পুঁইমাচা গল্পের মূলভাব এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোউত্তর
পুঁইমাচা গল্পের মূলভাব এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর যদি জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকে আমরা এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আলোচনা করব পুঁইমাচা গল্পের মূলভাব এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর। আর এই গল্পটির লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪ এবং এবং মৃত্যু ১৯৫০ সালে। এই পুইমাচার গল্পের লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূচিপত্র
পুঁইমাচা গল্পের মূলভাব
কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুঁইমাচা' গল্পে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের দুঃখ-যন্ত্রণার কথা বর্ণিত হয়েছে। সহায়হরি চাটুয্যে এই ব্রাহ্মণ পরিবারের অসহায় কর্তা। তাঁর চার মেয়ে। মেয়েদের ঠিকমতো ভরণপোষণ করার ক্ষমতা সহায়হরির নেই।
মানুষের কাছ থেকে এটা ওটা চেয়েচিন্তে এনে তিনি মেয়েদের খাওয়াতে চান। কিন্তু স্ত্রী অন্নপূর্ণা এটা একেবারেই পছন্দ করেন না। স্বামীর এই বেলাল্লাপনাকে তিনি কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেন।
তাঁর কথা হলো "আমার জোটে খাব, না জোটে খাব না।" তাই বলে তিনি যে মেয়েদের ভালোবাসতেন না তা নয়। অন্নপূর্ণা তাঁর মেয়েদের খুব ভালোবাসতেন। পুজো পার্বণের সময় যে করেই হোক তিনি মেয়েদের সাধ্যমতো খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন। কোন মেয়ে কী খেতে ভালোবাসে তা তিনি জানতেন। সেইমতো যোগাড়েরও চেষ্টা চালাতেন।
এ ব্যাপারে তাঁর প্রচেষ্টার কোন কার্পণ্য কখনও দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে সহায়হরি ছিলেন একটু ভিন্ন প্রকৃতির। দায়িত্বজ্ঞানহীন এই ব্রাহ্মণ লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে চেয়ে না চেয়ে অপরের জিনিস বাড়িতে নিয়ে আসতেন।
তাঁর পিতৃবাৎসল্য এতই প্রবল ছিল যে, স্ত্রীর তিরস্কারেও তিনি অবদমিত হতেন না। সহায়হরির আরেকটি অভ্যাস ছিল মাছ ধরার। এক্ষেত্রে তিনি প্রচণ্ড উৎসাহী ছিলেন। এসব কাজে ডুবে থাকতে গিয়ে বড় মেয়ে ক্ষেন্তির বিয়ের বয়স যে উত্তীর্ণ হতে চলেছে, এ ব্যাপারে তাঁর খেয়াল থাকত না। এই নিয়ে স্ত্রী অন্নপূর্ণা তাঁকে ভর্ৎসনা করতে ছাড়তেন না।
অভাবের সংসারে দুঃখকষ্ট যন্ত্রণা যেন লেগেই থাকত। ক্ষেন্তির একবার বিয়ের সম্বন্ধ স্থির হয়েও ভেঙে গিয়েছিল। এ নিয়েও সামাজিক যন্ত্রণার অন্ত ছিল না। সেই মেয়ে এখন পনেরয় গা দিয়েছে, অথচ তার বিয়ের ব্যাপারে সহায়হরির গা নেই। এজন্য অন্নপূর্ণার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ক্ষেন্তি পুঁইশাক খেতে খুব ভালোবাসত।
একবার অরন্ধনের আগের দিন বাড়িতে পুঁইশাক রান্না হলে ক্ষেন্তি একাই তার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছিল। রায়েদের ফেলে দেওয়া পাকা পুঁইশাকের ডাটা সংগ্রহ করে ক্ষেন্তি বেধে খাওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে এলে মা অন্নপূর্ণা তাকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করে সব ফেলে দিয়েছিলেন।
পরে সেই শাকেরই কিছু অংশ রান্না হলে ক্ষেন্তি পরম তৃপ্তি সহকারে তা গলাধঃকরণ করেছিল। পছন্দসই খাবার পেলে ক্ষেন্তি খুব যেতে পারত। একসাথে আঠারা উনিশটা পিঠে সে সাবাড় করে দিত। এ নিয়ে সংসারে কখনও কোন কথা উঠত না।
কোন প্রকার সংকোচ না করে সে মায়ের কাছ থেকে নারকেল কোরা চেয়ে নিয়ে গোগ্রাসে গিলত। রায়েদের ক্ষেত থেকে পাকা পুঁইশাক এনে মায়ের গালাগাল খাওয়ার পর ক্ষেন্তি কোথা থেকে একটা কুড়িয়ে পাওয়া পুঁইচারা নিয়ে এসে উঠোনের একপাশে পুঁতে দেয়। প্রতিদিন জল ঢেলে ঢেলে সে চারাটাকে বাঁচিয়ে তোলে।
বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তার জন্য একটা মাচাও তৈরি করে ক্ষেন্তি। কিন্তু এই পুঁইশাক খাওয়ার যোগ্য হওয়ার পূর্বেই ক্ষেন্তির বিয়ে হয়ে যায়। পাত্রটি ছিল চল্লিশোর্ধ। পনেরো টাকা বাকি থাকার কারণে ক্ষেন্তিকে আর বাপের বাড়িতে আসতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে বছর ঘুরতে না ঘুরতে বসন্তরোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষেন্তি মারা গেল। এরপর কয়েক মাস কেটে গিয়েছে।
আবার পৌষ পার্বণের দিন ঘনিয়ে এল। সন্ধ্যার সময় অনুপর্ণা রান্না ঘরের মধ্যে বসে মেয়েদের জন্য পিঠে তৈরি করছিলেন। পুঁটি ও রাধী উনোনের পাশে বসে আগুন পোয়াচ্ছিল। অনেক রাতে পিঠে তৈরি শেষ হলে অন্নপূর্ণা মেয়েদের পিঠে খেতে বসিয়ে দিলেন। তখন আকাশে জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পড়েছে। পিঠে খাওয়ার পূর্ব মুহর্তে হঠাৎ পুঁটির ক্ষেন্তি দিদির কথা মনে পড়ল।
দিদি যে পিঠে খেতে ভালোবাসতো এ কথা তারা কেউ ভোলেনি। পুঁটি বলে উঠল- "দিদি বড় ভালোবাসত।" সকলেই কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে বসে রইল। তারপর তাদের সকলের দৃষ্টি একসাথে কেমন করে উঠোনের এক কোণে সেই পইমাচাটির উপর গিয়ে পড়ল।
পুঁইমাচাটি বাড়ির সেই পুঁইলোভী মেয়েটির স্মৃতি পাতায় পাতায়, শিরায় শিরায়, জড়িয়ে কেমন ভরপুর হয়ে আছে। বর্ষার জল ও কার্তিকের শিশির গাঁয়ে নিয়ে কচিকচি সবুজ ডগাগুলো মাচা ছাড়িয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এর রচয়িতা আজ বেঁচে নেই। তাই যেন এতে কেউ হাতও দেয়নি।
'পুঁইমাচা' গল্পে এক সহজসরল গ্রাম্য বালিকার পুঁইপ্রীতির অন্তরালে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ দম্পতির সন্তানবাৎসল্যের প্রাবল্যের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। সহায়হরি তাঁর সন্তানদের মনোতুষ্টির জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা করতে পারতেন না। আবার আত্যমর্যাদা বজায় রেখে অনুপর্ণার সন্তানবাৎসল্য ফল্গুধারার মতোই সর্বদা উৎসারিত হয়েছে।
শত দারিদ্র্য তাঁদের বাৎসল্যকে স্নান করতে পারেনি। মাটি ও মানুষের প্রাণের স্পন্দন গল্পটির ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে আছে। দারিদ্র্য জর্জরিত মাতৃহৃদয়ের কান্না ও পিতৃহৃদয়ের উচ্ছ্বাসে গল্পের আবহ ভারী হয়ে উঠেছে। জীবনের বেদনাদীর্ণ হাহাকার একটি পুঁইমাচাকে আশ্রয় করে ঝংকৃত হয়েছে।
ক-বিভাগ: অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
বাংলা সাহিত্যে মানুষের সুখ-দুঃখ এবং প্রকৃতির রঙ-রূপ চিত্রণে বিশেষত্ব কবি কে?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলা উপন্যাসে কে মৌলিকতা ও নবীনতা এনেছিলেন?'
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিভূতিভূষণ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর। চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুরে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবার নাম কী?
উত্তর। মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাতার নাম কী?
উত্তর। মাতা মৃণালিনী দেবী।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবার পেশা কী ছিল?
উত্তর। কথকথা ও পৌরোহিত্য।
বিভূতিভূষণের মাতুলালয় কোথায়?
উত্তর। মুরারিপুর গ্রাম, চব্বিশপরগনা।
বিভূতিভূষণ কখন জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর। ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।
বিভূতিভূষণ মৃত্যুবরণ করেন কত সালে?
উত্তর। ১৯৫০ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোথা থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন?
উত্তর। স্থানীয় বনগ্রাম স্কুল থেকে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কখন ম্যাট্রিক পাস করেন?
উত্তর। ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোথা থেকে আই.এস পাস করেন?
উত্তর। কলকাতা রিপন কলেজ থেকে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে আই.এস পাস করেন?
উত্তর। ১৯১৬ সালে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে ডিগ্রি পাস করেন?
উত্তর। ১৯১৮ সালে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর। গৌরী দেবী (১৯১৮)।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর তেইশ বছর পর আবার কাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ
করেন?
উত্তর। রমা দেবীকে দ্বিতীয় স্ত্রী (১৯৪০) হিসেবে গ্রহণ করেন।।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে কী ছিলেন?
উত্তর। শিক্ষক ছিলেন
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে কোথায় কোথায় চাকরি করতেন?
উত্তর। হুগলী জেলার জাঙ্গীপাড়া স্কুলে, সোনারপুর হরিনাভি স্কুলে, কলকাতা খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল
স্কুলে ও ব্যারাকপুরের নিকটবর্তী গোপালনগর স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
শরৎচন্দ্রের পরবর্তীকালে বাঙালি ঔপন্যাসিকদের মধ্যে কার জনপ্রিয়তা ছিল অসাধারণ?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কার উপন্যাসে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনাচরণের সজীব ও নিখুঁত চিত্র
মেলে?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কার উপন্যাসে গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায়?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।।
কার সাহিত্যের ভাষা মধুর এবং কাব্যধর্মী?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কার ছোটগল্পগুলোতে গীতিকবির ব্যক্তিত্ব সাপেক্ষদৃ ষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস কোনটি?
উত্তর। 'পথের পাঁচালী'।
বিভূতিভূষণের কয়েকটি উপন্যাসের নাম লেখ।
উত্তর। পথের পাঁচালী (১৯২৯), অপরাজিত (১৯৩১), দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫), আরণ্যক (১৯৩৮), আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০), দেবযান (১৯৪৪), ইছামতি (১৯৪৯) প্রভৃতি।
বিভূতিভূষণ কোন উপন্যাসের জন্য 'রবীন্দ্র-পুরস্কার' লাত করেন?
উত্তর। 'ইছামতি' (১৯৪৯) উপন্যাসের জন্য 'রবীন্দ্র-পুরস্কার' লাভ করেন।
বিভূতিভূষণের কয়েকটি ছোটগল্পের নাম লেখ।
উত্তরঃ মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২), যাত্রা
বদল (১৯৩৪), কিন্নর দল (১৯৩৮) প্রভৃতি গল্পগ্রন্থ।
বিভূতিভূষণের একটি আত্মজীবনীমূলক রচনার নাম লেখ।
উত্তর। 'তৃণাঙ্কুর' (১৯৪৩)।
'পুঁইমাচা' গল্পটির লেখক কে?
উত্তর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
'পুঁইমাচা' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর। পুঁইমাচা গল্পটি 'মেঘমাল্লা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
'পুঁইমাচা' গল্পের প্রধান প্রধান চরিত্রের নাম লেখ।
উত্তর। সহায়হরি, অন্নপূর্ণা, ক্ষেন্তি, লক্ষ্মী, পুঁটি, রাধী।
'পুঁইমাচা' গল্পে ক্ষেন্তি কে?
উত্তর। সহায়হরির বড় মেয়ে।
সহায়হরির স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর। সহায়হরির স্ত্রীর নাম অন্নপূর্ণা।
'পুঁইমাচা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
উত্তর। পুঁইমাচা গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্ষেন্তি।
সহায়হরির বড় মেয়ের নাম কী?
উত্তর। সহায়হরির বড় মেয়ের নাম ক্ষেন্তি।
ক্ষেন্তি কোন রোগে মারা যায়?
উত্তর। ক্ষেন্তি বসন্ত রোগে মারা যায়।
"একঘরে করবে গো তোমাকে একঘরে করবে।"-উক্তিটি কার?
উত্তর। পুঁইমাচা গল্পে অন্নপূর্ণার।
'দুইমাচা' গল্পে ভোজন পটু কে ছিল?
উত্তরঃ পুঁইমাচা গল্পে ভোজনপটু ছিল ক্ষেন্তি।
নুই শাকের ডাটা কে ফেলে দিয়ে আসতে বলে ক্ষেন্তিকে?
উত্তরঃ তার মা অন্নপূর্ণা।
সহায়হরি উঠানে পা দিয়েই তার স্ত্রীকে কী দিতে বলে?
উত্তর। একটা বড় বাটি কি ঘটি।
অন্নপূর্ণা শীতকালে সকালবেলা রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে কী করছিলেন?
উত্তরঃ নারকেল তেলের বোতল হতে ঝাঁটার কাটি দিয়ে তেল বের করছিলেন।
অন্নপূর্ণা শাস্ত সুরে কার মনে ভীতির সঞ্চার করে?
উত্তরঃ অন্নপূর্ণা শান্ত সুরে সহায়হরির মনে ভীতির সঞ্চার করে।
চৌধুরী বাড়িতে সহায়হরিদের সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
উত্তর। তাদের একঘরে করা হবে।
কোথায় ঘুরলেই ভদ্দরলোকের গাঁয়ে বাস করা যায় না? উত্তর। বান্দী দুলে পাড়ায়।
ক্ষেন্তির বয়স কত বলে তার মা উল্লেখ করে?
উত্তর। ক্ষেন্তির বয়স পনেরো বছর বলে তার মা উল্লেখ করে।
ক্ষেন্তি বাইরে থেকে ছোটবোনদের সাথে নিয়ে কী নিয়ে আসে?
উত্তর। ক্ষেন্তি বাইরে থেকে ছোটবোনদের সাথে পুঁই শাক নিয়ে আসে।
ক্ষেন্তির কাচের চুড়িতে ব্যবহৃত সেপটিপিনগুলোর দাম কত?
উত্তর। দু'পয়সা ডজন।
ক্ষেন্তি গয়া বুড়ির নিকট থেকে কী নিয়ে আসে?
উত্তর। ক্ষেন্তি গয়া বুড়ির নিকট থেকে চিংড়ি মাছ নিয়ে আসে।
ক্ষেন্তি পুঁই শাকগুলো কার নিকট থেকে নিয়ে আসে?
উত্তর। রায় কাকার নিকট থেকে।
পুঁই শাকের ডাটা কে ফেলে দিয়ে আসতে বলে ক্ষেন্তিকে?
উত্তর। তার মা অন্নপূর্ণা।
পুঁই শাকের চুপি চুপি আবার কে নিয়ে আসেন?
উত্তর। পুঁই শাকের চুপি চুপি আবার অন্নপূর্ণা নিয়ে আসেন।
ক্ষেন্তি দুপুরবেলা কী দেখে আশ্চর্য হলো?
উত্তর। তার পাতে পুঁই শাকের চচ্চড়ি দেখে।
বৈকালবেলা সহায়হরির কোথায় ডাক পড়ে?
উত্তর। কালীময়ের চন্ডীমণ্ডপে।
কালীময় কার সাথে ক্ষেন্তির বিয়ে ঠিক করেছিলো?
উত্তর। শ্রীমন্ত মজুমদারের ছেলের সাথে।
শ্রীমন্ত মজুমদারের ছেলের সাথে ক্ষেন্তির বাবা-মা কেন বিয়ে ভেঙে দেয়?
উত্তর। পাত্রটি গ্রামে কী একটা করতে গিয়ে বেদম-প্রহার খেয়ে শয্যাগত হওয়ার কারণে।
অন্নপূর্ণার ভাষ্যানুসারে পুঁই ডাটার চারা কখন পুতে হয়?
উত্তর। অন্নপূর্ণার ভাষ্যানুসারে পুঁই ডাটার চারা পুততে হয় বর্ষাকালে।
কলার পাতার উপর নারকেল কোরে কে?
উত্তর। কলার পাতার উপর নারকেল কোরে ক্ষেন্তি।
সহায়হরি/অন্নপূর্ণা ছোট মেয়ের নাম কী?
উত্তর। সহায়হরি/অন্নপূর্ণা ছোট মেয়ের নাম লক্ষ্মী।
সহায়হরি/অন্নপূর্ণা মেজো মেয়ের নাম কী?
উত্তরঃ সহায়হরি/অন্নপূর্ণা ছোট মেয়ের নাম রাধী।
সহায়হরি/অন্নপূর্ণা বড় মেয়ের নাম কী?
উত্তর। সহায়হরি/অন্নপূর্ণা ছোট মেয়ের নাম ক্ষেন্তি।
'পুঁইমাচা' গল্পে কোন কোন ব্রাহ্মণের নাম আছে?
উত্তর। সুরেশ কাকা এবং তিনুর বাবা।
ক্ষেন্তি কম করে হলেও কতটি পিঠা খায়?
উত্তর। আঠারো উনিশখানা।
ক্ষেন্তির কোন সময়ে বিয়ে হয়েছিলো?
উত্তর। বৈশাখ মাসের প্রথমে।
কার ঘটকালিতে ক্ষেন্তির বিয়ে হয়েছিলো?
উত্তর। সহায়হরির এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের ঘটকালিতে।
ক্ষেন্তির যার সাথে বিয়ে হয়েছিলো তার বয়স কত হবে?
উত্তর। ক্ষেন্তির যার সাথে বিয়ে হয়েছিলো তার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি।
ক্ষেন্তির সাথে যার বিয়ে হয়েছিলো, সে চুন ও ইটের ব্যবসা করতো কোথায়?"
উত্তর। ক্ষেন্তির সাথে যার বিয়ে হয়েছিলো, সে চুন ও
ইটের ব্যবসা করতো সিলেটে।
বিয়ের সময় বেহারারা সুবিধা করার জন্য পালকি কোথায় নামিয়েছিলো?
উত্তর। বিয়ের সময় বেহারারা সুবিধা করার জন্য পালকি নামিয়েছিলো আমলকিতলায়।
কোন সময় উঠানের মাচায় রৌদ্রে আমসত্ত্ব তুলতে গিয়ে অন্নপূর্ণার মন হু হু করতো?
উত্তর। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে মাচায় রৌদ্রে আমসত্ত্ব তুলতে গিয়ে অন্নপূর্ণার মন হু হু করতো।
বেড়ার ধারে কোন ফুল ফুটেছিলো?
উত্তর। বেড়ার ধারে মেদিফুল ফুল ফুটেছিলো।
সহায়হরির প্রতিবেশী কে?
উত্তর। সহায়হরির প্রতিবেশী বিষ্ণু সরকার।
'পুঁইমাচা' গল্পে কে তেলের বোতল সরিয়ে কার দিকে তাকিয়েছিল?
উত্তর। অন্নপূর্ণা তেলের বোতল সরিয়ে স্বামী সহায়হরির দিকে তাকিয়েছিল।
'তুমি মনে মনে কি ঠাউরেছ বলতে পার?'- কে কাকে বলেছে?
উত্তর। অন্নপূর্ণা বলেছে সহায়হরিকে।
গল্পকার হিসেবে বিভূতিভূষণের পরিচয় দাও।
উত্তর: স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর গ্রামে। তিনি ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে একই জেলার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 'পথের পাঁচালীর' লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ শিল্পী।
সহানুভূতিশীল অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিনি যেমন তাঁর উপন্যাসে মানুষকে দেখেছেন, তেমনি গ্রামবাংলার নিসর্গের ছবি এঁকেছেন অপূর্ব দক্ষতায়। শহরের কর্মকোলাহলময় পরিবেশ থেকে দূরে, গ্রামে শিক্ষকতার ব্রত নিয়ে তিনি জীবন কাটিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি সাহিত্য সাধনা করে রেখে গেছেন ব্যতিক্রমধর্মী সব সাহিত্য ফসল।
তাঁর লেখা বেশকিছু উপন্যাসের মধ্যে 'পথের পাঁচালী', 'অপরাজিত', 'আরণ্যক', 'ইছামতি' প্রভৃতিকে বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে বিবেচনা করা হয়। 'ইছামতি' গ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর রবীন্দ্রপুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর 'পথের পাঁচালী' চলচ্চিত্রায়িত ও বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
উপন্যাস ছাড়া তিনি ছোটগল্প, নাটক, দিনলিপি প্রভৃতি লিখেছেন। বিভূতিভূষণের প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে পথের পাঁচালী (১৯২৯), অপরাজিত (১৯৩১), দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫), আরণ্যক (১৯৩৮), আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০), দেবযান (১৯৪৪), ইছামতি (১৯৪৯) প্রভৃতি উপন্যাস; মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২), যাত্রা বদল (১৯৩৪), কিন্নর দল (১৯৩৮) প্রভৃতি গল্পগ্রন্থ এবং তৃণাঙ্কুর (১৯৪৩) দিনলিপি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুঁইমাচা' গল্পের বিষয় বর্ণনা কর
উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুঁইমাচা' গল্পে গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণের নাম সহায়হরি চাটুয্যে। তাঁর স্ত্রীর নাম অন্নপূর্ণা। এই দম্পতির কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। অন্নপূর্ণা-সহায়হরির পরিবারের চার মেয়ের নাম যথাক্রমে ক্ষেন্তি, পুঁটি, রাধী ও খেদি।গল্পের বিষয় : সহায়হারির অভ্যাস ছিল বড়শি দিয়ে মাছ ধরা এবং পরের জিনিস চেয়ে আনা। অন্নপূর্ণা স্বামীর এই বদভ্যাসকে সমর্থন করতেন না। তিনি সব সময় স্বামীকে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করতেন। কারো কাছ থেকে কিছু চেয়ে না চেয়ে আনাকে অন্নপূর্ণা ঘৃণা করতেন। বড় মেয়ে ক্ষেন্তির বয়স চৌদ্দ পনেরো। একবার তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল মণিগাঁয়ের মজুমদার বাড়িতে।
কিন্তু পাত্রটির স্বভাবচরিত্র ভালো নয় এই মর্মে খবর এলে সহায়হরি সে সম্বন্ধ ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। এ কারণে উচ্ছ্বগগু করা মেয়ে বলে সমাজে ক্ষেন্তির দুর্নাম ছিল। এরপর আর সম্বন্ধ যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। সমাজপতিরা সহায়হরিকে 'একঘরে' করার ভয় দেখালেন।
একদিন সহায়হরি গোঁসাইদের বরজপোতার জঙ্গল থেকে বড় মেয়ে ক্ষেন্তিকে নিয়ে একটা বড় মেটে আলু তুলে আনলেন। অন্নপূর্ণা বুঝতে পেরে স্বামী ও মেয়েকে তীব্র কণ্ঠে তিরস্কার করলেন। অন্নপূর্ণা মেয়েদের খুব ভালোবাসতেন। তিনি দরিদ্র হলেও মেয়েদেরকে এটা ওটা তৈরি করে খাওয়াতেন। ক্ষেন্তি পুঁইশাক খুব পছন্দ করতেন। পুঁইশাক পেলে তার আর কিছুর প্রয়োজন হতো না।
একবার সে ও পাড়ার রায়েদের ফেলে দেয়া মোটা ও হলুদ রঙের পুঁইশাক কুড়িয়ে এনেছিল বলে মা তাকে যা- ইচ্ছে-তাইভাবে ভর্ৎসনা করেছিলেন। এরপর ক্ষেন্তি বাড়ির উঠানের পাশে একটা পুঁইশাকের চারা পুঁতে মাচা তৈরি করে দিল। সে পুঁইমাচাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে লাগল।
প্রতিদিন এর গোড়ায় পানি ঢেলে যত্ন করতো। কিন্তু ইতোমধ্যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিকে ক্ষেন্ডির বিয়ে হয়ে গেল। দ্বিতীয় পক্ষের পাত্র বলে জামাইয়ের বয়স ছিল চল্লিশের উপর। এ কারণে অন্নপূর্ণার এ বিয়েতে মত ছিল। না।
কিন্তু পছন্দসই পাত্র যোগাড় করার ক্ষমতা না থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হলেন। ক্ষেন্তি শ্বশুরবাড়ি চলে গেল। পণের আড়াইশ টাকা বাকি থাকার কারণে বিয়ের পর ক্ষেন্তিকে আর বাপের বাড়িতে আসতে দেয়া হয়নি। এরপর ফাল্গুন মাসে বসন্ত রোগে ভুগে ক্ষেন্তি মারা গেল।
মন্তব্য: ক্ষেন্তির মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে পৌষ-সংক্রান্তিতে অনুপূর্ণা মেয়েদের জন্য পিঠা বানাতে বসে ক্ষেন্তির কথা মনে পড়ল। মেজো মেয়ে পুঁটি মন্তব্য করল, 'দিদি বড় ভালোবাসত'। অশ্রুপূর্ণ চোখে অনুপূর্ণা বাইরের উঠানের দিকে তাকিয়ে দেখলেন ক্ষেন্তির তৈরি করা পুইমাচাটা পুঁইশাকে কানায় কানায় ভরে গিয়েছে। অথচ ক্ষেন্তি আজ নেই। সে যেখানে গিয়েছে সেখান থেকে আর কোন দিন ফিরে আসবে না।
লেখকের মন্তব্য
আমরা এই আর্টিকেলটির মধ্যে আলোচনা করেছি কৈ মাছের গল্পের মূলভাব এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর। এ প্রশ্নগুলো এবং এই মূলভাবগুলো এমন ভাবে দেওয়া হয়েছে যাতে সহজেই সবাই বুঝতে পারে। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। এই পোস্টটির নিচে যে ফেসবুক আইকন অথবা বিভিন্ন আইকনের ছবি দেখতে পাচ্ছেন সেখানে ক্লিক করলেই সে একাউন্টে শেয়ার করতে পারবেন। তাই দেরি না করে দ্রুত শেয়ার করুন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন।


ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url