বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা SSC HSC

বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা সম্পর্কে যদি আপনি জানতে চান বা বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনাটি যদি আপনি পড়তে চান এ আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনাদের অনেকের বই থাকে না তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে কারণ এখান থেকেই আপনি বিক্ষোভন অভিযান রচনাটি পড়তে পারবেন।
বৃক্ষরোপণ-অভিযান-রচনা
আমরা অনেক সময় এমন জায়গায় থাকি সেখানে বই নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এমন পরিস্থিতে ডিজিটাল ডিভাইস-ই আমাদের কাজে আসে।
সূটিপত্র

বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা সকল শ্রেণির জন্য

আপনি যেই শ্রেণির-ই হন না কেন এই আর্টিকেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারন আমার এই আর্টিকেলে আলোচনা করিছে সকল শ্রেণির জন্য বৃক্ষরোপন অভিযান রচনা। এখান কয়েকটি রচনা তুলে ধরা হয়েছে আপনি আপনার পছন্দমতো যে কোন রচনা পড়তে পারেন।

অনেকেই আছে যারা সব রচনা মনে রাখতে পারেন না বা পড়তে কিছুটা কঠিন মনে হয়, আপনারা অনেকেই চান সহজ রচনা আর আমি ও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম সব সময় সহজ রচনা খুঁজতাম। আপনাদের সুবিধার্থে এখানে কয়েকটা রচনা তুলে ধরেছি। তাহলে চলুন আর দেরি না করে আমরা রচনা টি দেখে নেই।

বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা

বৃক্ষরোপণ-অভিযান-রচনা

ভূমিক

মানবসভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিবিড় বৃক্ষ-শোভিত অরণ্যের শ্যাম-স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার। আদিম যুগে মানুষ ছিল সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতি-নির্ভর।

মানুষের সার্বিক চাহিদা পূরণের একমাত্র উৎস ছিল প্রকৃতির সুপরিসর অঙ্গন। আদিকাল থেকে মাটি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক অতি নিবিড়। তাই প্রাচীন কাল থেকেই অরণ্যের বিভিন্ন গাছপালার সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকার একটা অবিচ্ছেদ্য সংযোগ গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে বনের অবস্থা

যেকোনো দেশের জন্যে মূল ভূখণ্ডের কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের মাত্র শতকরা ১৬ ভাগ। বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় দু-তৃতীয়াংশ হলেও তা বৃদ্ধির জন্যে উদ্যোগের অভাব প্রকট। অহরহ আমরা কারণে-অকারণে আমাদের আশপাশ থেকে নির্বিচারে বৃক্ষরাজি নিধন করে চলেছি।

এতে করে আমরা ক্রমশ একটা অনিবার্য অনিবার্য করুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছি। নির্বিচারে বনভূমি বা বৃক্ষরাজি নিধনের ফলে সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ পরিবেশ দূষণের শিকারে পরিণত হচ্ছে। ষড়ঋতুর লীলা-নিকেতন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।


পক্ষান্তরে আকস্মিক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রতি বছর বাংলাদেশ হচ্ছে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। জলবায়ু ক্রমশ এগিয়ে চলেছে চরমভাবাপন্ন পরিণতির দিকে। এভাবে বৃক্ষ নিধন চলতে থাকলে হয়তো নিকট ভবিষ্যতেই একদিন বাংলাদেশ ঊষর মরুতে পরিণত হবে।

বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা

মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বৃক্ষ মানুষ তথা প্রাণী মাত্রেরই খাদ্যের একমাত্র উৎস। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষ পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে এবং তার অনিষ্টকর প্রভাব থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে।

মানবজীবনে বৃক্ষ এবং তার উপযোগিতার কথা অনস্বীকার্য। বৃক্ষের বিভিন্নমুখী অবদানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তন বা উত্তরণের কথা কল্পনাই করা যায় না। বৃক্ষ খাদ্যের উৎস, শক্তির উৎস। বৃক্ষ মানুষকে অক্সিজেন দান করে মানুষের ত্যাগকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সমগ্র জীবকুলকে রক্ষা করে চলেছে। মহান স্রষ্টার সুষ্ট গাছপালা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে।

তাই মানবজীবনে বৃক্ষের চাহিদা সর্বাধিক। বৃক্ষ মানুষের খাদ্য সরবরাহ করে, বস্ত্রের জন্যে প্রয়োজনীয় উপাদানের যোগান দেয়। বাসস্থান তৈরির অন্যতম উপকরণও বৃক্ষ। রোগ নিবারণকারী এবং স্বাস্থ্য গঠন ও রক্ষাকারী মূল উপাদান আসে বৃক্ষ থেকে। জীবনের জন্যে অন্যতম উপাদান অক্সিজেন তৈরি এবং সরবরাহ করে বৃক্ষ। কাজেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে

বৃক্ষ পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে। বৃক্ষকে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক বলা যায়। গাছপালা অধিক বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে, নদীভাঙন থেকে ভূ-ভাগকে রক্ষা করে। অতএব আমাদের পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং খাদ্য ঘাটতির হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্যে বনাঞ্চল সৃষ্টি ও বন সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষ নিধনজনিত অনিবার্য মারাত্মক পরিণতির হাত থেকে রেহাই পেতে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। সাধারণত এ অভিযানে মেহগনি, সেগুন, ইউক্যালিপটাস, ইপিল-ইপিল, আম, জাম, পেয়ারা, জামরুল প্রভৃতি নানা জাতের বৃক্ষের চারা সরকারি নার্সারি থেকে রোপণের জন্যে সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় অধিকাংশ চারাগাছ লাগাবার কিছুদিন পরই মারা যায়। আমাদের উচিত একটি বৃক্ষ নিধনের পূর্বেই তার বদলে কমপক্ষে চারটি করে চারা রোপণ করা এবং সযত্নে সেগুলোকে লালন করা। কেননা বৃক্ষ আছে বলেই বিশ্বের বুকে মানবসমাজ আজও টিকে আছে।

গাছের চারা সংগ্রহ ও রোপণ

আমাদের দেশে বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বর্তমানে সরকারের বনবিভাগ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বনবিভাগ চারা উৎপাদন করে জনগণের কাছে সহজে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চারা বিতরণ কেন্দ্র ও বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে জনগণ তা রোপণ করতে পারে।

এ ছাড়া এ অভিযানকে জনপ্রিয় করার জন্যে প্রতিবছর বৃক্ষমেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলা থেকে জনগণ বিভিন্ন গাছের সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং চারা সংগ্রহ করতে পারছে। এ ছাড়া সরকার প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে চারা রোপণের পদ্ধতি ও পরিচর্যা, সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে পারে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার উপায়

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুন গাছের চারা রোপণ করতে হবে এবং পুরাতন গাছ কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে। বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে সকলকে সচেতন করে তাদেরকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহী করতে হবে।

যদি বিশেষ প্রয়োজনে গাছ কাটতে হয়, তাহলে গাছ কাটার আগে অন্ততপক্ষে আরেকটি গাছ লাগিয়ে নিতে হবে। সরকারি পর্যায় থেকে বিভিন্ন জাতের বীজ ও চারা সংগ্রহ করে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এসব পদক্ষেপ বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির বাস্তবায়ন তরান্বিত করবে।

বৃক্ষ সংরক্ষণ

গাছ লাগালেই গাছ হয় না। তার যত্ন, পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাদি না থাকলে অকালমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তা ছাড়া পুরোনো অরণ্যরাজিরও যত্ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে 'বনবিভাগ' নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ দপ্তরের সক্রিয় প্রচেষ্টায় অরণ্য সম্প্রসারণ ও অরণ্য সংরক্ষণের যাবতীয় কাজকর্মও চলছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

বৃক্ষ সংরক্ষণে পালনীয় ব্যবস্থাদি

আর্থিক ব্যয় বরাদ্দ করলেই অরণ্য সম্প্রসারণ, অরণ্য সংরক্ষণের লক্ষ ও উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হতে পারে না। এর জন্যে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারিভাবে আন্তরিক প্রয়াস ও প্রচেষ্টা।

একদিকে যেমন দরকার বনভূমি সুজনের, অপরদিকে তেমনি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন অরণ্য উচ্ছেদের অপপ্রয়াস। অরণ্য সম্পদ আমাদের জন্যে অপরিহার্য, নইলে বহু শিল্পের অপমৃত্যু অবধারিত। সুতরাং বনভূমি সংরক্ষণার্থে কয়েকটি পালনীয় ব্যবস্থার কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়। যেমন-

ক. অরণ্যের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ বন্ধ করা।
খ. নতুন চারাগাছ লাগানো এবং তার প্রয়োজনীয় পরিচর্যা।
গ. কেবল পরিণত বৃক্ষচ্ছেদন; অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন যাতে না হয় আইন করে তা নিষিদ্ধ করা।
ঘ. নতুন বনভূমিতে পশুচারণ নিষিদ্ধ করা।
ঙ. বৃক্ষকে কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
চ. অরণ্য-গবেষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উপসংহার

বৃক্ষরাজি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। কাজেই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সাজাতে হবে সবুজ-শ্যামলিমায়। নতুন প্রাণের স্পন্দনে মাতিয়ে তুলতে হবে প্রকৃতিকে। বৃক্ষ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং রক্ষক।

ঘরের আঙিনায়, আশপাশে, চলার পথের ধারে, পার্কে, হাটে-বাজারের উপকণ্ঠে মানুষ যদি আদিম বন্ধু উদ্ভিদকে রোপণ করে, সস্নেহ পরিচর্যায় পত্রপুষ্পে সুশোভিত হতে দেয়, ঐ বন্ধুই কৃত্রিমতার অভিশাপকে মুছে দিয়ে আমাদেরকে তুলে নেবে শ্যামলতার গন্ধবাসিত কোমল ক্রোড়ে, দিবে সঞ্জীবনী প্রাণদ বায়ু, আর্থিক সমৃদ্ধি।

পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন HSC - বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা

পরিবেশ-সংরক্ষণে-বনায়ন
"অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান।
প্রাণের প্রথম জাগরণে তুমি, বৃক্ষ, আদিপ্রাণ।
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা,
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ পরে আনিলে বেদনা নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে।"

সভ্যতার আদি যুগে মানুষ একদিন অরণ্য প্রকৃতির নিবিড় ছায়ায় সহস্র বিটপীর স্নিগ্ধ সান্নিধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছে। কিন্তু সভ্যতা যতই সম্প্রসারিত হয়েছে, মানুষ ততই প্রকৃতির জগৎ থেকে নির্বাসিত হয়েছে। মানুষ নিজ হাতে নির্মূল করেছে তার শৈশব সভ্যতার সঙ্গী তরুরাজিকে।

সভ্যতা যেমন আমাদের দিয়েছে প্রচুর, তেমনি কেড়েও নিয়েছে অনেক কিছু। বৃক্ষের সঙ্গে আমরা আজ আত্মীয়তা হারিয়ে ফেলতে চলেছি অথচ এই বৃক্ষই আমাদের প্রাণের উৎস। বৃক্ষরোপণ তথা বনায়ন শুধু প্রকৃতিকে ভালোবাসার স্মারক নয়, এ হলো মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার এক মহৎ প্রয়াস।

বনায়ন ও পরিবেশ - বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা

সভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষ গাছপালা ও তৃণলতার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। এ বৃক্ষলতাই মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান জুগিয়েছে। জীবন ও প্রকৃতির অস্তিত্ব টিকে আছে বৃক্ষের ওপর। আগে এই বৃক্ষরাজি মানুষকে প্রাকৃতিকভাবেই বেষ্টন করে রাখত কিন্তু বৃক্ষনিধন করে আজ পৃথিবী এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে মানুষকেই বৃক্ষরোপণ করতে হচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় বনায়ন।

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে বর্তমানে এর কোনো বিকল্প নেই। বনায়ন আর সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ দুটি শব্দ যেন পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বনায়ন ছাড়া পরিবেশের অস্তিত্ব ও সৌন্দর্য কল্পনাই করা যায় না।

পরিবেশ বিপর্যয়ে বর্তমান বিশ্ব

বর্তমান সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কল-কারখানার প্রসার, রাসায়নিক তেজষ্ক্রিয়তা ও বনজ সম্পদ নিঃশেষ করার জন্য পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ পরিবেশ বিপর্যয়কে বিজ্ঞানীগণ গ্রিনহাউস ইফেক্ট বা গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া নামে চিহ্নিত করেছেন।

এই প্রতিক্রিয়ার দরুণ সূর্যের তেজস্ক্রিয় রশ্মিগুলো সরাসরি পৃথিবীতে আসছে। অকাল বন্যা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, তুষারপাত, ভূমিধস, প্রভৃতির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধকল্পে যে সমস্ত কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন তাদের মধ্যে বনায়ন অন্যতম।

আধুনিক পরিবেশ বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন যে, পানি এবং বায়ুমণ্ডলের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সম্পর্ক রয়েছে যাকে ইকোসিস্টেম বলে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে শুধু প্রকৃতি নয়, গোটা পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আর বর্তমান বিশ্ব সেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ারই শিকার।

বাংলাদেশের বনভূমি

আমাদের দেশে একসময় যথেষ্ট বন-বনানী ছিল। কিন্তু কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক জনসংখ্যার চাপে এবং বসতবাড়ি তৈরির প্রয়োজনে বন কাটা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে আমাদের দেশের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ বনভূমি থাকা প্রয়োজন তা নেই। একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

কিন্তু সেখানে আমাদের দেশে মোট ১৭ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত সুন্দরবন, ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়, চট্টগ্রাম, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনভূমি আমাদের দেশের এক বিশাল সম্পদ। তবে বর্তমানে আমাদের যে পরিমাণ বনভূমি রয়েছে তা যদি আর ধ্বংস না করা হয়, তবে তা প্রয়োজনীয় বনভূমিতে পরিণত হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

বাংলাদেশে বনায়নের গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

মানুষ আজ অরণ্য বিনাশের মাধ্যমে পৃথিবীতে আহ্বান করে আনছে মরুভূমি। অরণ্যই মরুভূমিকে প্রতিরোধ করতে পারে, অরণ্যই মরুভূমিকে শ্যামল-স্নিগ্ধ, স্নেহময়ী জননীর মূর্তি দান করতে পারে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও নাগরিক সভ্যতার ইট, কাঠ, পাথরের কৃত্রিমতায় ক্লান্ত হয়ে আবেগ কম্পিত কণ্ঠে প্রার্থনা করেন-

"দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর নাও যত লৌহ,
লোফ্ট, কাঠ ও প্রস্তর হে নব সভ্যতা,
হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী দাও ফিরে তপোবন,
পুণ্যচ্ছায়া রাশি, গ্লানিহীন অতীতের দিনগুলো।"

উন্নয়নশীল বিশ্বের শতকরা ৩ ভাগ ইন্টারনাল রিটার্ন ও শতকরা ৭০ ভাগ জ্বালানি শক্তির জন্য বৃক্ষ বা কাঠের ওপর নির্ভরশীল এবং এ চাহিদা পূরণের জন্য কোনো দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনজসম্পদ অত্যাবশ্যকীয়।

অর্থনৈতিক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসম্পদের পরিমাণ মোট ভূ-ভাগের ৯.৩ শতাংশ এবং বন বিভাগের মতে ০.০৯ শতাংশ, যা জনবহুল বাংলাদেশের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু কাঠ ব্যবহারের পরিমাণ ২.৬৮ ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে কাঠের চাহিদার মাত্র ৪৮.৫ শতাংশ নিজস্ব বনভূমি থেকে পূরণ করা সম্ভব।

পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন

প্রখ্যাত পরিবেশবিজ্ঞানী মাইকেল মালিকফার ইস্টার্ন রিভিউতে একটি মানচিত্রের সাহায্যে দেখিয়েছেন যে আগামী শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক-দশমাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে।

সাম্প্রতিককালে একজন খ্যাতনামা পরিবেশবিজ্ঞানীর ভাষ্য, ক্রমাগত বৃক্ষ নিধনের ফলে ২০৩০ সালে এ দেশের ৮০০ থেকে ১০°সে. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের গড় তাপমাত্রা ৩৫০-৩৬° সে. বেড়ে ৪৫০-এ দাঁড়াবে।

কাজেই আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়নের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। বাংলাদেশের নামের সাথে যে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বা রূপসী বাংলা নাম জড়িয়ে আছে সে নামটিই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না যদি আমরা পরিবেশ সংরক্ষণে বা বনায়নে উদ্যোগী না হই। পরিবেশ বিপর্যয় রোধে তাই বনায়নের কোনো বিকল্প আমাদের কাছে নেই।

বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি

বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন গ্রামীণ জনপদে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সে সাথে সামাজিক বনায়ন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন উপশম ও অভিযোজনে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বন বিভাগ ষাটের দশকের শুরুর দিকে বন-সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বপ্রথম বনায়ন কর্মসূচি জনগণের কাছে নিয়ে যায়।

২০০০ সালে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমকে ১৯২৭ সালের বন আইনে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আইনি কাঠামোতে নিয়ে আসে। সামাজিক বনায়নকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ২০০৪ সালে সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করে এবং ২০১০ সালে সংশোধনী আনা হয়।


বন বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় এযাবৎ প্রায় ৪৪৪০৮ হেক্টর উডলট বাগান, ১০৬২৬ হেক্টর কৃষি বাগান, ৬১৭৩৯ কিলোমিটার স্ট্রিপ সৃজন করা হয়েছে। এছাড়া বিগত ৪ বছরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড আওতাভুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি,

স্বল্পমেয়াদি ও নন-ম্যানগ্রোভ ২১৫৫ হেক্টর ব্লক বনায়ন এবং সড়ক রেলপথ ও বাঁধ সংযোগ সড়কে ২৬৪১ কি.মি. স্ট্রিপ বনায়ন করা হয়েছে। সৃজিত বাগানে প্রায় ৫ লক্ষ উপকারভোগী সম্পৃক্ত আছে।

সারা দেশে ব্যাপক বনায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লক্ষ ৬৩ হাজার চারা বিক্রয় ও বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সরকারি রাজস্ব হয়েছে ২০৫ কোটি ৩৭লক্ষ ৮৪ হাজার ৮ শত ৭০ টাকা।

উপসংহার

দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি বিরাট পদক্ষেপ। বৃক্ষরোপণ অভিযান তথা বনায়ন সফল হলে দেশের হৃত গৌরবকে শস্য-শ্যামলিমার দেশ এই বাংলাকে আবার চিরসবুজ শ্যামল করা যাবে। তাই আমরা বনায়ন অভিযানের মাধ্যমে লাগাব বৃক্ষ-তাড়াব দুঃখ-দেশকে করব সমৃদ্ধ।

লেখকের মন্তব্য

আজেক আমারা আলোচনা করলাম বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা। এখনে আমরা আরো তুলে ধরেছি পরিবেশ সংরক্ষণ বনায়ন প্রবন্ধ রচনা এইচএসসির জন্য। তবে আপনি যদি আরো কোন রচনা চান তাহলে কমেন্ট জানানা।

বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা যদি ভালো লাগে বা আরো সহজ ভাবে চান তাহলে এখনি কমেন্ট জানান। এটি ভালো লাগলে এখনি আপনি আমার বন্ধুদের সাথে বা আপনি আপনার ফেসবুকে অথবা অন্য কোথাও শেয়ার করুন।

এই রকম আরো তথ্য পেতে ইভিভিটিভি ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন। আমরা এখানে বৃক্ষরোপণ অভিযান রচনা এসএসসি এবং এইচএসসি দুই ক্লাসের শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করেছি। করেছি তবে এই রচনাটি সকল ক্লাসের শিক্ষার্থীরাই ব্যবহার করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;

comment url