শুধু বই পড়েই এসবকিছু জানতে পেরেছেন।
তাই দাদুর প্রেরণায় জানার জন্য উৎসাহী হয়ে সে নিয়মিত লাইব্রেরিতে যায়। আলোচ্য 'বই পড়া' প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলেছেন। কেননা মনীষীদের অর্জিত জ্ঞান লেখনীর মধ্য দিয়ে বইয়ে প্রকাশ পায় যার সংগ্রহশালা হলো লাইব্রেরি।
তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ নয়। তাই মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য পাঠ্যতালিকা সীমানা অতিক্রম করা অপরিহার্য। প্রাবন্ধিক মনে করেন, লাইব্রেরিতে গিয়ে পছন্দমতো বই পড়ে যথার্থ শিক্ষিত হয়ে ওঠা সম্ভব যেমনটি উদ্দীপকের হীরার কর্মকান্ডে লক্ষিত হয়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের হীরা 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের প্রত্যাশিত মানুষ।।
উত্তরের সারবস্তু: নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে লাইব্রেরিতে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণের কারণে উদ্দীপকের হীরা 'বই পড়া' প্রবন্ধ রচয়িতার প্রত্যাশিত মানুষ।
ঘ. উত্তর: 'দাদু একজন স্বশিক্ষিত মানুষ'- 'বই পড়া' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে মেধার বিকাশে এবং মুক্তভাবে জ্ঞানচর্চার জন্য বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বই মানুষের জ্ঞানের পরিধিকে সমৃদ্ধ করে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আলোচ্য উদ্দীপকের হীরার দাদুও তেমনি একজন আলোকিত মানুষ, যিনি নিজ প্রচেষ্টায় বই পড়ে জ্ঞান লাভ করেছেন।
উদ্দীপকের হীরার দাদু একজন জ্ঞানপিপাসু মানুষ। তিনি জানার জন্য স্ব-প্রণোদিত হয়ে বই পড়েছেন এবং দেশ-বিদেশের নানাকিছু সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তাই তার মুখে লন্ডন শহর, টেমস নদীর সুড়ঙ্গাসহ বিচিত্র বিষয় সম্পর্কে শুনে অভিভূত হয় হীরা। অথচ তিনি কখনো দেশের বাইরে পা রাখেননি। আলোচ্য 'বই পড়া' প্রবন্ধেও বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের কথা বলেছেন লেখক।
'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী সমকালীন প্রেক্ষাপটে সাহিত্যচর্চার গুরুত্বকে প্রাসঙ্গিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ প্রবন্ধে তিনি জাতীয় উন্নয়নের জন্য জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়েছেন যার একমাত্র উপায় হলো বই পড়া।
প্রাবন্ধিক মনে করেন, যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসার ঘটান্যে দরকার আর এজন্য বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। তাছাড়া প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ধরাবাঁধা কিছু পাঠ্যবই ও নোট মুখস্থ করে প্রকৃত শিক্ষা লাভ করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে লাইব্রেরিতে গিয়ে নিজ পছন্দ ও সামর্থ্য মতো বই পাঠ করে মানুষ প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। উদ্দীপকের হীরার দাদুও তেমনি নিজ প্রচেষ্টায় স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠা একজন মানুষ। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথাযথ।
আরো পড়ুন: সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
উত্তরের সারবস্তু: 'বই পড়া' প্রবন্ধে মেধার বিকাশে এবং মুক্তভাবে জ্ঞানচর্চার জন্য বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকের হীরার দাদুও তেমনি একজন আলোকিত মানুষ, যিনি নিজ প্রচেষ্টায় বই পড়ে জ্ঞান লাভ করেছেন। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথাযথ।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ৪
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিউলী তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছে, এবার ঘটা করে যেন ওর জন্মদিনটা পালন না করা হয়। বরং সেই টাকা দিয়ে একুশের বইমেলা থেকে ওকে বেশ কিছু বই কিনে দেওয়া হোক। কারণ সে সিলেবাসের বাইরের বইগুলোর মধ্যেই তার নতুন জগৎ ও জীবন খুঁজে পায়। একথা শুনে ওর বড় ভাই পলাশ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। সে বলে, "আরে বোকা পাঠ্যবই মুখস্ত কর কাজে দেবে। পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারবি আর জন্মদিনেও আমার মতো অনেক ধরনের গিফ্ট পাবি।
ক. মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সখ কোনটি?
খ. 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ . পলাশের মানসিকতা 'বই পড়া' প্রবন্ধের যে দিকটিকে প্রতিফলিত করে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ . উদ্দীপকের শিউলিই যেন প্রমথ চৌধুরীর কাঙ্ক্ষিত বাঙালি- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ৪
ক.উত্তর: মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ বই পড়া।
খ. উত্তর: সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' বলতে লেখক বুঝিয়েছেন, কেবল স্বেচ্ছায় জ্ঞান আহরণকারীরাই প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত।
সুশিক্ষিত হতে হলে শিক্ষার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করে মনের প্রসার ঘটানো দরকার। এক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির সার্টিফিকেট-নির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রাবন্ধিক মনে করেন, মনের প্রকৃত বিকাশ সাধনের জন্য স্বশিক্ষার বিকল্প নেই। একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় লাইব্রেরিতে নিজের পছন্দমতো বই পড়েই শিক্ষার এ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারেন। এভাবে স্বশিক্ষিত হওয়া ছাড়া সুশিক্ষার ফললাভ সম্ভব নয়।
উত্তরের সারবস্তু: 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' বলতে লেখক বুঝিয়েছেন, কেবল স্বেচ্ছায় জ্ঞান আহরণকারীরাই প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত। সুশিক্ষিত হতে হলে শিক্ষার অন্তনিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করে মনের প্রসার ঘটানো দরকার। এক্ষেত্রে স্বশিক্ষার বিকল্প নেই।
গ. উত্তর: পলাশের মানসিকতা 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি ও সেটিকে ঘিরে মানুষের চিন্তাচেতনার দিকটিকে প্রতিফলিত করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধ অনুসারে দেখি, আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি আমাদের চিন্তাচেতনাকে এমন দিকে নিয়ে গিয়েছে যে পাঠ্যপুস্তক ব্যতীত অন্য বই পড়ায় আমরা কোনো সার্থকতা খুঁজে পাই না। লেখকের মতে, আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই, কিন্তু শিক্ষার ফল লাভে উদ্বাহ্ণ।
পাঠ্যপুস্তক ব্যতীত অন্য বই উদরপূর্তির কাজে লাগে না বলে আমরা শখ করে বই পড়তে চাই না। কেউ শেখ করে বই পড়লে তাকে আমরা নিষ্কর্মার দলে ফেলে দেই। উদ্দীপকের পলাশের মানসিকতায় ঠিক এই বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকর শিউলী তার মায়ের কাছে জন্মদিন পালনের বদলে উপহার হিসেবে বই চায়। পৃথিবী ও জীবনকে জানার জন্য সে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই পড়তে চায়। তার এই ইচ্ছাটি নিঃসন্দেহে খুবই ভালো।
আর শিউলীর মতো ইচ্ছাবোধ আমাদের মধ্যে জাগ্রত করার জন্য লেখক 'বই পড়া' প্রবন্ধ রচনার প্রয়াস পেয়েছেন। কিন্তু শিউলীর ইচ্ছাকে পলাশ যেমন কটাক্ষ করেছে তেমন অবস্থার সম্মুখীন হন যারা স্বেচ্ছায় বই পড়তে যান তারা। সাহিত্যচর্চার জন্য বই পড়াকে যারা অর্থহীন মনে করেন পলাশ আলোচ্য প্রবন্ধের তাদের মন মানসিকতাকেই ধারণ করে।
উত্তরের সারবস্তু: পলাশের মানসিকতা 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি ও সেটিকে ঘিরে মানুষের চিন্তা চেতনার দিকটিকে। প্রতিফলিত করে।
ঘ.উত্তর: উদ্দীপকের শিউলিই যেন প্রমথ চৌধুরীর কাঙ্ক্ষিত বাঙালি- মন্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার প্রতি আমাদের অনীহাকে দূর করে স্বেচ্ছায় বই পড়ার মধ্য দিয়ে সুশিক্ষিত হওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। প্রবন্ধে তার কাছে কাঙ্ক্ষিত বাঙালি ছিল সেই ব্যপ্তি যে মনের আনন্দে বই পড়ে, শুধু পরীক্ষায় পাসের জন্য নয়।
আরো পড়ুন: সুভা গল্পের mcq
উদ্দীপকের শিউলির বয়সি একটা মেয়ের কাছে তার জন্মদিন ধুমধাম করে পালিত হওয়াটাই বেশি আনন্দের হওয়ার কথা। অথচ সে মায়ের কাছে বই পাওয়ার আবদার করে। বই পড়ার যথার্থতা সে উপলব্ধি করেছে। এই উপলব্ধি আমাদের সবার মাঝে থাকলে আমরা জাতি হিসেবে আরও জীবনীশক্তির অধিকারী হতাম।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক সুশিক্ষিত বাঙালি জীবন কামনা করেছেন। জাত হিসেবে আমরা সৌখিন নই জেনেও তিনি উদরপূর্তির চিন্তা শেষে বই পড়ার প্রতি আমাদের আগ্রহী করতে চেয়েছেন। তিনি জানেন, আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষ উদ্দীপকের পলাশের মতো মানসিকতার অধিকারী। কিন্তু তিনি উদ্দীপকের শিউলীর মতো বাঙালির জীবনাকাঙ্ক্ষা করেছেন।
কারণ, শিউলীর মতো বই পড়ায় আগ্রহী হলে নিষ্কর্মা হিসেবে বিবেচিত হলেও আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রগতিশীল জগতের সাথে তাল মেলাতে পারব।
উত্তরের সারবস্তু: 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার প্রতি আমাদের অনীহাকে দূর করে স্বশিক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে সুশিক্ষিত হওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি উদ্দীপকের শিউলীর মতো বাঙালির জীবন আকাঙ্ক্ষা করেছেন। কারণ, শিউলীর মতো বই পড়ায় আগ্রহী হলে নিষ্কর্মা হিসেবে বিবেচিত হলেও আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রগতিশীল জগতের সাথে তাল মেলাতে পারব।
বই পড়া গল্প সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
তিন বছরের ছোট ছেলে ইমনকে নিয়ে মা শাহানার চিন্তার শেষ নেই। সারাক্ষণ এটা-ওটা খাবার নিয়ে তিনি ছেলের পেছনে ছোটাছুটি করেন। ঘুম থেকে তুলেই- খিচুড়ি, এরপর ফলের রস, সিদ্ধ ডিম, দুধ একের পর এক।
মা'র হাত থেকে বাঁচতে ইমন পালাতে চেষ্টা করে, হাত-পা ছোড়ে, মুখ বহু করে থাকে, আরও কত কৌশল। কিন্তু মিসেস শাহানা জোর করে ইমনকে খাওয়াবেনই। এ অবস্থা দেখে ইমনের বাবা মি. শাহেদ বলেন, 'দেখ, তোমার উদ্দেশ্য মহৎ কিন্তু পদ্ধতি ভুল। ছেলের মঙ্গল চাও সন্দেহ নেই কিন্তু তোমার খাওয়ানোর ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।'
ক. শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ কী?
খ. 'সাহিত্যের মধ্যে আমাদের জাত মানুষ হবে' বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের শাহানার আচরণে 'বই পড়া' প্রবন্ধের যে বিশেষ দিকটির ইজিলত পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. মি. শাহেদের বক্তব্য প্রমথ চৌধুরীর পরামর্শেরই প্রতিধ্বনি- 'বই পড়া' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ৫
ক.উত্তর: শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ সাহিত্যচর্চা।
খ.উত্তর: সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জাত মানুষ হবে বলতে লেখক বুঝিয়েছেন- সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির মানসিক বিকাশের কথা।
প্রাবন্ধিক আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে তাতে পাস করা মানুষের সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না। কারণ সাহিত্যচর্চা ভিন্ন কোনো ব্যক্তিই প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। এ কারণে প্রাবন্ধিক শিক্ষার জন্য সাহিত্যচর্চাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করেছেন। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য সাহিত্যচর্চা ভিন্ন অন্য কোনো পথ আছে বলে মনে করেন না প্রাবন্ধিক।
উত্তরের সারবস্তু: সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জাত মানুষ হবে বলতে লেখক বুঝিয়েছেন- সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির মানসিক বিকাশের কথা।
গ.উত্তর: উদ্দীপকের শাহানার আচরণে 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষার্থীদের জোর করে বিদ্যা গলাধঃকরণের বিষয়টির ইডিতে পাওয়া যায়।
প্রাবন্ধিকের মতে, আমাদের স্কুল-কলেজে যে পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান করা হয় তাতে গলদ রয়েছে। উল্টো এ পদ্ধতিতে ছাত্ররা বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক তাদের তা গেলানো হয়। এর ফলে পরিপূর্ণভাবে শিক্ষাগ্রহণ না করেই তারা স্কুল-কলেজ থেকে বেরিয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এ বিদ্যা তাদের কাছে বদহজমের মতো মনে হয় বলেই অভিমত প্রকাশ করেছেন প্রাবন্ধিক।
উদ্দীপকে তিন বছরের ইমনের জন্য শাহানা সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকেন। খাবার নিয়ে সবসময় ছেলের পেছনে পেছনে ছুটতে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের খাবার ছেলেকে যেতে বাধ্য করেন; তাই ছেলেও আতকে সময় পার করে। তার মধ্যে খাবার সম্পর্কে একধরনের ভীতি সৃষ্টি হয়।
কারণ প্রতিনিয়তই তাকে জোর করে খাবার খাওয়ানো হয়; যা অনেকটা প্রাবন্ধিক বর্ণিত স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানোর মতো। তাই বলব, উদ্দীপকে শাহানার আচরণে 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বর্ণিত ছাত্রদের জোর করে বিদ্যাশিক্ষা গলাধাকরণের বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে শাহানার আচরণে 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বর্ণিত জোর করে বিদ্যাশিক্ষা গলাধঃকরণের বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ঘ. উত্তর: মি. শাহেদের বক্তব্য প্রমথ চৌধুরীর পরামর্শেরই প্রতিধ্বনি- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে স্কুল-কলেজে ছেলেদের বিদ্যা শিক্ষা করানোর পদ্ধতিকে ভুল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মনে করেন, স্কুল-কলেজে যেভাবে বিদ্যা শেখানো হয় তাতে ছাত্রদের উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি হয়। একসময় কোমলমতি এই ছাত্ররা মনের মধ্যে একটু একটু করে মরতে থাকে। কারণ জোরপূর্বক গ্রহণ করা এ বিদ্যা তাদের কোনো কাজে আসে না।
উদ্দীপকের শাহানার অবস্থা প্রমথ চৌধুরী বর্ণিত অনেকটা আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা পদ্ধতির মতো। তিনি তার ছোট্ট ছেলে ইমনকে খাবার নিয়ে সবসময় ব্যস্ত রাখেন এবং জোর করে খেতে বাধ্য করেন।
এতে খাবারের প্রতি ইমনের মনে ভীতির সঞ্চার হয়। কিন্তু এ সত্য উপলব্ধি করার সক্ষমতা মিসেস শাহানার নেই। তবে শাহানার স্বামী শাহেদ এ সত্য সম্পর্কে সচেতন। তাই তিনি তার স্ত্রীকে আরোপিত পদ্ধতির ভুল সম্পর্কে অবহিত করেন। কারণ তিনি জানেন ছেলে যদি বা এভাবে খাবার গ্রহণও করে তারপরও এ খাবার তার কোনো কাজে আসবে না।
আরো পড়ুন: কিভাবে সরকারি অনলাইন ইনকাম করা যায়
বই পড়া' প্রবন্ধে জোর করে শেখানো শিক্ষাপদ্ধতির যে ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা উদ্দীপকের মিসেস শাহানার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, স্ত্রীর কর্মকাণ্ড বিষয়ে মি. শাহেদের বক্তব্যে প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর পরামর্শই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: মিসেস শাহানার অবস্থা প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী বর্ণিত অনেকটা আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা পদ্ধতির মতো।
লেখকের মন্তব্য
আমারা এতাক্ষণ আলোচনা করলাম বই পড়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর নিয়। এই আর্টিকেলে বাই পরীক্ষায় প্রশ্ন হতে পারে এমন প্রশ্ন ও আমার তুলেধরেছি। তোমার যদি এই বিষয়ে কোন কিছু জানার প্রয়োজন হয় বা আরো কোন প্রশ্ন বা প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে জানতে চাও তাহলে অবশ্যয় কমেন্টে জানিয়ে দিও। এই আর্টিকেলটি তোমার বন্ধু বান্ধ এবং সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের শেয়ার করুন। এইরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করো।




ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url