৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় - গালে ব্রণ দূর করার উপায়
মুখে ব্রণ উঠলে অনেকেরই ভালো লাগে না। তবে আপনার মুখে যদি ব্রণ থাকে এতে আপনার চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমি ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় নিয়ে আলেচনা করবো যা আপনার গালের ব্রণ দূর হতে পারে। গালের ব্রণ দূর করার জন্য নিয়মিত ভালোভাবে ত্বকের যত্ন নিন। গালে ব্রণ দূর করার উপায় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলটি।
গালে ব্রণ থাকলে সহজে দূর করা যায়, এর জন্য জানতে হবে সঠিক উপায়। আমি আপনাকে সম্ভাব্য ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় জানানোর চেষ্টা করব। আপনার মুখে ব্রণ থাকলে নিচের দেওয়ার উপায় আপনার জন্যই।
evvtv
৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়
মুখের ব্রণ কত দিনে রিমুভ হবে, বা কতদিনে ব্রণ দূর করা যাবে সেটি নির্ভর করে ত্বকের উপরে। সাধারণত ব্রণ দূর করার জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে সে সকল নিয়ম অনুসরণ করলেই খুব দ্রুতই ব্রণ দূর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
গাল থেকে ব্রণ দূর করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ত্বকের যত্ন নেওয়া। কেউ ত্বকের যন্ত কিভাবে নিচ্ছেন সেটার উপরেও নির্ভর করে ব্রণ দূর হওয়া। যখন কারো ব্রণ বের হয় অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েন। একটা দুটো ব্রণ হলেই অনেক সময় সেটাকে অনেকেই হাত দিয়ে অথবা অন্য যেকোনো কিছু দিয়ে তুলে ফেলার চেষ্টা করে থাকেন।
তবে এটা কখনো করা উচিত নয়। ব্রণ হলে কেউ যখন সেই ব্রণ তোলার চেষ্টা করেন তখন ব্রণ না কমে আরো বেশি হয়। নিচে অনেক কয়টি নিয়ম দেওয়া আছে তবে আপনি নিচ থেকে যেকোনো একটি ব্যবহার করে দেখবেন সবকিছু একেবারে করার চেষ্টা করবেন না এতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সম্ভাব্য ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় জানার সাথে ব্রণ দূর করার জন্য যেইগুলা ব্যবহার করা উচিত সেগুলো নিচে আরো বিস্তারিত দেওয়া হলো।
- নিম পাতা এবং হলুদ ব্যবহার
- লেবুর রস
- মধু ব্যবহার
- নারেকেল তেল
- অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার
- মধু ও অ্যালোভেরা মিশ্রণ
- বেকিং সোডা
- হলুদ ব্যবহার
- বরফের কিউব
- স্পট ক্রিম
- মাইল্ড ক্রিনজার
- অ্যাসপিরিন পেস্ট
- মধু ও দারুচিনি পেস্ট
- হলুদ ও দুধের পেস্ট
- হলুদ এবং টক দইয়ের
- লেবুর ও ডিম
আরো পড়ুন: লিভার রোগের লক্ষন ও প্রতিকার
উপরক্ত এই সমস্ত উপাদান ব্যবহার করে খুব সহজে দূর করা সম্ভব। উপারক্ত যেই কোন একটি পদ্ধতি ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় হতে পারে। তবে এই উপাদান গুলো ব্যবহার করা জানতে হবে। সঠিক উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে গালে ব্রণ কম থাকলে সহজেই ব্রণ দূর করা যাবে। ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় গুলোর মাধে এই উপায় গুলো অন্যতম। কোন উপাদান কিভাবে ব্যবহার করবেন কতক্ষণ কোন সময় ব্যবহার করবেন তার সমস্ত ডিটেইলস নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:
নিম এবং হলুদ ব্যবহারে ব্রণ দূর করার উপায়
৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় এর সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো নিম এবং হলুদ ব্যবহার। এই উপায় টা খুবই সহজ এবং এই উপায় অবলম্বন করতে আপনি কে অনেকেই পরামর্শ দিবেন। ব্রণ করার ক্ষেত্রে প্রায় অনেকেই এই উপায়টি অবলম্বন করে থাকেন। এই উপায়টি খুবই কার্যকরী হওয়ায় গ্রাম অঞ্চলে এবং শহর অঞ্চলে এটি বেশ প্রচলিত।
ব্যবহারবিধি: নিম পাতা বেটে নিন। বাটা হয়েগেলে নিম পাতা এবং হলুদ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ গালে নিম পাতা এবং হলুদ পেস্ট লাগিয়ে রাখুন হালকা করে। সর্বনিম্ন ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিটন লাগয়ে রাখুন। তবে মানে রাখা উচিত পুরোপুরি ভাবে শুকিয়ে যাওয়ার আগে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ঘুমানো উচিত। নিম পাতা এবং হলুদ পেস্ট লাগিয়ে কখনো ঘুমানো উচিত নয়। আশা করি আপনি নিম এবং হলুদ ব্যবহারে ব্রণ দূর করার উপায় সম্পর্কে পুরো বিষয় টা বুঝতে পেরেছেন।
ব্রণ দূরের জন্য লেবুর রস ব্যবহার
লেবুর ব্যবহার করে ব্রণ সহজে দূর করা যায়। অনেকেই এই বান্ধব টি অনুসরণ করে তাদের গ্রুপ কিছুটা হালকা করতে পেরেছে। ব্রণ দূরের জন্য লেবুর রস ব্যবহার একটি প্রাকৃতিক টিপস। লেবুতে প্রচুর পরিমাণ থাকা ভিটামিন-সি হকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে এর ফলে ব্রণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের উপরে যে মৃত কোষগুলি থাকে সেগুলোকে সরিয়ে নতুন গঠন করতে সাহায্য করে। এছাড়াও লেবুতে থাকা আলফা-হাইটেক অ্যাসিড ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। লেবুর রস ব্যবহার ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে আরো একটি সেরা উপায় হতে পারে।
যদি আপনি রোদের মধ্যে না বের হন তাহলে লেবুর রস আপনি তার ব্রণে বা আপনার দাগে লাগাতে পারেন। সরি দিনের বেলা লাগানো উচিত নয়। যদি ত্বক সংবেদনশীল হয় তাহলে যে পরিমাণ লেবুর রস থাকবে একই পরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা উত্তম। তাইলে প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে দুই তিনবার ব্যবহার করলেই হবে।
দ্রষ্টব্য: অনেকের ত্বকে যদি লেবুর রস লাগানো হয় তাহলে কিছুটা এনার্জির টাইপের লাল রঙের এলার্জির মতন থাকার ধারণ করে এমন অবস্থায় যে পরিমাণ লেবুর রস নিবেন ঠিক একই পরিমাণ পানি মেশাবেন। কেন প্রথমবার আপনি হালকে একটু টেস্ট করতে পারেন।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
- টাটকা লেবু কেটে রস বের করুন।
- রোদে যাবার পরিকল্পনা থাকলে কটন দিয়ে হালকা করে ব্রণের ওপর লাগিয়ে দিন। অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে লাগান।
- সংবেদনশীল ত্বকের জন্য পানি লেবুর জল অথবা মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
- ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- সপ্তাহে ৩ থেকে ৩ ব্যবহার করলেই ফলাফল দ্রুতই পাওয়া যায়।
- লেবু ফেস মাস্ক ( অপশনাল বাট কার্যকরী )
সতর্কতা (অত্যন্ত জরুরী)
- লেবু দিনের বেলা লাগানো উচিত নয়। রোদে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে না লাগানোই উত্তম।
- সন্ধ্যা বা রাতে ব্যবহার করুন।
- প্রথমবার হাতে ছোট্ট একটি প্যাচ টেস্ট করুন।
- অতিরিক্ত জ্বালাপোড়া করলে ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
- এই ছিল লেবুর রস দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়। এটি মূলত ব্রণ দূর করার একটি প্রাকৃতিক উপায়। আপনি যদি এর আগে অনেক উপায় অবলম্বন করে থাকেন তাহলে এই উপায়টি অবলম্বন করুন দেখবেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ব্রণ হালকা হতে শুরু করেছে।
মধু ব্যবহার করে ব্রণ দূর করুন
মধুর একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। ৭ দিনে ব্রণ দূর করার জন্য এটি একটি সহজ উপায়। আরে এই মধুতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল থেকে পরিষ্কার করে।এবং এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ত্বকের মধ্যে লাগছে দাগ এবং ফোলা ভাব দূর করে।
ব্যবহার করার নিয়ম
ব্রণ দূর করার জন্য সঠিকভাবে মধু ব্যবহার করতে হবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে আপনি কোন ফলাফল পাবেন না এতে আপনার ত্বকের বরঞ্চ আরো ক্ষতি হবে। যেভাবে মধু ব্যবহার করে দূর করা তা হলো:
- প্রথমত মুখ সাবান অথবা ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
- খাঁটি ( কাঁচা বা অর্গানিক ) মধু সামান্য পরিমাণ নিয়ে ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিন।
- ২৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।
- কুসম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- সাপ্তাহে ৩ - ৪ বার লাগালেই ভালো ফলাফল পেতে পারেন।
অতিরিক্ত টিপস - ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়
সংবেদনশীল ত্বক হলে আগে হাতে বা অন্য কোথাও সমান্য পরিমাণ লাাগিয়ে চেক করুন।
মধুর সাথে লেবুর রস বা দারুচিনি মেশিনের আগে সতর্ক হয়ে নেন কারণ এতে ত্বকে জ্বালা হতে পারে।
নিয়মিত সঠিক নিয়ম ব্যবহার করে ব্যবহার করলে খুব সহজেই ব্রণ দূর হতে পারে।
নারকেল তেল ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার উপায়
নারকেলের মধ্যে এমন সব উৎপাদন আছে যে উৎপাদন গুলো ত্বকের ক্ষতিকর জীবাণু/ভাইরাস থেকে রক্ষা করে।মুখে যদি অল্প ব্রণ থাকে তাহলে আপনি নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। নারিকেল তেল ছোটখাটো ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে। শুধু নারকেল তেল দিলেই হয় না এটি সঠিক ব্যবহার জানতে হয়।
আবার সব নারিকেল তেল ব্যবহার করলে কিন্তু আপনার ব্রণ কখনোই কমবে না। ব্রণপ্রবণ বা তৈলাক্ত ত্বকে নারকেল তেল ব্যবহার করলেও কাজ নাও হতে পারে। ব্যবহার করলে প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনি প্রথমবার ব্যবহার করেন তাহলে ত্বকের ছোট অংশে টেস্ট করতে পারেন।
নারিকেল তেল ব্যবহারবিধি
- ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং শুকিয়ে নিন।
- খাঁটি ভার্জিন তেল আঙ্গুলে নিয়ে অল্প পরিমাণ ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিন।
- ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অথবা সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
- সপ্তাহে তিন থেকে চারবার লাগালে ভালো ফলাফল পেতে পারেন।
অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার
৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে অ্যালোভেরা জেল অন্যতম হতে পারে। অ্যালোভেরা জেল একটি প্রাকৃতিক উপাদান আর এটির ত্বকের জন্য খুবই ভালো। এতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ইন ফরমেটরি গুণ রয়েছে, যা ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে এবং লালচে ভাব থেকে শুরু করে ফোলা ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি আপনি যখন এই অ্যালোভেরা লাগাবেন তখন এই কিছুটা ঠান্ডা অনুভব করবেন।
আরো পড়ুন: অল্প বয়সী ছেলেদের চুল পড়ার কারণ কি
অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করার সময় অবশ্যই প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন বা ধুয়ে নিবেন এরপর মুখ শুকিয়ে নিবেন। টাটকা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করুন অথবা খাঁটি এলোভেরা জেল ব্যবহার করুন। আঙ্গুলের সাহায্যে ব্রণ আক্রান্ত স্থানে বা পুরো মুখে হালকা করে লাগান। 20 থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এরপর ধুয়ে ফেলুন। অথবা রাতে লাগিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুতে পারেন। প্রতিদিন একবার বা সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করা যায়।
আপনি কখনোই দোকান থেকে অ্যালোভেরা জেল কিনে বা অন্য কোথাও থেকে কেমিক্যালযুক্ত জেল ব্যবহার করবেন না। যদি ক্যামিক্যাল যুক্ত জেল ব্যবহার করেন তাহলে ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় কাজ নাও করতে পারে। এটি ব্যবহার না করাই ভালো। সব সময় চেষ্টা করবেন খাটি আলভেরা জেল বেছে নেওয়ার। সব সময় মনে রাখবেন সংবেদনশীল তাকে প্রথমেই ত্বকের অল্প অংশে টেস্ট করে নিবেন।
আপনি নিয়মিত ব্যবহার করলেই অ্যালোভেরা জেল কমাতে সাহায্য করবে। ত্বকের মধ্যে দাগ দূর করতে এবং ত্বকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।
মধু ও অ্যালোভেরা মিশ্রণ ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার উপায়
মধু এবং অ্যালোভেরা দুটি প্রাকৃতিক উপাদান আর এই দুইটি ব্যবহার করলে খুব সহজেই ব্রণ হতে পারে। ত্বকের মধ্যে জীবাণু নষ্ট করে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল শুধু বন্ধুর করে না এটি ত্বকের লালচে ভাব এবং ফোলা ভাব ও কমায়। মুখে যদি একটু বেশি বা মাঝারি টাইপের ব্রণ থাকে তাহলে এটি আপনার জন্য কার্যকরী উপায় হতে পারে।
মধু ও অ্যালোভেরা মিশ্রণ ব্যবহারের উপায়
মধু ও অ্যালোভেরা মিশ্রণ ব্যবহারের উপায় না জানলে ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় জানাটা আপনার জন্য বৃথা হয়ে যাবে। কারণ আপনি যদি কোন জিনিস সঠিকভাবে ব্যবহার না করেন সেটি কখনোই কাজে আসবে না। মধু ও অ্যালোভেরা মিশ্রণ ব্যবহারের উপায় হল:
- প্রথমে এক চা চামচ খাঁটি মধু নিন এবং এক চা চামচ খাঁটি অ্যালোভেরা জেল নিন এবং দুটি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। দুইটি ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ প্যাক তৈরি করুন। খুব ভালোভাবে ধুয়ে চুকিয়ে নিন। এরপর মধু ও অ্যালোভেরা জেল প্যাকটি অল্প পরিমাণ ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগান এবং 15 থেকে 20 মিনিট রেখে দিন। এরপরে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
- আপনি সপ্তাহে তিন থেকে চারবার লাগালেই ভালো ফলাফল পেতে পারেন। অবশ্যই সংবেদনশীল ত্বকে প্রথমেই ত্বকের ছোট অংশে টেস্ট করে নিন।
- নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ও মধু ব্যবহারে ত্বকের দাগ বা ব্রোণ কমাতে সাহায্য করবে।
বেকিং সোডা ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার উপায়
বেকিং সোডা ব্যবহারের ফলে ত্বকের মধ্যে থাকা তেল ও মৃত কোষ দূর করে। ফলে রোমকূপ পরিষ্কার হয়। তবে এটি ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকতে হবে কারণ এটি খুবই শক্তিশালী একটি উপাদান, যদি এটি ভুল ভাবে ব্যবহার করা হয় তাহলে এটি ত্বকের অনেক ক্ষতি করবে। তাই এটি খুবই অল্প পরিমাণে এবং সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। এটি ব্যবহার করার আগে যদি এটির বিশেষজ্ঞ কেউ থাকে তাহলে তার সঙ্গে আমি পরামর্শ করে নিতে পারেন।
আরো পড়ুন: হার্টের সমস্যা বোঝার উপায়
বেকিং সোডা ব্যবহারের উপায়
৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় এর মধ্যে এটি একটি অন্যতম উপায় হতে পারে ব্রণ দূর করার। ১ চা চামচ চামচ বেকিং সোডার সাথে কয়েক ফোঁটা পানি মিশিয়ে হালকা পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুধুমাত্র ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগান।
৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি রাখবেন না। এবং সবশেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। আপনি পরবর্তীতে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তবে সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।
গুরুত্বপূর্ণ সর্তকতা - ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়
- সংবেদনশীল, শুষ্ক খুবই ব্রণপ্রবণ ত্বকে বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না।
- আপনি যদি প্রথমবার এটি ব্যবহার করেন তাহলে প্রথমেই টেস্ট করার জন্য অল্প পরিমাণে অল্প একটি স্থানে লাগাবেন।
- ত্বকে যদি জ্বালা ভালো আছে ভাব হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
- হলুদ ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার উপায়
- হলুদের মধ্যে থাকে আন্টিব্যাকটেরিয়াল ও আন্টি-ইনফ্ল্যামেটারি যেটা সহজেই ব্রণের জীবাণু নষ্ট করে এবং ফোলা ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হলুদ ত্বক পরিষ্কার রাখতে ও দাগ হালকা করতে সহায়ক।
হলুদ ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার উপায়
হলুদ ব্যবহার করে ব্রণ দূর করা সম্ভব তবে এর কিছু নিয়ম রয়েছে শুধু হলুদ ব্যবহার করলেই ব্রণ নাও দূর হতে পারে। হলুদ ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার জন্য হলুদ ও মধুর প্যাক ব্যবহার করুন প্রথম অবস্থায়। এক থেকে দেড় চা চামচ হলুদ নিন এক চা চামচ খাঁটি মধু নিন দুটো মিশিয়ে ব্রণের জায়গায় লাগান। এরপর 15 থেকে 20 মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন সপ্তাহে আপনি দুই তিনবার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়।
হলুদ ও দই: আমি আপনাকে প্রথমেই বলেছি শুধুমাত্র হলুদ ব্যবহার করলে আপনার ব্রণ নাও দূর হতে পারে। এই জন্য আরো পদ্ধতি হলো হলুদ ও দই ব্যবহার। আপনি অবশ্যই একটি একটি করে চেষ্টা করবেন কখনোই সবগুলো একবারে চেষ্টা করবেন না এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
হলুদ ও ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার জন্য এক থেকে দেড় চা চামচ হলুদ নিন। এবং এক চা চামচ টক দই, দুটো ভালোভাবে মিশিয়ে আপনার ব্রণের জায়গায় লাগান এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করা উচিত।
হলুদ ও অ্যালোভেরা জেল: ব্রণ অনেকটাই কমতে পারে হলুদ ও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে। হলুদ ও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে দূর করার জন্য প্রথমে সামান্য হলুদ নিন, এবং এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালো করে হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে নিন।
আপনার তখন যদি খুবই পাতলা এবং নরম হয় এবং কোন কিছু লাগালে আপনার গাল লাল বা ফোলা ফোলা ভাব হয়ে যায় তাহলে এটি আপনার জন্য উপযুক্ত। রাতে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর এটি ধুয়ে ফেলুন। এই ছিল হলুদ ব্যবহার করে ব্রণ দূর করার উপায়। তবে এটির জন্য আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা - ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়
হলুদ বেশি দিলে ত্বক হলুদ হয়ে যেতে পারে তাই অবশ্যই কম হলুদ ব্যবহার করুন। প্রথম বার ব্যবহার করলে আগে সামান্য পরিমাণ ত্বকের অন্য স্থানে যেমন হাতে লাগিয়ে চেক করুন। যে আপনার জন্য এটি ক্ষতিকারক কিনা। অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। খুব বেশি যুক্ত ব্রণ হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তবে উপরোক্ত যে নিয়ম গুলো দেওয়া হয়েছে এই নিয়মগুলো বিভিন্ন ত্বকের ধরনের উপর নির্ভর করে কাজ করে। এই জন্য এগুলো ব্যবহার করার আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বরফের কিউট দিয়ে ব্রণ কমানোর উপায়
৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি আরেক টি অন্যতম উপায়। ত্বকে যদি লালচে ভাব থাকে অথবা ফোলা ফোলা ভাব থাকে অথবা যদি তোকে ব্যথা করে তাহলে বরফের কিউব ব্যথা কমাতে এবং ত্বকের লালচে ভাব কমাতে ফোলা ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। বরফের কিউব ব্যবহারের ফলে ব্রণ অনেকটাই কমে যেতে পারে।
আরো পড়ুন: এজমা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার উপায়
ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্রণ দূর করার কিছু বড় উপায় যদি আপনার জেনে রাখেন তাহলে আপনার যে কাউকে পরামর্শ দিতে পারবেন অথবা আপনার যদি ব্রণ এটির মধ্যে থাকে তাহলে আপনি আপনার ব্রণগুলো ঘোড়া উপায়ে দূর করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে কারো পরামর্শ বা কারো হেল্প নিতে হচ্ছে না।
তবে আপনার মুখে যদি অতিরিক্ত ব্রণ থাকে আপনার তাকে কোন কিছু দিলেই সহজেই সেখানে চুলকাতে শুরু করে যাচ্ছে শুরু হয় সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডক্টরের পরামর্শ নিবেন। আবারো একটা কথা সেটি না বললেই নয় আপনার যদি মুখে ব্রণ বেশি থাকে তাহলে আপনার ডক্টরের সাথে পরামর্শ করে এগুলো ব্যবহার করা উচিত। ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- সম্পট ক্রিম: ব্রণ হলে ব্রণের জায়গায় স্পট ক্রিম লাগাতে হবে। সম্পট ক্রিম লাগালে অনেক সময় সহজে লালচে ভাব কমে যায় আর ব্রণ কমতে শুরু করে। দিনে ১ বার পরিষ্কার মুখে ব্যবহার করা উচিত। তবে এই ক্রিম কখন বেশি করে দিনে কয়েক বার লাগাবেন না। আপনি যদি আপনার ত্বাক সব সময় পরিষ্কার রাখে স্পট ক্রিম ব্যবহার করেন তাহলে সহজে মুখ থেকে ব্রণ দূর করা সম্ভব।
- মাইল্ড ক্লিজার : মুখ পরিষ্কার রাখা ব্রণ দূর করার অন্যতম একটি সেরা উপায়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে দিনে ২ বার পরিষ্কার করতে হবে। এটা ব্যবহার করলে ত্বকের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর হয়।
- অ্যাসপিরিন পেস্ট: ১-২টি অ্যাসপিরিন ঘোরা করে অল্প পানি মিশিয়ে পেস্ট বানান। এরপর ব্রণের উপরে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহার করলে ব্রণের মধ্যে ফলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি সপ্তাহে ১ থেকে সর্বোচ্চ ২ বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।
- মধু ও দারুচিনি পেস্ট: একটা চামচ মধুর সঙ্গে অল্প দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে ব্রণের জায়গায় লাগান। 10 থেকে 15 মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে। মধু ও দারুচিতে আন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন আছে যা ব্রণ কমাতে সহায়তা করে। এক সপ্তাহে এটি সর্বোচ্চ দুইবার ব্যবহার করা যায়।
- হলুদ ও মধুর পেস্ট: হলুদের সঙ্গে কাঁচা মধু মিশে পাতলা পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণের জায়গায় দশ মিনিট লাগিয়ে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ইনফেকশন কমাই এবং দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার যথেষ্ট।
- হলুদ ও টক দইয়ের পেস্ট: হলুদ ও টক দই একসঙ্গে মিশে ব্রণের উপরে লাগিয়ে দিন। দশ থেকে পনের মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে এবং ব্রোন কমাতে সহায়ক।
- লেবু ও ডিমের ব্যবহার: ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে যায়গায় অল্প করে লাগিয়ে দিন। এরপরে পাঁচ থেকে সাত মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক টানটান করে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তবে আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় মানে সহজেই অ্যালার্জি হয় সহজেই ফোলা ফোলা ভাব হয় বা সহজেই লালচে ভাব হয়ে যায় তাহলে এটি না ব্যবহার করাই ভালো। এজন্য ব্যবহার করার আগে আপনার ত্বকের অন্য স্থানে ভালোভাবে চেক করে নিবেন।
গালে ব্রণ দূর করার উপায়
আমরা উপরে অনেক উপায়ে এর কথা বলেছি যেগুলো ৭ দিনের ব্রণ দূর করার উপায় তবে এই উপায়গুলো সব সময় কাজ নাও করতে পারে আপনার ত্বক অনুযায়ী। তাই আপনি যদি আপনার গালেরে ব্রণ দূর করতেই চান তাহলে আপনি প্রথমতো একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
তবে আপনি যদি একজন ছেলে হয়ে থাকেন আর আপনার মুখে যদি অতিরিক্ত ব্রণ থাকে সাথে যদি আপনার মুখে গোঁফ থাকে আর আপনি যদি অতিরিক্ত সেভ করেন। মানে আপনি আপনার দাড়িগুলো ছোট করেন ব্লেড দিয়ে তাহলে সেক্ষেত্রে আরোগ্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে আপনি আপনার ব্রণ দূর করার সময় কখনোই আপনি ব্লেড দিয়ে দাড়ি কামানোর চেষ্টা করবেন না অবশ্যই মেশিন দিয়ে অল্প করে খাটো করে নিবেন।
আরো পড়ুন: নিজেকে পরিবর্তন করার উপায়
তবে আমার জানামতে দূর করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখা। কোন ধরনের কেমিক্যাল ইউজ না করা। বা অন্য কোন কিছু ইউজ না করা এতে আপনার ভালো থাকবে আস্তে আস্তে ব্রণ কমতে শুরু করবে। তবে এটি লম্বা প্রসেস হলেও ব্রণ দূর করার সবচেয়ে ভালো একটি পদ্ধতি।
লেখকের মন্তব্য - ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়
আমরা উপরে আলোচনা করেছি ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় - গালে দূর করার উপায়। তবে আমরা উপরে যে সমস্ত উপায় অবলম্বন করেছি যে সমস্ত উভয়ের কথা বলেছি এগুলো ব্যবহার করার আগে আপনার সতর্ক হয়ে নেওয়া উচিত। এগুলো ব্যবহার করার আগে আপনি প্রথমে টেস্ট করে নিবেন আপনার ত্বকে একটি ব্যবহার করা যাবে কিনা।
আপনি প্রথম অবস্থায় একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা - ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় এগুলো অবশ্যই পড়ে নিবেন এবং এগুলো ভালোভাবে দেখে নিবেন। সমস্ত নিয়ম ভালোভাবে না জেনে কখনোই এগুলো ব্যবহার করার উচিত নয়। তাই ব্যববাহর করার আগে অবশ্যয় নিয়ম গুলো ভালোভাবে দেখে নিবেন।




ইভিভিটিভি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়;
comment url