ছোট থেকে বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা মূলক কথা

মানুষ যেমন ছোট থেকে বড় হয় তোমন ই একটা গাছ ও অনেক কষ্টের পরে ছোট থেকে বড় হয়। আপনি যদি ছোট থেকে বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা মূলক কথা জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনাপর জন্য। এই অনুপ্রেরণা মূলক কথা আপনার জীবনে বদলে দিতে পারে।
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা
আমরা সবাই ছোট কিছু নিয়ে শুরু করি। একটি ছোট বীজ, একটি ছোট চারা, একটি ছোট স্বপ্ন, বা ছোট কোন কিছু দিয়ে। কিন্তু পৃথিবীর সব বড় জিনিসই একসময় ছোট ছিল।

এই গল্পটি ঠিক সেই সত্যিকারের অনুপ্রেরণা নিয়ে লেখা, কীভাবে এক অতি সামান্য বীজ মাটির নিচে অন্ধকারে লড়াই করে, সব বাধা উপেক্ষা করে বেরিয়ে আসে, আর একদিন বিশাল ছায়াদার গাছে পরিণত হয়। অনুপ্রেরণা মূলক কথা গুলো পড়ার সময় মন দিয়ে পড়ুন অনুভব করুন তবেই আপনি ছোট থেকে বড় হতে পারবেন সাহস নিয়ে শক্তিতে।
evvtv

গল্পের শুরুতে এক অনিশ্চিত দিন

একটা সময় ছিল। একটি বন ছিল ঘন আর সবুজ। সেই বনের এক ধারে ছিল একটি প্রকান্ড আম গাছ। গ্রীষ্মকালে সেই গাছে প্রচুর পাকা আম ধরে। একদিন একটি পাখি এসে একটি পাকা আম খেয়ে ফেলল। আমের ভেতরের আঁটিটা (বীজ) পাখিটি ফেলে দিল মাটির ওপর। সেটা ছিল ছোট্ট, শক্ত, মলিন – দেখতে বড়ই সাধারণ।

সেই বীজটি যখন মাটির ওপর পড়ল, তখন তার চারপাশের সবাই তাকে উপেক্ষা করল। একটি পিঁপড়ে এসে বলল, “তুই খুব ছোট, তোর থেকে কোনো কাজ হবে না।” একটি পাতাবাহার কীট তাকে ঠেলে সরিয়ে দিল। রোদে শুকিয়ে যাচ্ছিল বীজটি। কিন্তু বীজটির ভেতরে ছিল এক অদম্য ইচ্ছে – “আমি বড় হব। আমি গাছ হব।” রাতের বেলা হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো।
এক ধারায় জল পড়তে লাগল। সেই বৃষ্টির পানিতে বীজটি ভিজে গেল। পানি পেয়ে তার শক্ত খোসা নরম হতে লাগল। মাটি ভিজে নরম হলো। বীজটি ধীরে ধীরে মাটির নিচে ঢুকে পড়ল। তখন থেকেই তার লড়াই শুরু। আর আমাদের জীবনেও ঠিক এমন ভাবেই একটা সময় আমরা প্রচন্ড কষ্ট পাই।

মানুষ আমাদের কে অবহেলন করে হাসাহাসি করে। কিন্তু যে এখানে হাল ছেড়ে দেয় সে আর বড় হতে পারে না। তবে এই অবহেলা গুলো কান না দিয়ে নিজের ছোট কাজ টা নিয়ে এগিয়ে  যায়, সেই ঠিক বিজের মতো, তখন নিজের ভিতরে শক্তি তৈরি হতে থাকে। তারপর থেকে তৈরি হয় নতুন এক যাত্রা। যেখানে হার মানা চলবে না।

মাটির নিচে এক অন্ধকার যাত্রা

মাটির নিচে একেবারে অন্ধকার কোনো আলো নেই। চারপাশে শুধু শক্ত মাটি আর পাথরের টুকরো। ছোট্ট বীজটি নিজেকে বলল, “আমি যদি এখানে পড়ে থাকি, তবে নষ্ট হয়ে যাব। আমাকে উপরের দিকে যেতে হবে।”
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা
সে তার ভেতরের শক্তি জোগাড় করল। ধীরে ধীরে একটি ছোট শিকড় বের করল। শিকড় মাটি ভেদ করে পুষ্টি সংগ্রহ করতে লাগল। তারপর উপরের দিকে একটি ছোট কুঞ্চিত ডগা (অঙ্কুর) বের করল।

সেই ডগাকে মাটির চাপ ঠেলে উপরে উঠতে হচ্ছিল। কখনো পাথর বাধা দিচ্ছিল, কখনো শক্ত স্তর। কিন্তু বীজটি থামল না।

একদিন, সকালের রোদ পৃথিবীতে পড়ছে, তখন সেই ডগাটি মাটি ফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এল। পৃথিবীর প্রথম আলো দেখে সেটি আনন্দে নেচে উঠল। হ্যাঁ, এটি এখন আর বীজ নেই – এটি একটি চারা।

ঠিক এটার মতোই, আমরা যখন ছোট থাকি আমাদেরকে প্রচুর কষ্ট করতে হয়। এত কষ্ট করলে হয় না আমাদের মনকে শক্ত করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। যখন আমরা সব অপেক্ষা করি সামনের দিকে এগোই তখন আমাদেরকে অনেক কিছুই বাধা দেয়। যখন আমরা এই বাধা উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই ছোট থেকে আমরা আরেকটু বড় হয়।

চারার প্রথম দিনগুলির কষ্ট

মাটির ওপরে পৃথিবী সুন্দর, কিন্তু বিপদও কম নয়। চারাটি যখন দুই পত্র বিশিষ্ট ছোট্ট গাছ হয়ে উঠল, তখন তার জন্য শুরু হলো নতুন সংকট।
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা
  • পোকামাকড়: একটি শুঁয়োপোকা এসে তার একটি পাতা খেয়ে ফেলল। চারাটি কষ্ট পেল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আরও শক্তি নিয়ে অন্য পাতা বড় করতে লাগল।

  • প্রবল বাতাস: একদিন ঝড় শুরু হলো। বাতাসে ছোট চারাটি প্রায় উপড়ে যাচ্ছিল। তার শিকড় এখনও গভীর হয়নি। চারাটি মাটিকে জড়িয়ে ধরে বাঁচল। বাতাস থামলে সেটা কিছুটা বেঁকে গেলেও, ভাঙেনি।

  • খরা: সেদিন অনেক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেল। চারাটি তার শিকড় আরও গভীরে পাঠাল, যেখানে কিছু আর্দ্রতা ছিল। তাও শেষ হয়ে এলে চারা পাতা কুঁচকে ফেলল – নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য। এক সপ্তাহ পর বৃষ্টি এল, চারা আবার সবুজ হয়ে উঠল।ছোড়ট থেকে বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা
এই লড়াই আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। স্কুলের ছাত্রদের মনে রাখা দরকার – ড়পড়াশোনায়, খেলাধুলায় বা কোনো কাজে যখন বাধা আসে, তখনো যদি একটু একটু করে চেষ্টা চালিয়ে যাও, একদিন তুমি সফল হবে। যেমন চারাটি হাল ছাড়েনি।

আমাদের জীবনেও যখন আমরা একা এগিয়ে যাই বা ছোট থেকে একটু বড় হই, তখন আমরা বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হই। একটি চাটা যেমন বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয় আমাদের জীবনেও তেমন অনেকে কথা আছে। তবে যদি আমরা মনকে শক্ত করি সামনের দিকে এগোতে থাকি তাহলে এগুলো বাধা আমরা সহজেই সামনে থেকে এগিয়ে যেতে পারি।।

বড় হওয়ার পথে অনুপ্রেরণা মূলক কথা

দিন কেটে গেল। কয়েক মাসের মধ্যে চারাটি একটি ছোট গাছ হয়ে উঠল। তখন কাছের একটি পুরনো বটগাছ তাকে বলল, “শোনো বাবু, তুমি যদি সত্যিই বড় গাছ হতে চাও, তবে তিনটি জিনিস শিখতে হবে – ধৈর্য, নমনীয়তা ও সাহস।” আর আমরাও যদি আরো অনেক বড় হতে চাই তাহলে প্রয়োজন ধৈর্য নমনীয় ও সাহস এবং সঠিক লক্ষ্য রেখে সামনের দিকে এগুলো চেষ্টা।
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা

গাছটি ব্যাখ্যা করল:

  • ধৈর্য: গাছ কখনো তাড়াহুড়ো করে বড় হয় না। প্রতিদিন একটু করে বাড়ে। তেমনই মানুষেরও প্রতিদিন একটু করে শেখা উচিত।
  • নমনীয়তা: ঝড় এলে শক্ত গাছ ভাঙে, কিন্তু নমনীয় গাছ বেঁকে যায়, টিকে থাকে। জীবনের ঝড়ে নমনীয় হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
  • সাহস: অন্য গাছের ছায়ায় বড় গাছ হতে পারে না। নিজের আলো নিজে তৈরি করার সাহস রাখতে হয়।ছোট গাছটি এই কথাগুলি মনে গাঁথল। সে অঙ্গীকার করল – সে সাহসী হবে, কঠিন সময়ে নমনীয় হবে, ধৈর্য ধরে বাড়তে থাকবে। বছর ঘুরল। গরমে গাছটি অনেক পাতা ঝরালেও আবার নতুন পাতা দিল। বর্ষায় তার শিকড় মজবুত হলো। শীতে যখন আশপাশের সব গাছ পাতা হারালো, তখনো এই গাছটি কিছু পাতা ধরে রাখল – যেন বলছে, “আমি এখনও বেঁচে আছি, লড়াই করছি।”

বিপদের মুখে চূড়ান্ত পরীক্ষা

যখন গাছটি প্রায় ১০ ফুট উঁচু হয়েছে, তখন এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় এল। আগের সব ঝড়ের চেয়ে এটি ছিল অনেক শক্তিশালী। পুরনো বটগাছের একটি বড় ডাল ভেঙে গেল। ছোট গাছটি টলতে টলতে প্রায় মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। তার শিকড় আলগা হয়ে গেল। তখন তার ভেতরের কণ্ঠস্বর বলল, “আমি যদি মাটিতে পড়ে যাই, তবে বাঁচতে পারব না। আমার এখনই সব শক্তি দিয়ে লেগে থাকতে হবে।”
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা
গাছটি তার শিকড়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত মাটির গভীরে জড়াল। বাতাস যখন তাকে মাটির দিকে বাঁকাচ্ছে, তখন সে বলে উঠল, “আমি বীজ ছিলাম, আমি অন্ধকার দেখেছি, আমি পাথর ঠেলে উপরে এসেছি, আমি আর এই বাতাসের কাছে হারব না!”

অবশেষে ঝড় থামল। গাছটি বাঁকা হয়ে গেলেও ভাঙেনি। পরদিন সকালে রোদ উঠল, গাছটি তার ডালপালা সোজা করে নিল। সে জিতেছে। সেই দিনের পর থেকে গাছটি আরও শক্তিশালী হতে লাগল।

একদি পরিণত গাছ - অনুপ্রেরণা মূলক কথা

পনেরো বছর কেটে গেল। সেই ছোট বীজটি এখন একটি বিরাট আম গাছে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্মকালে তার ডালে ডালে রসালো, মিষ্টি আম ধরে। পাখিরা এসে বাসা বাঁধে। পথিকরা তার ছায়ায় বিশ্রাম নেয়। ছোট্ট শিশুরা দোলনা বেঁধে দোল খায়।
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা
একদিন এক মেধাবী কিন্তু হতাশ একটি বালক সেই গাছের তলায় এসে বসে। সে বলল, “আমি খুব ছোট, আমি কিছুই পারি না। স্যার আমাকে ক্লাসে বোকা বলে।”
ছোট-থেকে-বড়-হওয়ার-অনুপ্রেরণা-মূলক কথা
গাছটি হেসে বলল, “শোনো বাছা, আমিও এক সময় মাটির নিচে অন্ধকারে ছিলাম। সাপ, পোকা, পাথর সব বাধা এসেছিল। কিন্তু কখনো থামিনি। তুমি যদি প্রতিদিন একটু করে লেখ, পড়, চেষ্টা কর, একদিন তুমি সবার চেয়ে বড় হবে। মনে রেখো – ছোট হয়েই শুরু হয় সব বড় গল্প।”


বালকটি গাছটির গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হলো। তার পর থেকে সে নিয়ম করে পড়তে লাগল। কয়েক বছরের মধ্যেই সে স্কুলে প্রথম হলো। আজ সেই বালক একজন নামী ডাক্তার। এখনও তিনি সেই গাছের তলায় এসে দাঁড়ান, নিজের ছোটবেলার কথা মনে করেন।

গল্প থেকে শিক্ষা – আমাদের জীবনের পাঠ

এই গল্পটি আমাদের জীবনের, এটি আমাদের প্রতিটি মানুষের যাত্রার গল্প। আপনি এখন যত ছোট, দুর্বল, অসহায়ই মনে করুন না কেন – আপনার ভেতরে সেই বীজের মতো অপার সম্ভাবনা আছে। শুধু দরকার ধৈর্য, সাহস আর অবিরাম চেষ্টার।

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিছু অনুপ্রেরণামূলক বাণী:
শুরু সবসময় ছোট হয় – বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার, সেরা বিজ্ঞানী, সেরা শিল্পী – তারা সবাই একসময় প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল। তুমিও নাও।

বাধা আসবেই, কিন্তু থামবে না – মাটির নিচের অন্ধকার পেরোতে না পারলে গাছ উপরে আসতে পারত না। তোমার জীবনেও অন্ধকার আসবে, সেটাই তোমাকে শক্ত করবে।

প্রতিদিন একটু করে বড় হও – একটি গাছ দিনে মাত্র কয়েক মিলিমিটার বাড়ে। তবু বছর শেষে অনেক বড় হয়ে যায়। পড়াশোনায় তাই প্রতিদিন অল্প অল্প করে শেখো – জমে যাবে।

নিজেকে বিশ্বাস করো – বীজটি যখন মাটির নিচে ছিল, কেউ তাকে বিশ্বাস করত না। কিন্তু সে নিজেকে বিশ্বাস করেছিল। তুমিও করো।

কারও ছায়ায় থেকো না – নিজের স্বপ্ন নিজে দেখো, নিজের আলো নিজে জ্বালাও।

উপসংহার - অনুপ্রেরণা মূলক কথা

এই গল্পটি সেই সব ছোট মানুষদের জন্য, যারা আজ মনে করে – “আমি খুবই ছোট, আমার দিয়ে কিছু হবে না।” কিন্তু বাস্তবতা হলো পৃথিবীর সব বড় বৃক্ষ একসময় ছোট বীজ ছিল। গঙ্গা নদী ছোট ঝরনা থেকে শুরু হয়েছিল। আলবার্ট আইনস্টাইন ছোটবেলায় কথা বলতে দেরি করতেন। কিন্তু তারা কেউ থেমে থাকেননি।

আপনিও যদি ছোট থেকে বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা মূলক কথা গুলো মন দিয়ে পড়ে থাকেন, তবে এখন-ই সময় আপনার যাত্রা শুরু করার। আপনার ভেতরে সেই শক্তি আছে। আর আমিও জানি আপনি পারবেন। মাটির নিচের অন্ধকারকে ভয় পাবেন না। পাথরগুলোকে প্রতিবন্ধকতা না বলে সিঁড়ি বানিয়ে নিন।

আমার শেষ কথাটি মনে রাখবেন ছোট থাকা কোনো দোষ নয়, কিন্তু ছোট থাকতে থাকতে থাকাটাই আসল দোষ। এই রকম আরো অনুপ্রেরণা মূলক কথা পেতে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন। এই অনুপ্রেরণা মূলক কথা গুলো আপনি পড়তে পড়তে ভাবতে না পারলে এই গভির অর্থ ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url